সমুদ্রের ঢেউ নেই, নেই নোনাজলের গন্ধ। তবু বিস্তীর্ণ জলরাশি, খোলা আকাশ, নরম বাতাস আর নদীর পাড়ের মনকাড়া পরিবেশের কারণে সৈকতের মতোই এক আবহ তৈরি হয় মুন্সীগঞ্জের ষোলআনীতে। শহরের কোলাহল থেকে একটু দূরে প্রকৃতির কাছে সময় কাটাতে চাইলে এই জায়গাটি হতে পারে দারুণ এক দিনের ভ্রমণগন্তব্য।
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার মেঘনা নদীর তীর ঘেঁষে গড়ে ওঠা ষোলআনী এলাকায় গেলে প্রথমেই চোখে পড়বে বিশাল জলরাশি। নদীর পাড়জুড়ে খোলা পরিবেশ আর দিগন্তজোড়া আকাশের নিচে দাঁড়ালে ব্যস্ত জীবনের ক্লান্তি অনেকটাই দূর হয়ে যায়। বিশেষ করে বিকালের দিকে এখানে প্রকৃতির রূপ যেন আরও বদলে যায়।
কেন যাবেন ষোলআনীতে?
প্রকৃতির কাছাকাছি যেতে সব সময় দূরের কোনও পর্যটনকেন্দ্রে ছুটতে হয় না। ঢাকার কাছেই এমন জায়গা খুঁজছেন, যেখানে পরিবার, বন্ধু কিংবা প্রিয়জনকে নিয়ে কিছুটা সময় নিরিবিলিতে কাটানো যায়? তাহলে ভ্রমণ তালিকায় রাখতে পারেন ষোলআনী।
নদীর পাড়ে বসে বাতাস উপভোগ করা, পানির দিকে তাকিয়ে সময় কাটানো কিংবা বিকালের সূর্যাস্ত দেখার মাধ্যমে এখানে দিনের ছোট্ট ভ্রমণটিও হয়ে উঠতে পারে বেশ উপভোগ্য। আর যারা ছবি তুলতে ভালোবাসেন, তাদের জন্য খোলা আকাশ, নদীর বিস্তৃতি আর সূর্যাস্তের আলো তৈরি করে দারুণ সব দৃশ্য।
বিকালেই যেন ষোলআনীর আসল সৌন্দর্য
ষোলআনী ঘুরতে গেলে বিকালের সময়টিই বেছে নেওয়া ভালো। দিনের আলো নরম হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নদীর পাড়ের পরিবেশও হয়ে ওঠে আরও মনোরম। সূর্য যখন ধীরে ধীরে পশ্চিম আকাশে হেলে পড়ে, তখন নদীর পানিতে আলো-ছায়ার খেলা দেখতে বেশ লাগে।
সূর্যাস্তের সময় নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে ছবি তোলার সুযোগও হাতছাড়া করার মতো নয়। এখন গেলে দেখতে পাবেন আকাশজুরে শরতের সাদা মেঘ ও কাশফুল।
কীভাবে যাবেন?
ঢাকা থেকে সড়কপথে মুন্সীগঞ্জের দিকে যাত্রা করে গজারিয়া উপজেলার ষোলআনী এলাকায় যাওয়া যায়। ব্যক্তিগত গাড়ি, মাইক্রোবাস কিংবা স্থানীয় পরিবহনে যেতে পারেন।
রাস্তার অবস্থা, যানজট ও ফেরি বা সড়কপথের পরিস্থিতির ওপর সময় কমবেশি হতে পারে। তাই রওনা হওয়ার আগে যাতায়াতের পরিস্থিতি দেখে নিলে ভ্রমণ আরও স্বস্তিদায়ক হবে।
সঙ্গে কী রাখবেন?
ষোলআনীতে ঘুরতে গেলে আরামদায়ক পোশাক ও জুতা পরা ভালো। সঙ্গে পানির বোতল, প্রয়োজনীয় ওষুধ, ছাতা বা রোদ থেকে সুরক্ষার সামগ্রী রাখতে পারেন। ছবি তোলার জন্য মুঠোফোন বা ক্যামেরা থাকলে তো কথাই নেই।
একদিনের ছুটিতে ছোট্ট ভ্রমণ
সবুজ, নদী আর খোলা আকাশের সান্নিধ্যে কয়েক ঘণ্টা কাটাতে ষোলআনী হবে আপনার জন্য সহজ ও স্বস্তির একটি স্থান। সমুদ্রের সৈকত না হলেও নদীর বিশালতা এখানে তৈরি করে আলাদা এক সৈকত-সদৃশ অনুভূতি।
তাই হাতে যদি থাকে মাত্র এক দিনের ছুটি, আর মন যদি চায় একটু দূরে গিয়ে প্রকৃতির সঙ্গে সময় কাটাতে, তাহলে মুন্সীগঞ্জের ষোলআনী হতে পারে আপনার পরবর্তী ছোট্ট ভ্রমণের ঠিকানা।