বেলজিয়ামের ব্রুজ শহরের পর্যটক ভিড়ের আড়ালে অনেক সময়ই হারিয়ে যায় আরেক ঐতিহাসিক শহর ঘেন্ট। অথচ শেল্ড নদী ও এর শাখা লাই নদীর তীরে গড়ে ওঠা এই শহরটি ইউরোপের অন্যতম আকর্ষণীয় খালনগরী, যেখানে মধ্যযুগীয় ঐতিহ্য আর আধুনিক নগরজীবনের রয়েছে অনন্য মেলবন্ধন।
ছোট, পরিচ্ছন্ন এবং শহরের বেশির ভাগ অংশ যানবাহনমুক্ত হওয়ায় ঘেন্ট ঘুরে দেখার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো হাঁটা। সরু পাথরের রাস্তা, খালের পাশের পুরোনো ভবন আর ঐতিহাসিক স্থাপত্য সব মিলিয়ে শহরটি যেন অতীতের এক জীবন্ত জাদুঘর।
প্রায় ১ হাজার ৪০০ বছরের ইতিহাস বহনকারী ঘেন্টে ছড়িয়ে আছে নানা যুগের স্মৃতি। মধ্যযুগীয় দুর্গ গ্রাভেনস্টিন শহরের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। একসময়কার এই দুর্গ এখন পর্যটকদের কাছে ঘেন্টের সমৃদ্ধ ইতিহাস জানার অন্যতম স্থান।
শহরের আরও একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো তিনটি ঐতিহাসিক বেগুইনেজ। এগুলো ছিল এমন শান্ত প্রাঙ্গণ, যেখানে একসময় ধর্মীয় জীবনযাপন করা নারীরা বসবাস করতেন। তবে তারা সন্ন্যাসিনীদের মতো আনুষ্ঠানিক ধর্মীয় প্রতিজ্ঞায় আবদ্ধ ছিলেন না। এসব স্থাপনা আজও ঘেন্টের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে আছে।
পুরোনো ঐতিহ্যের পাশে আধুনিকতার স্পর্শ
ইতিহাসের শহর হলেও ঘেন্ট কেবল অতীত আঁকড়ে থাকা কোনো নগরী নয়। আধুনিক শিল্প ও সংস্কৃতিতেও শহরটির রয়েছে আলাদা পরিচিতি।
ইউরোপের স্ট্রিট আর্ট বা দেয়ালচিত্র সংস্কৃতির অগ্রগামী শহরগুলোর একটি ঘেন্ট। শহরের বিভিন্ন দেয়ালে দেখা যায় রঙিন ও সৃজনশীল শিল্পকর্ম, যা পুরোনো স্থাপত্যের সঙ্গে তৈরি করেছে এক ভিন্নধর্মী বৈপরীত্য।
শুধু শিল্প নয়, পুরোনো দিনের সংগ্রহযোগ্য সামগ্রী, ভিনটেজ পণ্য ও অ্যান্টিক দোকানের জন্যও ঘেন্ট পরিচিত। এসব দোকান শহরের ঐতিহ্যপ্রেমী পর্যটকদের কাছে বাড়তি আকর্ষণ তৈরি করে।
খালের ধারে এক কাপ পানীয়ের অভিজ্ঞতা
ঘুরে বেড়ানোর ক্লান্তি কাটাতে লাই নদীর তীরে বসে স্থানীয় পরিবেশ উপভোগ করা হতে পারে ঘেন্ট ভ্রমণের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত।
ঐতিহ্যবাহী পাব হেট ওয়াটারহাউস আান দে বিয়ারকান্টে বসে নদীর দৃশ্য, পুরোনো ভবনের সারি আর স্থানীয় আবহ উপভোগ করা যায়। বেলজিয়ামের বিখ্যাত পানীয় সংস্কৃতির স্বাদ নেওয়ার পাশাপাশি এখান থেকে অনুভব করা যায় ঘেন্টের ধীর, শান্ত জীবনধারা।
ইতিহাস, খাল, শিল্প আর আধুনিকতার সমন্বয়ে ঘেন্ট আজ বেলজিয়ামের এমন এক গন্তব্য, যেখানে প্রতিটি রাস্তা ও ভবন অতীতের গল্প বলে, আবার একই সঙ্গে নতুন সময়ের সঙ্গেও তাল মিলিয়ে চলে।









