পূজার ছুটিতে হাতে কয়েক দিন সময় থাকলে ঘুরে আসতে পারেন ভারতের পুরুলিয়ার তুলিন ও জাজাহাতু থেকে। সুবর্ণরেখা নদী, ছোট ছোট পাহাড়, ঘন অরণ্য আর নির্জন প্রকৃতির রূপে এই দুই জায়গা হতে পারে শহরের ব্যস্ততা থেকে সাময়িক বিরতির আদর্শ ঠিকানা।
পুরুলিয়া বলতেই অনেকের মনে পড়ে অযোধ্যা পাহাড় কিংবা গড়পঞ্চকোটের কথা। তবে ঝালদা মহকুমার তুলিনও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে কোনও অংশে কম নয়। সুবর্ণরেখা নদীর তীরে অবস্থিত এই গ্রামটির ওপারেই ঝাড়খণ্ডের মুড়ি শহর। নদীর পাড়ে সময় কাটানো, সবুজের মাঝে ঘুরে বেড়ানো কিংবা নিরিবিলি পরিবেশে ছুটি কাটানোর জন্য জায়গাটি বেশ উপযোগী।
কলকাতা থেকে সড়কপথে তুলিনের দূরত্ব প্রায় ৩৫০ কিলোমিটার। গাড়িতে যেতে সময় লাগতে পারে সাড়ে আট থেকে ৯ ঘণ্টা। পথে বর্ধমান, দুর্গাপুর, রানিগঞ্জ, রঘুনাথপুর ও ঝালদা পেরিয়ে পৌঁছোনো যায়। মুড়ি রেলস্টেশন থেকেও তুলিনের দূরত্ব খুব বেশি নয়।
তুলিনে গিয়ে ঘুরে নিতে পারেন বানসা পাহাড়। পাহাড়ের উপরে উঠলে দূরদূরান্তের দৃশ্য চোখে পড়ে। এ ছাড়া রয়েছে প্রায় ২৩ কিলোমিটার দূরের মুরুগুমা জলাধার। পাহাড় ও অরণ্যে ঘেরা এই জলাধারের দৃশ্য মন ভরিয়ে দেয়। যাওয়ার পথে স্থানীয়দের পরিচিত লক্ষ্মীপুর জলপ্রপাতও দেখে নিতে পারেন।
তুলিন থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে জাজাহাতু। ছোট-বড় পাহাড়ে ঘেরা এই জায়গার সৌন্দর্য শরৎকালেও মন কাড়ে। রাস্তার দু’পাশের ঘন অরণ্য আর পাহাড়ি পরিবেশে সময় কাটানোর পাশাপাশি কোনও উঁচু জায়গায় উঠে চারপাশের দৃশ্য উপভোগ করা যায়। এখান থেকে ঘুরে নেওয়া সম্ভব নোরাহরা জলাধার, লায়েক বাঁধ ও পাঁড়রি বাঁধও।
কোথায় থাকবেন?
তুলিনে রয়েছে ঐতিহ্যবাহী বাংলো এবং সাধারণ অতিথিনিবাস। জাজাহাতুতে বেসরকারি পরিবেশবান্ধব অবকাশকেন্দ্রেও থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। চাইলে মুরুগুমা জলাধারের আশপাশেও থাকার জায়গা বেছে নিতে পারেন।
পাহাড়, নদী ও অরণ্যের সান্নিধ্যে কয়েক দিন কাটাতে চাইলে তুলিন ও জাজাহাতু চলে যেতে পারেন। তবে রওনা হওয়ার আগে যাতায়াতের ব্যবস্থা, থাকার জায়গা এবং স্থানীয় পর্যটনস্থলগুলির বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ নিন।