বিমানে ওঠার পর শৌচাগারে গেলে ধূমপান নিষিদ্ধের চিহ্নের পাশাপাশি ছোট একটি ধাতব ছাইদানিও চোখে পড়তে পারে। ধূমপান যেখানে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ, সেখানে এই ছাইদানি কেন প্রশ্নটা স্বাভাবিক। আসলে যাত্রীদের ধূমপান করার সুযোগ দিতেই এটি রাখা হয় না। বরং কেউ নিয়ম ভাঙলে সম্ভাব্য আগুনের ঝুঁকি কমাতেই এটি বিমানের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসাবে রাখা হয়।
আগুনের ঝুঁকি কমাতেই ছাইদানি
বিমানের শৌচাগারে কেউ গোপনে ধূমপান করলে জ্বলন্ত সিগারেটের অবশিষ্টাংশ কোথায় ফেলবেন, সেটিও নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সাধারণ ময়লার ঝুড়িতে সিগারেট ফেলা হলে সেখানে থাকা কাগজের তোয়ালে বা অন্যান্য দাহ্য বর্জ্য থেকে আগুন ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই নির্দিষ্ট ছাইদানিতে জ্বলন্ত সিগারেট ফেলার ব্যবস্থা রাখা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন প্রশাসনের নিয়ম অনুযায়ী, যাত্রীবাহী বিমানের শৌচাগারে সহজে খুলে ফেলা যায় এমন ছাইদানি রাখতে হয়। একই সঙ্গে সেখানে ধোঁয়া শনাক্তকারী যন্ত্র ও অগ্নিনিরাপত্তার ব্যবস্থাও থাকে।
ছাইদানি থাকলেই কি ধূমপান বৈধ?
একেবারেই নয়। বিমানে ছাইদানি থাকার অর্থ ধূমপানের অনুমতি নেই। বরং এটি এমন একটি নিরাপত্তাব্যবস্থা, যার প্রয়োজন হতে পারে কোনও যাত্রী নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে। অর্থাৎ, নিয়ম ভাঙার ঘটনাকে উৎসাহিত করা নয়, বরং এমন ঘটনা ঘটলে আগুনের ঝুঁকি যতটা সম্ভব কমানোই এর উদ্দেশ্য।
বিমানে সিগারেট থেকে আগুন লাগার আশঙ্কাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়। ১৯৭৩ সালে রিও ডি জেনেইরো থেকে প্যারিসগামী ভারিগের একটি বোয়িং ৭০৭ বিমানের শৌচাগার এলাকায় আগুন লাগে। পরে প্যারিসের কাছে জরুরি অবতরণের সময় বিমানটি বিধ্বস্ত হয় এবং ১২০ জনের মৃত্যু ঘটে। তদন্তে আগুনের সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। তবে কোনও যাত্রীর কর্মকাণ্ড থেকেও আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে এমন সম্ভাবনা বিবেচনা করা হয়েছিল।
ভারতীয় বিমানেও একই নিয়ম
ভারতীয় বিমানেও ধূমপান নিষিদ্ধ। উদাহরণ হিসেবে, ইন্ডিগোর ফ্লাইটে ধূমপান সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং তাদের শৌচাগারে ধোঁয়া শনাক্তকারী যন্ত্র রয়েছে।
তাই বিমানের শৌচাগারে ছাইদানি দেখলে অবাক হওয়ার কিছু নেই। এটি পুরোনো অভ্যাস ধরে রাখার কোনও ব্যবস্থা নয়, বরং অগ্নিনিরাপত্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিমানে ধূমপান নিষিদ্ধ ছাইদানি থাকার কারণ শুধু সম্ভাব্য আগুনের ঝুঁকি কমানো।