শিশুকে সঙ্গে নিয়ে বিমানে ভ্রমণ অনেক অভিভাবকের কাছেই বাড়তি দুশ্চিন্তার বিষয়। বিশেষ করে প্রথমবার উড়োজাহাজে উঠলে শিশুর কান ব্যথা, অস্বস্তি, খাওয়ানো কিংবা প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে নানা প্রশ্ন থাকে। তবে আগেভাগে কিছু প্রস্তুতি নিলে আকাশপথের যাত্রা হতে পারে অনেকটাই স্বস্তিদায়ক।
একেবারে ছোট শিশুকে নিয়ে ভ্রমণের আগে ভাবুন
বিমানে শিশুকে নেওয়ার ক্ষেত্রে সব এয়ারলাইনের নিয়ম এক নয়। তাই টিকিট কাটার আগে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনের বয়সসংক্রান্ত নীতিমালা জেনে নেওয়া জরুরি। একেবারে নবজাতক হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াও ভালো। শিশুর বয়স যত কম, সংক্রমণ ও পরিবেশ পরিবর্তনের বিষয়টিও তত বেশি গুরুত্ব দিয়ে ভাবতে হবে।
আগে থেকেই জেনে নিন ব্যাসিনেটের সুবিধা আছে কি না
দীর্ঘ ফ্লাইটে কোলে শিশুকে নিয়ে পুরো সময় বসে থাকা অভিভাবকের জন্য বেশ কষ্টকর হতে পারে। কিছু এয়ারলাইন নির্দিষ্ট বয়স ও ওজনের শিশুর জন্য ব্যাসিনেট বা শিশুর শোয়ার ব্যবস্থা দেয়। তবে আসনসংখ্যা সীমিত থাকতে পারে এবং অনেক ক্ষেত্রে যাত্রার আগেই এটি বুক করতে হয়। তাই টিকিট নিশ্চিত করার পরই এ বিষয়ে এয়ারলাইনের সঙ্গে যোগাযোগ করা ভালো।
আসন বাছাইয়েও সতর্কতা দরকার
শিশুকে নিয়ে ভ্রমণের সময় কোন আসন সবচেয়ে উপযুক্ত, তা নির্ভর করে শিশুর বয়স ও বিমানের ধরনসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর। জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত বের হওয়ার জন্য নির্ধারিত আসনগুলোতে শিশুকে বসানো যায় না। এয়ারলাইনের এই নিয়ম অবশ্যই মানতে হবে। একই সঙ্গে গরম পানীয়, খাবার বা চলাচলের জায়গার কাছাকাছি আসনে শিশুকে রাখার ঝুঁকি বিবেচনা করুন।
খাবার ও দুধের প্রস্তুতি রাখুন
শিশুর খাবার, ফর্মুলা কিংবা দুধ খাওয়ানোর প্রয়োজন হলে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা তল্লাশির নিয়ম আগে জেনে নিন। শিশুর প্রয়োজনীয় তরল বা খাবার বহনের ক্ষেত্রে বিশেষ বিধান থাকতে পারে, তবে নিরাপত্তাকর্মীদের কাছে সেগুলো আলাদাভাবে দেখাতে হতে পারে। প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো হাতব্যাগে সহজে বের করা যায় এমনভাবে রাখুন।
উড্ডয়ন ও অবতরণের সময় শিশুর দিকে নজর রাখুন
বিমান ওঠা বা নামার সময় কেবিনের বায়ুচাপ পরিবর্তনের কারণে শিশুর কানে অস্বস্তি হতে পারে। এ সময় বয়স অনুযায়ী বুকের দুধ, বোতল বা চুষনি ব্যবহার করলে গিলতে সাহায্য হয় এবং কানের চাপ সামলাতে সুবিধা হতে পারে। শিশু অস্বস্তি প্রকাশ করছে কি না, খেয়াল রাখুন।
পোশাক হোক আরামদায়ক
বিমানের ভেতরের তাপমাত্রা ও পরিবেশে শিশুর অস্বস্তি হতে পারে। তাই সহজ, ঢিলেঢালা ও আরামদায়ক পোশাক পরানো ভালো। হাতব্যাগে অতিরিক্ত পোশাক, ডায়াপার, ওয়েট ওয়াইপস ও প্রয়োজনীয় পরিচ্ছন্নতার সামগ্রী রাখুন। যাত্রার মাঝপথে পোশাক নোংরা হলে যাতে দ্রুত বদলানো যায়, সে প্রস্তুতি থাকা দরকার।
শব্দ ও আলো নিয়ে সতর্ক থাকুন
বিমানের ইঞ্জিনের শব্দ বা উড্ডয়নের সময় আকস্মিক আওয়াজে ছোট শিশু ভয় পেতে পারে। শিশুর বয়স অনুযায়ী নিরাপদ ও আরামদায়ক নয়েজ-রিডিউসিং হেডফোন ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে শিশুর কানে নিজে থেকে তুলো গুঁজে দেওয়ার মতো পদ্ধতি ব্যবহার না করাই ভালো।
শিশুকে ব্যস্ত রাখুন
দীর্ঘ সময় এক জায়গায় বসে থাকা শিশুর জন্য বিরক্তিকর হতে পারে। বয়স অনুযায়ী পরিচিত খেলনা, ছবির বই বা পছন্দের অন্য কোনো নিরাপদ বিনোদনের ব্যবস্থা রাখুন। স্ক্রিন ব্যবহার করলে শিশুর বয়স ও অভ্যাস বিবেচনা করে সীমিত সময়ের জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে।
জরুরি জিনিস আলাদা ব্যাগে রাখুন
শিশুর প্রয়োজনীয় সামগ্রী লাগেজে দিয়ে দূরে না রেখে হাতের কাছে রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ। ডায়াপার, অতিরিক্ত পোশাক, খাবার, বোতল, ওয়াইপস, প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং শিশুর পরিচিত কোনো ছোট খেলনা সবকিছু একটি সহজে বহনযোগ্য ব্যাগে গুছিয়ে নিন।
কাগজপত্র ভুলবেন না
ভ্রমণের ধরন অনুযায়ী শিশুর পরিচয় ও বয়সের প্রমাণ প্রয়োজন হতে পারে। দেশের ভেতরে ভ্রমণের ক্ষেত্রে এয়ারলাইনের নিয়ম আগে দেখে নিন এবং প্রয়োজনে জন্মনিবন্ধন বা বয়সের প্রমাণের কপি সঙ্গে রাখুন। আন্তর্জাতিক ভ্রমণে শিশুর নিজস্ব পাসপোর্ট ও প্রয়োজনীয় ভ্রমণ নথি অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে।
শিশুকে নিয়ে বিমান ভ্রমণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আগাম প্রস্তুতি। টিকিট কাটার আগে এয়ারলাইনের শিশু-সংক্রান্ত নিয়ম জেনে নেওয়া, প্রয়োজনীয় সামগ্রী হাতের কাছে রাখা এবং উড্ডয়ন ও অবতরণের সময় শিশুর প্রতি বাড়তি নজর রাখলে যাত্রা অনেকটাই সহজ হয়ে যায়।
শিশুর বয়স খুব কম হলে বা তার কোনও বিশেষ শারীরিক সমস্যা থাকলে ভ্রমণের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ সিদ্ধান্ত।









