পরিবার নিয়ে ঘুরতে গেলে অনেকের প্রথম চিন্তা থাকে খরচ নিয়ে। তবে দূরের দামি রিসোর্টে না গিয়ে দেশের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র বেছে নিলে তুলনামূলক কম বাজেটেই কয়েক দিনের ভ্রমণ করা সম্ভব। বিশেষ করে গণপরিবহন, সাধারণ মানের আবাসন এবং স্থানীয় খাবার বেছে নিলে পরিবারের ভ্রমণ ব্যয় আরও নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।
বাংলাদেশ পর্যটন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সমুদ্রসৈকত, পাহাড়, বন, নদী ও ঐতিহাসিক স্থাপনা ঘিরে নানা পর্যটন আকর্ষণ রয়েছে। পরিবারের সদস্যদের বয়স ও আগ্রহ অনুযায়ী এসব জায়গার যেকোনোটি বেছে নেওয়া যেতে পারে।
১. সোনারগাঁ–পানাম নগর: ঢাকার কাছাকাছি হওয়ায় কম বাজেটের পারিবারিক ভ্রমণের জন্য সোনারগাঁ ভালো বিকল্প। পানাম নগরের ঐতিহাসিক স্থাপনা দেখার পাশাপাশি সোনারগাঁয়ের অন্যান্য দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখা যায়।
ঢাকা থেকে সড়কপথে যাতায়াত করা যায় এবং পর্যটন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী মোগড়াপাড়া থেকে স্থানীয় পরিবহনে পানাম নগরে যাওয়া সম্ভব।
২. কুয়াকাটা: সমুদ্র দেখতে চান, কিন্তু কক্সবাজারের তুলনায় ভিন্ন পরিবেশে যেতে চান তাহলে কুয়াকাটা হতে পারে পরিবারের জন্য ভালো একটি গন্তব্য। কুয়াকাটার প্রায় ১৮ কিলোমিটার দীর্ঘ সৈকত থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখার সুযোগ রয়েছে।
ঢাকা থেকে বাসে সরাসরি কুয়াকাটা যাওয়া যায়। সৈকতের পাশাপাশি ঝাউবন, ফাতরার চর ও মিশ্রিপাড়া বৌদ্ধ মন্দিরও ঘুরে দেখা যায়।
৩. শ্রীমঙ্গল: চা-বাগান, সবুজ প্রকৃতি ও শান্ত পরিবেশের কারণে পরিবারের সঙ্গে কয়েক দিনের ভ্রমণে শ্রীমঙ্গল জনপ্রিয়। বাংলাদেশ পর্যটন বোর্ডের তালিকায় শ্রীমঙ্গলের চা-বাগান, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানসহ একাধিক আকর্ষণ রয়েছে।
পরিবারের সদস্যদের জন্য প্রকৃতি দেখা ও আরাম করে সময় কাটানোর সুযোগ থাকায় এটি তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক স্পট।
৪. সিলেট: ঝরনা, চা-বাগান, নদী ও সবুজ পাহাড় সব মিলিয়ে সিলেট পরিবার নিয়ে ঘোরার জন্য বৈচিত্র্যময় একটি স্থান। জাফলং, বিছানাকান্দি, লালাখাল ও রাতারগুলসহ বেশ কয়েকটি দর্শনীয় স্থান একসঙ্গে ভ্রমণের সুযোগ রয়েছে।
বাজেট কম রাখতে শহরের বাইরে দামি রিসোর্টের বদলে সাধারণ হোটেল এবং স্থানীয় পরিবহন ব্যবহার করা যেতে পারে।
৫. রাঙামাটি: পাহাড় ও কাপ্তাই হ্রদের সৌন্দর্য উপভোগ করতে চাইলে রাঙামাটি হতে পারে পরিবারের জন্য ভালো বিকল্প। নৌভ্রমণ, পাহাড়ি প্রকৃতি ও স্থানীয় সংস্কৃতি এক ভ্রমণেই কয়েক ধরনের অভিজ্ঞতা পাওয়া যায়।
তবে পরিবারে শিশু বা বয়স্ক সদস্য থাকলে নৌভ্রমণ ও পাহাড়ি এলাকায় চলাচলের ক্ষেত্রে নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।
৬. বান্দরবান: পাহাড়ি প্রকৃতি দেখতে চাইলে বান্দরবানও তালিকায় রাখা যায়। পরিবারে সবাই পাহাড়ে হাঁটতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করলে স্থানীয়ভাবে পরিকল্পনা করে কম বাজেটেও ভ্রমণ করা সম্ভব।
তবে দুর্গম পাহাড়ি স্পটে যাওয়ার আগে স্থানীয় পরিস্থিতি, রাস্তার অবস্থা ও পর্যটনসংক্রান্ত নির্দেশনা জেনে নেওয়া জরুরি।
৭. কক্সবাজার: সমুদ্রসৈকত, খাবার ও শহরের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান সব মিলিয়ে পরিবার নিয়ে ভ্রমণের জন্য কক্সবাজারের বিকল্প কম। খরচ কমাতে বিলাসবহুল হোটেলের পরিবর্তে মাঝারি মানের আবাসন এবং আগে থেকে যাতায়াতের টিকিট পরিকল্পনা করা যেতে পারে।
পরিবারের সদস্যদের বয়স অনুযায়ী সৈকতে সময় কাটানোর পাশাপাশি আশপাশের দর্শনীয় স্থানও ভ্রমণসূচিতে রাখা যায়।
৮. মহাস্থানগড়: ইতিহাসপ্রেমী পরিবারের জন্য বগুড়ার মহাস্থানগড় হতে পারে কম খরচের একটি ভালো গন্তব্য। প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন দেখার পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের স্থানীয় খাবার ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ রয়েছে।
বাংলাদেশ পর্যটন বোর্ডের পর্যটন আকর্ষণের তালিকাতেও মহাস্থানগড় অন্যতম ঐতিহাসিক গন্তব্য হিসেবে রয়েছে।
৯. সোনাকাটা ইকোপার্ক: কুয়াকাটার কাছাকাছি সোনাকাটা ইকোপার্ক পরিবার নিয়ে প্রকৃতির মধ্যে সময় কাটানোর জন্য আরেকটি বিকল্প। এখানে সবুজ পরিবেশ, জলাশয়, হাঁটার পথ ও পিকনিকের সুযোগ রয়েছে।
সমুদ্রসৈকতের পাশাপাশি শান্ত পরিবেশে সময় কাটাতে চাইলে জায়গাটি ভ্রমণসূচিতে রাখা যেতে পারে।
১০. রাজশাহী: পরিবার নিয়ে তুলনামূলক শান্ত পরিবেশে ঘুরতে চাইলে রাজশাহীও ভালো বিকল্প। শহর ও আশপাশে ঐতিহাসিক স্থাপনা, নদীর পাড় এবং বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখা যায়।
ঢাকা থেকে সড়ক ও রেলপথে যাতায়াতের সুযোগ থাকায় ভ্রমণ পরিকল্পনা অনুযায়ী পরিবহন খরচ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ পর্যটন বোর্ড ও সংশ্লিষ্ট সরকারি পর্যটন তথ্য








