পিঠে ব্যথা হলেই কি চোট বা আঘাতকে দায়ী করবেন? সব সময় তা নয়। অতিরিক্ত পরিশ্রম, দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা, ভুলভাবে শরীরচর্চা করা, এমনকি মানসিক চাপ থেকেও পিঠে ব্যথা হতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (হু) তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে অক্ষমতার অন্যতম প্রধান কারণ কোমরের নীচের দিকের ব্যথা। ২০৫০ সালের মধ্যে আক্রান্তের সংখ্যা ৮০ কোটিরও বেশি হতে পারে বলে অনুমান করা হয়।
অতিরিক্ত কাজ বা দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা
অস্টিয়োপ্যাথ হান্না হুইটকম্বের মতে, আগের দিনের কাজকর্মের প্রভাবেও সকালে ঘুম থেকে উঠে পিঠে ব্যথা হতে পারে। এক দিনে অতিরিক্ত পরিশ্রম করলে পেশি ও অস্থিসন্ধিতে ব্যথা দেখা দিতে পারে। আবার দীর্ঘক্ষণ ডেস্কে বসে থাকলেও পিঠে অস্বস্তি হয়। ফিজিয়োথেরাপিস্ট অ্যান্টনি বুশের মতে, কাজ, যাতায়াত এবং অবসরের সময় মিলিয়ে অনেকে দিনে প্রায় ১২ ঘণ্টা বসে কাটান। অন্য দিকে, রোয়িং বা জিমন্যাস্টিকসের মতো খেলায় বারবার একই ধরনের শারীরিক চাপ পড়লেও পিঠে ধকল তৈরি হতে পারে।
অতিরিক্ত সোজা হয়ে বসাও বিপজ্জনক
ছোটবেলা থেকেই সোজা হয়ে বসার পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু ঘণ্টার পর ঘণ্টা একই ভঙ্গিতে টানটান হয়ে বসে থাকলেও পেশিতে চাপ পড়তে পারে। অস্টিয়োপ্যাথ অনিশা যোশির মতে, বসার ভঙ্গি হওয়া উচিত স্বাভাবিক ও স্বচ্ছন্দ। মাঝেমধ্যে উঠে হাঁটাচলা করা এবং বসার ভঙ্গি বদলানো জরুরি। ভারী জিনিস তোলার সময়ও একটি নির্দিষ্ট ভঙ্গিকেই একমাত্র সঠিক মনে না করে নিজের শারীরিক সক্ষমতা অনুযায়ী সাবধানে কাজ করা উচিত।
মানসিক চাপও বাড়ায় ব্যথা
দীর্ঘদিনের উদ্বেগ ও মানসিক চাপ শরীরে পেশির টান তৈরি করতে পারে। কেন্টের অস্টিয়োপ্যাথ এমা হেওয়ার্ডের মতে, এর ফলে শরীরের স্বাভাবিক নড়াচড়ায় বাধা তৈরি হয় এবং সামান্য ধকলেও ব্যথা বেড়ে যেতে পারে। তাই পিঠের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা সামলাতে শারীরিক চিকিৎসার পাশাপাশি মানসিক সুস্থতার দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন।
পিঠে ব্যথা হলেই এমআরআই নয়
পিঠে ব্যথা হলেই এমআরআই করানোর প্রয়োজন নেই। ফিজিয়োথেরাপিস্ট অ্যান্টনি বুশের মতে, স্ক্যানে মেরুদণ্ডের ডিস্কে স্ফীতি বা অস্থিসন্ধির ক্ষয়ের চিহ্ন দেখা গেলেও অনেকের কোনও ব্যথা থাকে না। বয়স বাড়ার সঙ্গে মেরুদণ্ডে এমন কিছু পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই দেখা দিতে পারে। তাই সাধারণ পিঠের ব্যথায় নিয়মিত স্ক্যানের পরামর্শ দেওয়া হয় না। তবে নির্দিষ্ট উপসর্গ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শে পরীক্ষা করানো জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পিঠে ব্যথার পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। তাই দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা এড়ানো, নিয়মিত শরীরচর্চা, কাজের ফাঁকে বিশ্রাম এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি। ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হলে বা বাড়তে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
ফিজিয়োথেরাপিস্ট নিল ও'কনেলও জানিয়েছেন, স্ক্যানে ধরা পড়া অনেক পরিবর্তনই বয়স বাড়ার স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ। যেমন বয়সের সঙ্গে মুখে বলিরেখা পড়ে, তেমনই মেরুদণ্ডেও কিছু পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। তাই সাধারণ পিঠের ব্যথার ক্ষেত্রে নিয়মিত স্ক্যান করানোর পরামর্শ দেওয়া হয় না। তবে নির্দিষ্ট উপসর্গ বা চিকিৎসকের পরামর্শ থাকলে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করাতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্ক্যানে কোনও পরিবর্তন ধরা পড়লেই নিজেকে অসুস্থ বা অক্ষম ভাবার কারণ নেই। পিঠে ব্যথা অনেকের জীবনেই ওঠানামা করে। সুস্থ হতে সময় লাগে। তাই ধৈর্য ধরে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা, শরীরের স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা বজায় রাখা এবং দৈনন্দিন অভ্যাসে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা জরুরি।