ভারতের আন্তনগর রেলযাত্রায় বাড়তি আরাম দিতে চালু রয়েছে নমো ভারত ট্রেনের প্রিমিয়াম কোচ। আধা-উচ্চগতির এই আঞ্চলিক রেল পরিষেবায় যাত্রীরা সাধারণ ও প্রিমিয়াম দুই ধরনের কোচের মধ্যে পছন্দ অনুযায়ী বেছে নিতে পারেন। সাধারণ কোচের তুলনায় মাত্র ২০ শতাংশ বেশি ভাড়া দিয়ে প্রিমিয়াম কোচে পাওয়া যায় বাড়তি জায়গা, আরামদায়ক আসন এবং যাত্রীসেবার বেশ কিছু সুবিধা।
আসনব্যবস্থা, চার্জ দেওয়ার সুবিধা ও খাবার কেনার ব্যবস্থা থেকে শুরু করে আলাদা অপেক্ষাকক্ষসহ প্রিমিয়াম কোচে রয়েছে যাত্রাকে আরও স্বাচ্ছন্দ্যময় করার নানা আয়োজন। টিকিটের দাম ও সুবিধাগুলো জেনে নেওয়া যাক।
যেসব সুবিধা থাকছে
নমো ভারতের প্রিমিয়াম কোচে রয়েছে ৬২টি গদিযুক্ত হেলানো আসন। প্রতিটি আসনে পা ছড়িয়ে বসার জন্য বাড়তি জায়গা এবং পা রাখার জন্য টেনে বের করা যায় এমন ফুটরেস্ট রয়েছে। মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ চার্জ দেওয়ার জন্য প্রতিটি আসনের সঙ্গে আলাদা চার্জিং পোর্টও রাখা হয়েছে।
যাত্রীদের খাবার ও পানীয় কেনার সুবিধার্থে কোচের ভেতরে রয়েছে ভেন্ডিং মেশিন। জানালায় আছে প্রয়োজন অনুযায়ী ওঠানো-নামানো যায় এমন সূর্যের আলো প্রতিরোধক পর্দা। পাশাপাশি, কোচের ভেতরের আলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থাও রয়েছে। যাত্রীদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করেন একজন ট্রেন অ্যাটেনড্যান্ট।
কোচে আরও রয়েছে পোশাক ঝোলানোর হুক, ম্যাগাজিন রাখার পকেট, পানির বোতল রাখার হোল্ডার এবং বিশেষভাবে তৈরি লাগেজ রাখার ব্যবস্থা। রুট ম্যাপ ও ডিজিটাল ড্যাশবোর্ডে ট্রেনের তাৎক্ষণিক গতির তথ্য এবং স্টেশনসংক্রান্ত বিবরণ দেখা যায়।
প্রিমিয়াম যাত্রীদের জন্য আলাদা অপেক্ষাকক্ষ
প্রিমিয়াম কোচের যাত্রীরা প্ল্যাটফর্মে থাকা নির্দিষ্ট প্রিমিয়াম লাউঞ্জ ব্যবহারের সুযোগ পান। সাধারণ কোচের যাত্রীদের প্রবেশপথ থেকে এর প্রবেশপথ আলাদা।
সাধারণ যাত্রীরা টিকিট ট্যাপ করে প্ল্যাটফর্ম এলাকায় প্রবেশ করেন। প্রিমিয়াম যাত্রীদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট লাউঞ্জে প্রবেশের জন্য প্ল্যাটফর্মে থাকা কাচের বিভাজকের কাছে দ্বিতীয়বার টিকিট ট্যাপ করতে হয়। এতে তাঁরা আলাদা অপেক্ষাকক্ষে প্রবেশ করতে পারেন।
লাউঞ্জে রয়েছে গদিযুক্ত বসার আসন, খাবার ও পানীয়ের ভেন্ডিং মেশিন এবং স্বয়ংক্রিয় ভাড়া সংগ্রহের জন্য নির্দিষ্ট গেট। ফলে ট্রেনে ওঠার আগেও যাত্রীরা অপেক্ষা করতে পারেন তুলনামূলক আরামদায়ক পরিবেশে।
টিকিটের দাম কত?
নমো ভারত ট্রেনে যাত্রার দূরত্ব অনুযায়ী টিকিটের ভাড়া নির্ধারণ করা হয়। ভারতের ন্যাশনাল ক্যাপিটাল রিজিয়ন ট্রান্সপোর্ট করপোরেশন (এনসিআরটিসি) নির্ধারিত ভাড়া অনুযায়ী, প্রিমিয়াম কোচের টিকিটের দাম সাধারণ কোচের তুলনায় ২০ শতাংশ বেশি।
বর্তমানে দিল্লি–গাজিয়াবাদ–মিরাট রুটে সাধারণ কোচের ভাড়া ২০ থেকে ২১০ ভারতীয় রুপি। বাংলাদেশি মুদ্রায় আনুমানিক ২৬ থেকে ২৭৪ টাকা। অন্যদিকে, প্রিমিয়াম কোচের ভাড়া ৩০ থেকে ২৫০ রুপি, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩৯ থেকে ৩২৬ টাকা।
তুলনামূলক কম বাড়তি খরচে আরও আরামদায়ক আসন, চার্জিং সুবিধা, বিশেষ অপেক্ষাকক্ষ এবং অতিরিক্ত যাত্রীসেবা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে নমো ভারতের প্রিমিয়াম কোচে।
সূত্র: এনডিটিভি