পাহাড়ে বেড়াতে যাওয়ার কথা উঠলেই শিমলা, মানালি, মুসৌরি কিংবা নৈনিতালের মতো জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রগুলোর নাম সামনে আসে। তবে ব্যস্ত মৌসুমে এসব জায়গায় পর্যটকদের ভিড় অনেকটাই বেড়ে যায়। তাই কোলাহল এড়িয়ে পাহাড়ের নিরিবিলি পরিবেশে কিছুটা সময় কাটাতে চাইলে অপেক্ষাকৃত শান্ত কোনও স্থান হতে পারে আপনার পছন্দ।
হিমাচল প্রদেশের তেমনই এক মনোরম পাহাড়ি গন্তব্য ফাগু। শিমলা থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই ছোট্ট পাহাড়ি জনপদটি আপেলবাগান, দেবদারু বন, কুয়াশায় ঢাকা পাহাড় আর মনোরম প্রাকৃতিক দৃশ্যের জন্য পরিচিত। শিমলার ব্যস্ততা থেকে দূরে প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটাতে চাইলে ফাগু হতে পারে আদর্শ ঠিকানা।
কেন যাবেন ফাগুতে?
হিমাচল প্রদেশের পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত ফাগু তার শান্ত পরিবেশ, নির্মল পাহাড়ি বাতাস ও চারপাশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য পর্যটকদের আকর্ষণ করে। বছরের বিভিন্ন সময়ে এখানকার পাহাড়ি এলাকা কুয়াশায় ঢেকে থাকে। স্থানীয়ভাবে প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, এই কুয়াশার সঙ্গে ‘ফাগু’ নামটির সম্পর্ক রয়েছে।
সবুজে ঘেরা আপেলবাগান আর সারি সারি দেবদারু গাছ ফাগুর সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। শিমলা বা কুফরির তুলনায় অপেক্ষাকৃত শান্ত পরিবেশ হওয়ায় প্রকৃতিপ্রেমী, পাহাড়ে হাঁটতে ভালোবাসেন এমন ভ্রমণকারী কিংবা নিরিবিলি সময় কাটাতে চান এমন পর্যটকদের কাছে জায়গাটি আকর্ষণীয়।
আপেলবাগানের সৌন্দর্যে আলাদা ফাগু
হিমাচল প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় আপেলের চাষ হলেও বিস্তীর্ণ আপেলবাগানের জন্য ফাগু বিশেষভাবে পরিচিত। পাহাড়ের ঢালে ধাপে ধাপে গড়ে ওঠা আলুর খেতও এখানকার দৃশ্যপটে যোগ করেছে বৈচিত্র্য।
এপ্রিল ও মে মাসে আপেলগাছে ফুল ফুটলে বাগানজুড়ে দেখা যায় গোলাপি ও সাদা ফুলের সমারোহ। অন্যদিকে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে গাছে পাকতে শুরু করে আপেল। এ সময় পাহাড়ের ঢালে সারি সারি আপেলগাছের দৃশ্য ভ্রমণকারীদের মুগ্ধ করতে পারে।
পর্যটকেরা বাগানের আশপাশে ঘুরে স্থানীয় কৃষিকাজ সম্পর্কে জানতে পারেন। তবে ব্যক্তিগত বা বাণিজ্যিক বাগানে প্রবেশের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা মালিকের অনুমতি নেওয়া জরুরি।
ফাগুর দর্শনীয় স্থান
বান্থিয়া দেবতা মন্দির: ফাগুর উল্লেখযোগ্য ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক স্থাপনাগুলোর মধ্যে বান্থিয়া দেবতা মন্দির অন্যতম। কাঠের কারুকাজে সাজানো এই মন্দির স্থানীয় স্থাপত্য ও ঐতিহ্যের পরিচয় বহন করে।
হাতু শৃঙ্গ ও গিরি উপত্যকা: পাহাড়ি প্রকৃতি ও দূরের পর্বতশ্রেণির দৃশ্য উপভোগ করতে চাইলে হাতু শৃঙ্গ ও গিরি উপত্যকার আশপাশ ঘুরে দেখা যেতে পারে। সবুজ পাহাড়, উপত্যকা ও পরিষ্কার আকাশ মিলিয়ে প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য জায়গাগুলো বেশ আকর্ষণীয়।
চেওগ: ফাগুর কাছাকাছি চেওগও প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য একটি শান্ত গন্তব্য। বন ও আপেলবাগানে ঘেরা এই পাহাড়ি জনপদে জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রের তুলনায় অপেক্ষাকৃত নিরিবিলি পরিবেশ পাওয়া যায়।
কখন যাবেন ফাগুতে?
মে থেকে জুন: গ্রীষ্মকালে ফাগুর আবহাওয়া তুলনামূলকভাবে মনোরম থাকে। সমতলের গরম থেকে স্বস্তি পেতে এবং পাহাড়ি প্রকৃতি উপভোগ করতে এ সময় ভ্রমণ করা যেতে পারে।
জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর: বর্ষায় বৃষ্টির কারণে পাহাড় ও উপত্যকার সবুজ আরও সতেজ হয়ে ওঠে। সেপ্টেম্বরের দিকে আবহাওয়া তুলনামূলক পরিষ্কার থাকলে দূরের পাহাড়ের দৃশ্যও উপভোগ করা যায়। তবে বর্ষায় পাহাড়ি রাস্তায় ভ্রমণের ক্ষেত্রে আবহাওয়া ও রাস্তার পরিস্থিতি আগে জেনে নেওয়া ভালো।
জানুয়ারি থেকে মার্চ: তুষারপাত দেখতে চাইলে শীতকাল বেছে নিতে পারেন। জানুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে ফাগু ও আশপাশের পাহাড়ি এলাকায় তুষারপাতের সম্ভাবনা থাকে। তুষারে ঢাকা বন, পাহাড় আর কুয়াশামাখা পরিবেশ তখন ফাগুকে ভিন্ন এক রূপ দেয়। তবে তুষারপাতের সময় ও পরিমাণ বছরভেদে পরিবর্তিত হতে পারে।
ফাগু যাবেন যেভাবে
আকাশপথে: ফাগুর জন্য নিকটবর্তী বিমানবন্দরগুলোর মধ্যে চণ্ডীগড় বিমানবন্দর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প। বিমানবন্দর থেকে সড়কপথে ট্যাক্সি বা গাড়িতে ফাগু যাওয়া যায়।
রেলপথে: কালকা রেলস্টেশন থেকে সড়কপথে ফাগু যাওয়া যায়। পাহাড়ি অঞ্চলে যাওয়ার আগে ট্রেনের সময়সূচি ও পরবর্তী সড়কপথের পরিস্থিতি দেখে নেওয়া ভালো।
সড়কপথে: শিমলা, চণ্ডীগড় ও দিল্লি থেকে সড়কপথে ফাগুতে যাওয়া যায়। ব্যক্তিগত গাড়ি কিংবা ট্যাক্সি দুইভাবেই ভ্রমণ করা সম্ভব।
শিমলার জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রগুলোর ভিড় এড়িয়ে পাহাড়ের শান্ত পরিবেশ উপভোগ করতে চাইলে ফাগু হতে পারে ভিন্নধর্মী একটি গন্তব্য। আপেলবাগান, দেবদারু বন, কুয়াশায় ঢাকা পাহাড় আর নিরিবিলি পরিবেশে প্রকৃতির কাছাকাছি কয়েকটি দিন কাটানোর জন্য এই পাহাড়ি জনপদ ভ্রমণপিপাসুদের আকর্ষণ করতে পারে।









