সারাজীবনের জমানো টাকা ব্যাংকে রেখেও নিশ্চিন্ত থাকতে পারছেন না আমানতকারীরা। একদিকে নিত্যপণ্যের বাড়তি দাম, অন্যদিকে ব্যাংকের আমানতের সুদের হার কমে যাওয়া—সব মিলিয়ে সঞ্চয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে ভাবতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। যে টাকা ব্যাংকে রেখে সংসারের খরচ চালানোর কথা, সেই টাকা থেকে পাওয়া সুদ দিয়েই এখন মূল্যস্ফীতির চাপ সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছে। তাহলে মানুষের কষ্টার্জিত টাকা কোথায় রাখা নিরাপদ? ব্যাংকে, সঞ্চয়পত্রে, নাকি অন্য কোনও বিনিয়োগে?
এই প্রশ্নের গুরুত্ব আরও বেড়েছে ব্যাংক খাতের সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতার কারণে। পদ্মা ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংকসহ সংকটে পড়া কয়েকটি ব্যাংকে টাকা জমা রেখে অনেক গ্রাহক দীর্ঘদিন নিজেদের আমানত তুলতে ভোগান্তিতে পড়েছেন। সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে সংকটাপন্ন কয়েকটি ব্যাংকের আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার উদ্যোগও সঞ্চয়কারীদের মনে ব্যাংকে টাকা রাখার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর অনেকে যখন নিজেদের জমানো টাকা ফেরত পেতে শুরু করেছেন, তখনই আমানতের সুদের হার কমে যাওয়ায় সামনে এসেছে আরেকটি সমস্যা—এই টাকা এখন কোথায় রাখবেন?
ব্যাংক খাতের সংকট সামাল দিতে সরকারকে আর্থিক সহায়তা দিতে হয়েছে। এর সঙ্গে অর্থের জোগান বাড়াতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অর্থ সরবরাহের উদ্যোগও অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতির চাপের সঙ্গে সম্পর্কিত। শেষ পর্যন্ত এর ব্যয় অর্থনীতির বিভিন্ন পথে সাধারণ মানুষের ওপর পড়তে পারে। অর্থাৎ ব্যাংক খাতের সংকটের প্রভাব শুধু আমানত ফেরত পাওয়ার অনিশ্চয়তায় সীমাবদ্ধ নয়; মূল্যস্ফীতি ও সঞ্চয়ের প্রকৃত মূল্য কমে যাওয়ার মাধ্যমেও মানুষ এর চাপ অনুভব করছে।
মূল্যস্ফীতির চেয়ে কম সুদ
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বরে দেশে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৮ দশমিক ৩৪ শতাংশ। অথচ কয়েকটি শীর্ষ বাণিজ্যিক ব্যাংকে এক বছর মেয়াদি স্থায়ী আমানতের সুদের হার কমে সাড়ে ৭ শতাংশে নেমেছে। অর্থাৎ ব্যাংকে টাকা রেখে যে সুদ পাওয়া যাচ্ছে, তা দিয়ে মূল্যস্ফীতির কারণে বেড়ে যাওয়া ব্যয়ের সঙ্গে তাল মেলানো যাচ্ছে না।
ধরা যাক, একজন আমানতকারী ১০ লাখ টাকা এক বছরের জন্য ৭ দশমিক ৫ শতাংশ সুদে ব্যাংকে রাখলেন। এক বছর শেষে তার সুদ আয় হবে ৭৫ হাজার টাকা, কর ও অন্যান্য প্রযোজ্য চার্জ বাদ দেওয়ার আগে। অন্যদিকে, একই সময়ে মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৩৪ শতাংশ থাকলে পণ্য ও সেবার দাম বাড়বে আরও বেশি হারে।
ফলে ব্যাংক হিসাবে টাকার পরিমাণ বাড়লেও সেই টাকা দিয়ে আগের তুলনায় কম পণ্য ও সেবা কেনা সম্ভব হতে পারে। অর্থনীতির ভাষায়, এটিই সঞ্চয়ের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়া।
ব্যাংকারদের তথ্য অনুযায়ী, গত জুলাইয়ে এক বছর মেয়াদি আমানতে কয়েকটি ব্যাংকে ৯ থেকে ১০ দশমিক ১৫ শতাংশ পর্যন্ত সুদ পাওয়া যেত। পরে তা কমে ৮ থেকে ৯ শতাংশের আশপাশে আসে। সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি ব্যাংকে এই হার আরও কমেছে। বর্তমানে ব্র্যাক ব্যাংক ও ডাচ-বাংলা ব্যাংকে এক বছর মেয়াদি স্থায়ী আমানতে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ, প্রাইম ব্যাংকে ৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ এবং সিটি ব্যাংকে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ সুদ দেওয়া হচ্ছে বলে ব্যাংকাররা জানিয়েছেন।
এ পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছেন অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি, প্রবীণ নাগরিক এবং যেসব পরিবার ব্যাংকের সুদের ওপর নির্ভর করে সংসার চালায়। তাদের জন্য সুদের আয় কমে যাওয়া মানে মাসিক ব্যয় মেটাতে সঞ্চয়ের মূল টাকা ভাঙার ঝুঁকি বেড়ে যাওয়া।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, সুদের হার কমে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা চাপে পড়বেন। কারণ, তারা ব্যাংকে আমানত রেখে যে সুদ পান, তা দিয়েই অনেক সময় সংসারের ব্যয় মেটান। মূল্যস্ফীতি বেশি থাকায় সুদের হার কমে যাওয়া তাদের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করবে।
বেশি সুদ দিচ্ছে যে ব্যাংক, সেখানে রাখবেন?
সঞ্চয়কারীদের সামনে এখন একটি বড় দ্বিধা। যে ব্যাংকে তুলনামূলক বেশি সুদ পাওয়া যায়, সেখানে টাকা রাখবেন, নাকি যে ব্যাংকের প্রতি মানুষের আস্থা বেশি, সেখানে কম সুদে আমানত রাখবেন?
ব্যাংক খাতে সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা বলছে, শুধু বেশি সুদের প্রস্তাব দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। কোনও ব্যাংক যদি অন্য ব্যাংকের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বেশি সুদ দেয়, তাহলে কেন তারা এত বেশি সুদে আমানত সংগ্রহ করছে, সেটিও বিবেচনা করা দরকার। ব্যাংকের আর্থিক অবস্থা, তারল্য, মূলধন, খেলাপি ঋণের পরিস্থিতি এবং আমানত ফেরত দেওয়ার সক্ষমতা সম্পর্কে যতটা সম্ভব নির্ভরযোগ্য তথ্য যাচাই করা জরুরি।
ব্যাংক খাতে আস্থার সংকটের কারণে অনেক গ্রাহক দুর্বল ব্যাংক থেকে টাকা সরিয়ে তুলনামূলক নির্ভরযোগ্য ব্যাংকে জমা রাখছেন। এতে শক্তিশালী ব্যাংকগুলোর আমানত আরও বাড়ছে। ব্যাংকারদের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম আট মাসে ব্যাংক খাতে গড় আমানত প্রবৃদ্ধি ছিল ১১ দশমিক ৯৬ শতাংশ। কয়েকটি শীর্ষ ব্যাংকে আমানত বেড়েছে ১৫ থেকে ২২ শতাংশ পর্যন্ত।
ব্যাংক এশিয়ার ব্যবস্থাপনা পরিচালক সোহেল আর কে হুসেইন জানিয়েছেন, তাদের ব্যাংকের ঋণ-আমানত অনুপাত প্রায় ৬০ শতাংশ। অর্থাৎ আমানতের তুলনায় ঋণ বিতরণের পরিমাণ কম হওয়ায় ব্যাংকটিতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ উদ্বৃত্ত রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের আগস্ট শেষে ব্যাংক খাতে মোট তারল্যের পরিমাণ ছিল ৭ লাখ ৮১ হাজার ২১৪ কোটি টাকা। এর বিপরীতে বিধিবদ্ধ ন্যূনতম তারল্য সংরক্ষণের প্রয়োজন ছিল ৩ লাখ ৩৯ হাজার ২৬০ কোটি টাকা। ফলে উদ্বৃত্ত তারল্যের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৪ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকা।
এত অর্থ হাতে থাকার পরও ব্যাংকগুলো প্রত্যাশা অনুযায়ী ঋণ বিতরণ করতে পারছে না। ব্যাংকারদের তথ্য অনুযায়ী, ছয় মাসের বেশি সময় ধরে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশের নিচে রয়েছে। নতুন বিনিয়োগে ব্যবসায়ীদের অনাগ্রহ, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং ঋণের উচ্চ সুদ এর অন্যতম কারণ।
ফলে একদিকে ব্যাংকের হাতে আমানতের অর্থ জমছে, অন্যদিকে সেই অর্থ ঋণ দিয়ে আয় করার সুযোগ সীমিত হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে আমানতের সুদের হার কমিয়ে তহবিল সংগ্রহের ব্যয় নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে ব্যাংকগুলো।
তাহলে ব্যাংকের বাইরে কোথায় রাখবেন?
ব্যাংকের আমানতের সুদ কমে যাওয়ায় সঞ্চয়পত্রসহ অন্যান্য বিনিয়োগের বিকল্প নিয়ে ভাবছেন অনেকেই। তবে কোনও একটি মাধ্যম সবার জন্য সমানভাবে উপযুক্ত নয়। কারও কাছে টাকার নিরাপত্তা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, কারও প্রয়োজন নিয়মিত আয়, আবার কারও দরকার যেকোনও সময় টাকা তুলে নেওয়ার সুবিধা।
সঞ্চয়পত্র: যোগ্যতা, বিনিয়োগসীমা ও প্রযোজ্য নিয়ম মেনে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করা যেতে পারে। কেনার আগে সংশ্লিষ্ট সঞ্চয়পত্রের বর্তমান মুনাফার হার, মেয়াদ, কর এবং আগাম ভাঙানোর শর্ত জেনে নিতে হবে। সব সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার ও শর্ত এক নয়।
মেয়াদি আমানত: ব্যাংকে টাকা রাখতেই চাইলে শুধু সুদের হার নয়, ব্যাংকের আর্থিক অবস্থা ও আমানত ফেরত দেওয়ার সক্ষমতা বিবেচনা করা জরুরি। সব টাকা এক মেয়াদে না রেখে প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন মেয়াদে ভাগ করে রাখলে জরুরি সময়ে অর্থ পাওয়ার সুবিধা হতে পারে। তবে এতে প্রত্যাশিত আয় কত হবে, তা সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের শর্তের ওপর নির্ভর করবে।
স্বল্পমেয়াদি আমানত ও নগদ সঞ্চয়: যাঁদের যেকোনও সময় অর্থের প্রয়োজন হতে পারে, তাদের পুরো সঞ্চয় দীর্ঘমেয়াদি আমানতে আটকে রাখা ঠিক হবে না। দৈনন্দিন ব্যয় ও জরুরি প্রয়োজন মেটানোর মতো অর্থ সহজে ব্যবহার করা যায়—এমন ব্যবস্থায় রাখা দরকার। তবে নগদ অর্থ ঘরে রাখলে চুরি, হারানো ও মূল্যস্ফীতিতে ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
সরকারি ট্রেজারি বিল ও বন্ড: আর্থিক জ্ঞান ও প্রয়োজনীয় সুযোগ থাকলে সরকারি ট্রেজারি বিল বা বন্ডের শর্ত যাচাই করা যেতে পারে। এসব বিনিয়োগের মেয়াদ, কেনার পদ্ধতি, সুদ বা মুনাফা পাওয়ার ধরন এবং মেয়াদের আগে বিক্রির শর্ত বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। এগুলো সব সময় ব্যাংকের সাধারণ আমানতের মতো সুবিধা দেয় না।
পুঁজিবাজার: শেয়ারবাজারে দীর্ঘমেয়াদে মুনাফার সুযোগ থাকলেও লোকসানের ঝুঁকিও রয়েছে। বাজার সম্পর্কে যথেষ্ট জ্ঞান, ঝুঁকি নেওয়ার সক্ষমতা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা না থাকলে শুধু ব্যাংকের সুদ কমেছে বলে সেখানে সঞ্চয়ের টাকা সরিয়ে নেওয়া উচিত নয়। বিশেষ করে জরুরি প্রয়োজন বা সংসারের নিয়মিত ব্যয়ের টাকা ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগে রাখা অনুচিত।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মুস্তফা কামাল মুজেরী মনে করেন, আমানতকারীরা চাইলে সঞ্চয়পত্র বা পুঁজিবাজারের মতো বিকল্প বিনিয়োগের মাধ্যম বিবেচনা করতে পারেন। তবে পুঁজিবাজারে মুনাফার সম্ভাবনার পাশাপাশি লোকসানের ঝুঁকিও রয়েছে।
সব টাকা এক জায়গায় রাখাই কি ঠিক?
আর্থিক পরিকল্পনাবিদদের সাধারণ পরামর্শ হলো, সঞ্চয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নিজের আর্থিক চাহিদা বুঝতে হবে। আগামী কয়েক মাসে যাঁর চিকিৎসা, সন্তানের পড়াশোনা, বাড়িভাড়া বা অন্য কোনও বড় ব্যয় রয়েছে, তার জন্য সহজে তোলা যায় এমন অর্থের গুরুত্ব বেশি। অন্যদিকে, যার নিয়মিত আয় আছে এবং দীর্ঘদিন টাকা না তুললেও চলবে, তিনি মেয়াদি বিনিয়োগের বিকল্প বিবেচনা করতে পারেন।
এ ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, জরুরি প্রয়োজনের অর্থ আলাদা রাখতে হবে। দ্বিতীয়ত, শুধু বেশি সুদের আশায় কোনও প্রতিষ্ঠানে সব সঞ্চয় রাখা উচিত নয়। তৃতীয়ত, বিনিয়োগের আগে মেয়াদ, কর, চার্জ, আগাম টাকা তোলার শর্ত এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি বুঝতে হবে। চতুর্থত, কোনও বিনিয়োগের মুনাফা মূল্যস্ফীতির চেয়ে বেশি হলেই সেটি ঝুঁকিমুক্ত হয়ে যায় না।
বিশেষ করে ব্যাংক খাতের সংকটে যারা নিজেদের আমানত তুলতে পারেননি, তাদের কাছে অর্থের নিরাপত্তা এখন শুধু মুনাফার প্রশ্ন নয়; এটি আর্থিক নিশ্চয়তা ও মানসিক স্বস্তির বিষয়ও।
আমানতকারীর স্বস্তি ফেরানো জরুরি
বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতি সুদহার ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে সাড়ে ৯ শতাংশ করা হয়েছে। তবে বেসরকারি খাতে ঋণের চাহিদা দুর্বল থাকায় ব্যাংক খাতে উদ্বৃত্ত তারল্য রয়ে গেছে। ব্যাংকগুলোর যুক্তি, আমানতের সুদ কমলে তহবিল সংগ্রহের ব্যয় কমবে এবং ভবিষ্যতে ঋণের সুদ কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। কিন্তু আমানতের সুদ কমলেই ঋণের সুদ একই হারে কমবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।
অর্থনীতিবিদদের মতে, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়াতে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা জরুরি। নতুন শিল্পকারখানা স্থাপন, উৎপাদন বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে ঋণের চাহিদা বাড়লে ব্যাংকের উদ্বৃত্ত অর্থ উৎপাদনশীল খাতে ব্যবহারের সুযোগ বাড়বে। এতে ব্যাংকের আয় বাড়ার পাশাপাশি অর্থনীতিতেও গতি ফিরতে পারে।
তবে সাধারণ আমানতকারীর তাৎক্ষণিক প্রশ্নের উত্তর শুধু ব্যাংকের সুদের হার কমানো বা বাড়ানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তারা জানতে চান, তাদের জমানো টাকা নিরাপদ থাকবে কি না, প্রয়োজনের সময় তা তুলতে পারবেন কি না এবং সেই টাকা দিয়ে ভবিষ্যতে সংসারের ব্যয় মেটানো সম্ভব হবে কি না।
সব মিলিয়ে সঞ্চয়কারীদের সামনে এখন তিনটি বিষয়ের ভারসাম্য রক্ষা করার চ্যালেঞ্জ—টাকার নিরাপত্তা, প্রয়োজনে দ্রুত অর্থ পাওয়ার সুযোগ এবং মূল্যস্ফীতির ক্ষতি যতটা সম্ভব কমানো। বেশি সুদের প্রস্তাবের পেছনে না ছুটে নিজের প্রয়োজন, বিনিয়োগের মেয়াদ ও ঝুঁকি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়াই এখন গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, ব্যাংকে টাকার অঙ্ক বাড়লেই সঞ্চয় বাড়ে না; সেই টাকা কতটা নিরাপদ এবং তা দিয়ে ভবিষ্যতে কতটা কেনাকাটা করা যাবে, সেটিই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করে সঞ্চয়ের প্রকৃত মূল্য।