পাহাড়ি ঢাল বেয়ে নেমে আসছে জল। পাথরের মসৃণ গা ধরে সেই জল গিয়ে পড়ছে স্বচ্ছ পানির এক প্রাকৃতিক পুলে। দেখে মনে হবে, প্রকৃতিই তৈরি করেছে রোমাঞ্চের এক বিশেষ আয়োজন। ভারতের মেঘালয়ের এমনই এক লুকানো প্রাকৃতিক জলস্লাইডের ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। জায়গাটির সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ হয়েছেন অনেকে, তবে সেখানে নামার ঝুঁকি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কেউ কেউ।
এই জলস্লাইডের অবস্থান মেঘালয়ের পূর্ব খাসি পাহাড় জেলার কনথং গ্রামের কাছে। সম্প্রতি এক পর্যটক সেখানকার একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। তাতে দেখা যায়, পাথরের ঢাল বেয়ে জল গড়িয়ে পড়ছে নিচের স্বচ্ছ পানির পুলে। চারপাশের প্রাকৃতিক পরিবেশ আর জলের স্বচ্ছতা জায়গাটিকে আরও মনোরম করে তুলেছে। প্রকৃতির মাঝে এমন দৃশ্য দেখতে অনেকেই সেখানে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
তবে জায়গাটি খুঁজে পাওয়া সহজ নয়। ওই পর্যটক জানিয়েছেন, সেখানে যাওয়ার নির্দিষ্ট কোনও পথচিহ্ন নেই। তাই এলাকাটি সম্পর্কে পরিচিত নন, এমন পর্যটকদের স্থানীয় গাইডের সাহায্য নেওয়া প্রয়োজন। পাহাড়ি পথে চলাচল এবং অপরিচিত এলাকায় পৌঁছানোর ক্ষেত্রে সতর্ক থাকাও জরুরি।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকে জায়গাটির সৌন্দর্যের প্রশংসা করেছেন। তবে পাথুরে ঢাল বেয়ে নিচে নামার দৃশ্য দেখে কয়েকজন উদ্বেগও প্রকাশ করেছেন। তাঁদের আশঙ্কা, নামার সময় মাথা বা শরীরের অন্য কোনও অংশ পাথরে আঘাত পেতে পারে। এক ব্যক্তি মন্তব্য করেছেন, নিচে নামার সময় পর্যটকের মাথা পাথরে লেগে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল। তাঁর মতে, ভিডিওর শেষের দিকে অল্পের জন্য বড় বিপদ এড়িয়েছেন ওই ব্যক্তি।
আরেকজন লিখেছেন, ভিডিওটি দেখতে গিয়েই তাঁর ভয় লাগছিল। কেউ জায়গাটিকে অসাধারণ প্রাকৃতিক জলস্লাইড বলে প্রশংসা করেছেন, আবার কারও মতে, সেখানে নামা বিপজ্জনক হতে পারে। একজন সতর্ক করে বলেছেন, পাথুরে ঢাল বেয়ে নামার সময় মাথায় আঘাত লাগার ঝুঁকি রয়েছে। আরেকজনের মন্তব্য, এমন জায়গায় গেলে নিজের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিজেকেই নিতে হবে।
প্রাকৃতিক জলপ্রপাতের অবিরাম প্রবাহ দীর্ঘ সময় ধরে পাথরের গায়ে ক্ষয় সৃষ্টি করে। এই প্রক্রিয়ায় পাথরের আকৃতি বদলে যায় এবং কোথাও কোথাও তৈরি হয় প্রাকৃতিক জলকুণ্ড। মেঘালয়ের এই জলস্লাইডও তেমন প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ার ফল। পাথর পিচ্ছিল হলে কিংবা জলের গভীরতা ও স্রোত সম্পর্কে ধারণা না থাকলে পানিতে নামা বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। তাই স্থানীয় গাইডের পরামর্শ মেনে চলা এবং নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।