বেড়াতে গিয়ে ফেরার সময়ে প্রিয়জনদের জন্য কী উপহার আনবেন, তা নিয়ে চিন্তা থাকে অনেকেরই। এত দিন ফ্রিজ ম্যাগনেট, স্থানীয় স্থাপত্যের ছোট প্রতিরূপ কিংবা ছবি ছাপা টি-শার্ট ছিল পরিচিত স্মারক। কিন্তু পর্যটকদের কেনাকাটার ধরনে বদল আসছে। এখন অনেকেই নতুন শহর বা দেশ ঘুরতে গিয়ে ঢুঁ মারছেন স্থানীয় মুদিখানা ও সুপারমার্কেটে। সেখান থেকে কিনে আনছেন বিশেষ বিস্কুট, চকলেট, মশলা, সস কিংবা স্থানীয় কোনও খাবার। ভ্রমণজগতে এই প্রবণতার নাম ‘গ্রোসারি স্টোর ট্যুরিজম’।
কোনও জায়গার খাবারের স্বাদ জানার জন্য রেস্তরাঁয় খাওয়ার অভিজ্ঞতা তো রয়েছেই। তবে স্থানীয় সুপারমার্কেটে গেলে সেখানকার মানুষের প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কেও ধারণা পাওয়া যায়। কোন ধরনের নুডলস, বিস্কুট, চকলেট কিংবা মশলা তাঁদের পছন্দ, তা জানা যায় দোকানের তাক ঘুরলেই। প্যাকেটজাত খাবার সহজে বহন করা যায়, আবার বাড়ি ফিরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়াও সম্ভব। ফলে উপহারের পাশাপাশি ভ্রমণের স্মৃতিও হয়ে ওঠে আরও ব্যক্তিগত।
জাপানের মিষ্টি ও চা
জাপানে ভ্রমণ করলে স্থানীয় খাবার উপহার হিসেবে কেনার ঐতিহ্য বেশ পুরনো। সেখানে ‘ওমিয়াগে’ প্রথা অনুযায়ী, ভ্রমণ থেকে ফিরে পরিচিতদের জন্য আঞ্চলিক খাবার নিয়ে যাওয়ার চল রয়েছে। কিয়োটোর চালের মিষ্টি ইয়াতসুহাশি কিংবা হিরোশিমার ম্যাপল পাতার আদলে তৈরি মোমিজি মাঞ্জু কিনতে পারেন। এ ছাড়া বিভিন্ন স্বাদের চকলেট, মাচা ও গ্রিন টি-ও উপহার হিসেবে জনপ্রিয়।
ভারতের নানা প্রান্তের স্বাদ
দেশের এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে বেড়াতে গেলেও স্থানীয় খাবার স্মারক হিসেবে কেনা যায়। গোয়া থেকে নিয়ে আসতে পারেন ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি পুডিং বেবিঙ্কা, কোকুম কিংবা রেচেয়াডো মশলা। কাশ্মীরের জাফরান, কেরালার গোলমরিচ ও এলাচ, দার্জিলিং বা আসামের চা, দক্ষিণ ভারতের কফি সবই হতে পারে প্রিয়জনের জন্য বিশেষ উপহার। লখনউয়ের মিষ্টি কিংবা মহারাষ্ট্রের কোঙ্কণ উপকূলের আচারও এই তালিকায় রাখতে পারেন।
ইতালির পাস্তা ও অলিভ অয়েল
ইতালিতে গেলে স্থানীয় সুপারমার্কেট থেকে কিনতে পারেন নানা আকারের পাস্তা কিংবা অলিভ অয়েল। রান্নায় যাদের আগ্রহ রয়েছে, তাদের জন্য এই ধরনের উপহার বেশ আকর্ষণীয় হতে পারে। বাড়িতে সেই পাস্তা রান্না করে খাওয়ার সময় ভ্রমণের স্মৃতিও ফিরে আসবে।
মেক্সিকোর সস, তুরস্কের মশলা
মেক্সিকো থেকে বিশেষ ধরনের লঙ্কা কিংবা হট সস নিয়ে আসতে পারেন। অন্য দিকে, তুরস্কের বাজারে পাওয়া যায় নানা ধরনের মশলা। সুমাক কিংবা পুল বিবের মতো স্থানীয় মশলা রান্নায় নতুন স্বাদ যোগ করতে পারে। তবে ব্যবহার জানা নেই, এমন অনেক কিছু না কিনে পরিচিত বা কাজে লাগবে এমন উপকরণই বেছে নেওয়া ভাল।
খাবারের সঙ্গে ফিরবে ভ্রমণের স্মৃতি
এই ধরনের উপহারের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হল, তা ভাগ করে নেওয়া যায়। বাড়িতে ফিরে পরিবারের সঙ্গে নতুন কোনও খাবারের স্বাদ নেওয়া কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে মিষ্টির বাক্স খুলে বসা—সবেতেই জুড়ে যায় ভ্রমণের গল্প। খাবার শেষ হয়ে গেলেও তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা স্মৃতি থেকে যায় অনেক দিন।
কেনাকাটার আগে সতর্কতা
খাবার কেনার সময়ে প্যাকেটের সিল, মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ এবং উপাদানের তালিকা দেখে নিন। তরল সস বা তেল বিমানে বহনের ক্ষেত্রে কেবিন ব্যাগেজের নিয়ম মেনে চলতে হবে। প্রয়োজনে চেক-ইন লাগেজে নিরাপদে প্যাক করুন। পাশাপাশি যে দেশে ফিরছেন, সেখানে খাবারদ্রব্য আমদানির নিয়মও জেনে নিন। অনেক দেশে মাংস, দুগ্ধজাত খাবার, তাজা ফল কিংবা বীজ নিয়ে প্রবেশে বিধিনিষেধ রয়েছে।
ভ্রমণের স্মারক মানেই যে দামি বা চোখধাঁধানো কিছু হতে হবে, এমন নয়। নতুন কোনও জায়গার স্থানীয় দোকান থেকে কেনা এক প্যাকেট চিপস, বিস্কুট কিংবা নুডলসও হয়ে উঠতে পারে বিশেষ স্মৃতি। বাড়ি ফিরে সেই খাবারের প্যাকেট খুললেই মনে পড়বে অচেনা শহরের রাস্তা, দোকান আর কাটানো সুন্দর মুহূর্তগুলি।