গোলাপি পোশাক পরে স্তন ক্যানসার সচেতনতার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার দিন ‘ওয়্যার ইট পিঙ্ক ডে’। প্রতি বছর অক্টোবরে স্তন ক্যানসার সচেতনতা মাসে দিনটি পালন করা হয়। এ উপলক্ষে বিভিন্ন দেশের মানুষ গোলাপি পোশাক পরেন, সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন এবং স্তন ক্যানসার নিয়ে গবেষণার জন্য অর্থ সংগ্রহ করেন।
গোলাপি শার্ট, মোজা, টুপি কিংবা হাতের কাছে থাকা যেকোনো গোলাপি পোশাক পরে এই আয়োজনে অংশ নেওয়া যায়। তবে এই দিনের মূল উদ্দেশ্য পোশাকের রংয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। স্তন ক্যানসার সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো, রোগটি প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করার গুরুত্ব তুলে ধরা এবং আক্রান্ত ব্যক্তিদের পাশে দাঁড়ানোই এর প্রধান লক্ষ্য।
পরিবার, বন্ধু, সহকর্মী ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সদস্যরা একসঙ্গে এই আয়োজনে অংশ নিতে পারেন। তাঁদের উদ্যোগে সংগৃহীত অর্থ স্তন ক্যানসার নিয়ে গবেষণা, উন্নত চিকিৎসা এবং রোগীদের সহায়তামূলক কার্যক্রমে ব্যয় করা হয়।
যেভাবে শুরু হয়েছিল দিনটি
২০০২ সালে যুক্তরাজ্যের দাতব্য সংস্থা ব্রেস্ট ক্যানসার ক্যাম্পেইন স্তন ক্যানসার গবেষণার জন্য অর্থ সংগ্রহের উদ্দেশে ওয়্যার ইট পিঙ্ক ডে চালু করে। গোলাপি পোশাক পরা এবং সামর্থ্য অনুযায়ী অনুদান দেওয়ার মাধ্যমে মানুষকে এই উদ্যোগে যুক্ত করাই ছিল এর মূল ভাবনা। অল্প সময়ের মধ্যেই বিভিন্ন অফিস, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় সম্প্রদায় এতে অংশ নিতে শুরু করে।
তবে স্তন ক্যানসার সচেতনতার প্রতীক হিসেবে গোলাপি রঙের ব্যবহার শুরু হয়েছিল ১৯৯০-এর দশকে। ১৯৯১ সালে নিউইয়র্ক শহরে একটি দাতব্য দৌড় প্রতিযোগিতায় স্বেচ্ছাসেবকেরা গোলাপি ফিতা বিতরণ করেন। পরের বছর যুক্তরাষ্ট্রের একটি সাময়িকী ও একটি প্রসাধনসামগ্রী প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন দোকানে গোলাপি ফিতা ব্যবহার করে। এরপর ধীরে ধীরে গোলাপি ফিতা স্তন ক্যানসার সচেতনতার পরিচিত প্রতীক হয়ে ওঠে।
ওয়্যার ইট পিঙ্ক ডে’র মাধ্যমে স্তন ক্যানসার গবেষণার জন্য লাখ লাখ পাউন্ড সংগ্রহ করা হয়েছে। এই অর্থ রোগ দ্রুত শনাক্ত করার পদ্ধতি, উন্নত চিকিৎসা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যা নিয়ে গবেষণায় সহায়তা করে। রোগ শনাক্ত হওয়ার পর এবং চিকিৎসা চলাকালে আক্রান্ত ব্যক্তিদের সহায়তা দেয়- এমন বিভিন্ন কার্যক্রমেও অর্থ ব্যয় করা হয়।
যেভাবে পালন করবেন দিনটি
গোলাপি পোশাক পরুন
দিনটি উপলক্ষে গোলাপি পোশাক পরে পরিবার, বন্ধু ও সহকর্মীদের সঙ্গে অংশ নিতে পারেন। পাশাপাশি তাঁদেরও এই উদ্যোগে যুক্ত হতে উৎসাহিত করুন। পোশাকের মাধ্যমে স্তন ক্যানসার সচেতনতার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করা যায়।
আয়োজন করুন গোলাপি খাবারের
বন্ধু, পরিবার কিংবা সহকর্মীদের নিয়ে গোলাপি রঙের খাবারের ছোট আয়োজন করতে পারেন। খাওয়াদাওয়ার ফাঁকে স্তন ক্যানসারের লক্ষণ, ঝুঁকি এবং দ্রুত রোগ শনাক্ত করার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করা যায়। এতে পরিচিতজনদের মধ্যে রোগটি সম্পর্কে জানার আগ্রহ বাড়তে পারে।
আক্রান্ত ব্যক্তিদের সম্মানে হাঁটুন
স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত ব্যক্তি কিংবা এই রোগে প্রিয়জনকে হারানো মানুষের প্রতি সম্মান জানাতে দলবদ্ধভাবে হাঁটার আয়োজন করা যেতে পারে। এ সময় তাঁদের অভিজ্ঞতা ও স্মৃতির কথা ভাগ করে নেওয়ার পাশাপাশি রোগীদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানানো যায়।
সৃজনশীল উদ্যোগ নিন
গোলাপি কাগজ বা কাপড়ে স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য শুভকামনা, তাঁদের নাম কিংবা অনুপ্রেরণামূলক বার্তা লিখে প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। এমন উদ্যোগ আক্রান্ত ব্যক্তি ও তাঁদের পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশের সুযোগ তৈরি করে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বার্তা দিন
স্তন ক্যানসার সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য, সচেতনতামূলক বার্তা কিংবা আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রতি সমর্থনের কথা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করুন। পাশাপাশি গবেষণার জন্য অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগের তথ্যও ছড়িয়ে দিতে পারেন। এতে আরও মানুষ সচেতনতামূলক কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।
ছোট উদ্যোগ হিসেবে শুরু হওয়া এই আয়োজন এখন অনেক মানুষের অংশগ্রহণে বিস্তৃত হয়েছে। গোলাপি পোশাকের মাধ্যমে সচেতনতার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া, গবেষণায় সহায়তা করা এবং স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত ব্যক্তিদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানানোই দিনটির মূল তাৎপর্য।