শহরের ব্যস্ততা থেকে একটু দূরে গাছপালায় ঘেরা বনে সময় কাটানোর জন্য ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার কাদিগড় জাতীয় উদ্যান থেকে ঘুরে আসতে পারেন। শাল-গজারির বন, পাখির ডাক আর গাছের ছায়ায় ঘেরা এই বনাঞ্চল প্রকৃতির কাছাকাছি সময় কাটানোর সুযোগ করে দেয়। ঢাকার কাছাকাছি এক দিনের ভ্রমণের পরিকল্পনায় জায়গাটি হতে পারে ভালো একটি পছন্দ।
সবুজ বনের হাতছানি
কাদিগড় জাতীয় উদ্যানের অবস্থান ভালুকা উপজেলার কাচিনা ইউনিয়নে। কাদিগড় ও পালগাঁও এলাকার বনভূমি নিয়ে গড়ে ওঠা এই উদ্যান ২০১০ সালে জাতীয় উদ্যান হিসেবে স্বীকৃতি পায়। বন অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, এর আয়তন ৩৪৪ দশমিক ১৩ হেক্টর। এখানে শাল, গজারিসহ নানা প্রজাতির গাছপালা রয়েছে। বনাঞ্চলটিতে বিভিন্ন প্রজাতির বন্য প্রাণী ও পাখিরও বসবাস।
বনের ভেতর দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে চোখে পড়তে পারে উঁচু গাছের সারি, পাতার ফাঁক দিয়ে আসা আলো আর চারপাশের নীরব প্রাকৃতিক পরিবেশ। ভাগ্য ভালো হলে দেখা মিলতে পারে বানর ও হনুমানের। তবে বন্য প্রাণী দেখার নিশ্চয়তা নেই। প্রাণীদের বিরক্ত না করে দূর থেকে পর্যবেক্ষণ করাই ভালো।
অবসরের সময় কাটাতে
কাদিগড় জাতীয় উদ্যানে রয়েছে ওয়াচ টাওয়ার, বসার জায়গা ও বনভোজনের জন্য নির্ধারিত কিছু সুবিধা। পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে দিনের একটি অংশ এখানে কাটানো যায়। বনের পরিবেশ উপভোগ করতে সকাল কিংবা বিকালের দিকে যাওয়া সুবিধাজনক। হাঁটার সময় আরামদায়ক জুতা পরুন, সঙ্গে পানির বোতল রাখুন।
যেভাবে যাবেন
ঢাকা থেকে ময়মনসিংহগামী বাসে ভালুকার সিডস্টোর বাজারে নামতে হবে। সেখান থেকে অটোরিকশা বা সিএনজিতে সিডস্টোর–সখিপুর সড়ক ধরে কাচিনা এলাকায় যেতে পারবেন। এরপর পালগাঁও চৌরাস্তার দিক থেকে জাতীয় উদ্যানের প্রবেশপথে পৌঁছানো যায়। ময়মনসিংহ শহর থেকেও সড়কপথে এখানে যাওয়া সম্ভব। যানবাহনের রুট ও ভাড়া পরিবর্তিত হতে পারে, তাই যাত্রার আগে স্থানীয়ভাবে খোঁজ নেওয়া ভালো।
যাওয়ার আগে যা জানবেন
বর্ষাকালে কাঁচা বা ভাঙাচোরা সড়কে চলাচলে অসুবিধা হতে পারে। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনেও উদ্যানের প্রবেশপথের রাস্তা ও দর্শনার্থীদের সুবিধা নিয়ে সমস্যার কথা উঠে এসেছে। নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতার বিষয়েও সচেতন থাকা জরুরি। দিনের আলো থাকতে ঘোরাঘুরি শেষ করা এবং নির্জন অংশে একা না যাওয়াই ভালো।
প্রকৃতির মধ্যে নিরিবিলি সময় কাটানোর জন্য কাদিগড় জাতীয় উদ্যান সম্ভাবনাময় একটি বনাঞ্চল। তবে ভ্রমণের আনন্দ ধরে রাখতে পরিবেশ সংরক্ষণের পাশাপাশি যাতায়াত ও নিরাপত্তার বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে আগেই জেনে নেওয়া প্রয়োজন।