পরিবেশদূষণ কমাতে এ বার বড় উদ্যোগ ভারতীয় রেলের। ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতিপ্রাপ্ত কালকা-শিমলা রেলপথে চালু হতে পারে হাইড্রোজেনচালিত টয় ট্রেন। কেন্দ্রীয় সরকারের ‘হাইড্রোজেন ফর হেরিটেজ’ প্রকল্পের আওতায় এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। লক্ষ্য, পরিবেশবান্ধব রেল পরিষেবার পাশাপাশি শিবালিক পাহাড়ের প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষা করা।
হিমাচল প্রদেশের পাহাড়ি সৌন্দর্য উপভোগ করতে কালকা-শিমলা টয় ট্রেনে চড়েন বহু পর্যটক। প্রায় ১২০ বছরের পুরনো এই ঐতিহ্যবাহী রেলপথে এ বার যুক্ত হতে চলেছে আধুনিক প্রযুক্তি। ভারতীয় রেল মন্ত্রক এই পথে হাইড্রোজেনচালিত টয় ট্রেন চালুর পরিকল্পনা করছে। এর ফলে ডিজেলচালিত ট্রেনের পরিবর্তে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়বে। বিশেষ করে পরিবেশগত ভাবে সংবেদনশীল শিবালিক পাহাড়ি এলাকায় দূষণের মাত্রা কমানোই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
কেন্দ্রের ‘হাইড্রোজেন ফর হেরিটেজ’ প্রকল্পের আওতায় এই ট্রেন চালুর পরিকল্পনা করা হয়েছে। হাইড্রোজেনচালিত ট্রেনে ফুয়েল সেলের সাহায্যে বিদ্যুৎ তৈরি হয়। প্রচলিত ডিজেল ইঞ্জিনের মতো দূষণকারী ধোঁয়া নির্গত না করে এই প্রযুক্তিতে প্রধান উপজাত হিসেবে জল তৈরি হয়। ফলে রেল পরিষেবায় দূষণ কমানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
এই পরিকল্পনা অবশ্য নতুন নয়। ২০২৩ সালে কেন্দ্রীয় সরকার সারা দেশে ৩৫টি হাইড্রোজেনচালিত ট্রেন চালুর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিল। পরের বছর হিমাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী সুখবিন্দর সিং সুখু কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবকে চিঠি লিখে ঐতিহাসিক কালকা-শিমলা রেলপথে এমন ট্রেন চালুর অনুরোধ জানান।
এরপর রেলপথের সমীক্ষা সম্পন্ন করেছে ভারতীয় রেল। ট্রেনের জন্য প্রয়োজনীয় হাইড্রোজেন উৎপাদন কেন্দ্র তৈরির উদ্দেশ্যে বারোগ রেলস্টেশনকেও চিহ্নিত করা হয়েছে। উত্তর রেলের আধিকারিকেরা জানিয়েছেন, ২০২৪-২৫ সালের পরিকল্পনার মধ্যেও এই প্রকল্প রয়েছে। প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষ হলে পরীক্ষামূলকভাবে ট্রেন চালানো হতে পারে। তাদের মতে, এই উদ্যোগ ভারতের ন্যারো গেজ রেলপথের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে চলেছে। ব্রড গেজ রেলপথেও একই ধরনের হাইড্রোজেনচালিত ট্রেনের প্রকল্প নিয়ে কাজ চলছে।
তবে ১২০ বছরের পুরনো এই রেলপথে নতুন প্রযুক্তি চালু করা সহজ নয়। হাইড্রোজেনচালিত ট্রেন চালানোর জন্য বিশেষ প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা প্রয়োজন। রেল মন্ত্রকের অনুমোদন, প্রযুক্তিগত সম্ভাব্যতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার উপরেই পরিষেবা চালুর বিষয়টি নির্ভর করছে। পাশাপাশি এই পথে নতুন কোচ চালুসহ পরিকাঠামো আধুনিকীকরণের কাজও করছে ভারতীয় রেল।
১৮৯৮ থেকে ১৯০৩ সালের মধ্যে ব্রিটিশ আমলে তৈরি হয়েছিল ৯৬ কিলোমিটার দীর্ঘ কালকা-শিমলা রেলপথ। এই পথে রয়েছে ১০৩টি সুড়ঙ্গ এবং ৯০০-এরও বেশি সেতু। যাত্রাপথে শিবালিক পাহাড়ের মনোরম দৃশ্য উপভোগ করার সুযোগ মেলে। অসাধারণ নির্মাণশৈলী ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য ২০০৮ সালের জুলাই মাসে ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের স্বীকৃতি পায় এই রেলপথ।