যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে রয়েছে এমন এক জলাভূমি, যেখানে একই সঙ্গে দেখা মিলতে পারে হাজারো পাখি, সাপ, অ্যালিগেটর, ববক্যাট ও নদীর উদবিড়ালের। বিশাল এই বন্যভূমির নাম ওকেফেনোকি ন্যাশনাল ওয়াইল্ডলাইফ রিফিউজ। প্রায় ৪ লাখ একরজুড়ে বিস্তৃত এই জলাভূমি এখন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও পেয়েছে। চলতি বছরের গ্রীষ্মে ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে ওকেফেনোকি।
ইউএস ফিশ অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ সার্ভিসের পরিচালিত এই সংরক্ষিত জলাভূমি জীববৈচিত্র্যের দিক থেকে অত্যন্ত সমৃদ্ধ। এখানে অন্তত ২০০ প্রজাতির পাখি এবং ৩৬ ধরনের সাপের দেখা মেলে। পাশাপাশি রয়েছে ববক্যাট, শিয়াল, নদীর উদবিড়ালসহ নানা ধরনের বন্যপ্রাণী। তবে এই জলাভূমির সবচেয়ে আলোচিত বাসিন্দা অ্যালিগেটর। এখানে আনুমানিক ১৫ হাজার অ্যালিগেটর রয়েছে বলে ধারণা করা হয়।
শুধু প্রাণী নয়, ওকেফেনোকির উদ্ভিদজগতও বেশ বৈচিত্র্যময়। জলাভূমির বিভিন্ন অংশে জন্মে পিচার প্ল্যান্ট, সানডিউসহ নানা ধরনের মাংসাশী উদ্ভিদ। পোকামাকড় ধরে এসব উদ্ভিদ নিজেদের প্রয়োজনীয় পুষ্টির একটি অংশ সংগ্রহ করে।
ওকেফেনোকির বিশাল জলাভূমি ঘুরে দেখার সবচেয়ে আকর্ষণীয় উপায় হাঁটা নয়, বরং জলপথে যাত্রা। ক্যানোয়িং কিংবা গাইডের সঙ্গে নৌভ্রমণে জলাভূমির আরও গভীরে পৌঁছানো যায়। নৌকার ধীর গতির সঙ্গে এগোতে এগোতে চারপাশে দেখা যায় জলজ উদ্ভিদ, ঘন সাইপ্রেস বন এবং নানা ধরনের পাখি ও বন্যপ্রাণী।
যারা পায়ে হেঁটে জলাভূমি দেখতে চান, তাঁদের জন্য রয়েছে চেসার আইল্যান্ড বোর্ডওয়াক। প্রায় দেড় মাইলের যাওয়া-আসার এই পথ সাইপ্রেস বন ও জলাভূমির প্রান্তর পেরিয়ে পৌঁছে যায় আউলস রুস্ট টাওয়ারে। প্রায় ৪০ ফুট উঁচু এই পর্যবেক্ষণ মঞ্চ থেকে চারপাশের জলাভূমির বিস্তৃত দৃশ্য দেখা যায়।
প্রকৃতির এই বিশাল রাজ্যে ঘুরতে গেলে অবশ্য প্রস্তুতিও জরুরি। জলাভূমির পরিবেশে মশা ও অন্যান্য পোকামাকড়ের উপদ্রব থাকতে পারে। তাই ভ্রমণের সময় পোকামাকড় প্রতিরোধের স্প্রে সঙ্গে রাখা দরকার।
প্রকৃতি, বন্যপ্রাণী ও জলাভূমির বিরল সমন্বয়ের কারণে ওকেফেনোকি শুধু জর্জিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক এলাকা নয়, বরং এখন বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশও। পর্যটকদের কাছে জায়গাটি তাই হয়ে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্রের অপেক্ষাকৃত কম পরিচিত, কিন্তু অসাধারণ সবুজ গন্তব্যের একটি।









