পৃথিবীর যে জলে ডোবা কঠিন

ফিচার ডেস্ক
১৫ আগস্ট ২০২৬, ১৬:৪২আপডেট : ১৫ আগস্ট ২০২৬, ১৬:৪২

মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম পরিচিত প্রাকৃতিক বিস্ময় ডেড সি। নামের মধ্যে ‘সি’ থাকলেও এটি আসলে একটি স্থলবেষ্টিত অতিলবণাক্ত হ্রদ। ইজ়রায়েল ও জর্ডনের মাঝামাঝি এলাকায় অবস্থিত এই জলভাগ সমুদ্রপৃষ্ঠের তুলনায় অনেক নিচে। চারপাশের শুষ্ক পাহাড়ি ভূদৃশ্য আর নীলচে জলের বৈপরীত্যই প্রথম দেখায় নজর কাড়ে।

জলে নামলেই সাঁতার কাটতে হয়, এমন ধারণা এই ডেড সি-তে গিয়ে বদলে যায়। এখানে পানিতে চিৎ হয়ে শুয়ে থাকলেও শরীর সহজে ডুবে যায় না। লবণের অস্বাভাবিক ঘনত্বের কারণে মৃত সাগরের জলে ভেসে থাকার অভিজ্ঞতা ভ্রমণপ্রিয়দের কাছে হয়ে উঠেছে এক অনন্য আকর্ষণ।

ভ্রমণপ্রিয়দের কাছে অনন্য আকর্ষণ ডেড সি। ছবি: সংগৃহীত।

পানিতে ভেসে থাকা যায় কেন?

ডেড সির সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য তার পানিতে দ্রবীভূত লবণের বিপুল পরিমাণ। সাধারণ সমুদ্রের জলের তুলনায় এখানে লবণাক্ততা অনেক বেশি। ফলে পানির ঘনত্বও বেড়ে যায়। শরীরের তুলনায় পানির ঘনত্ব বেশি হওয়ায় জলে নামলে শরীরকে ভাসিয়ে রাখার প্রবণতা তৈরি হয়।

তাই এখানে সাঁতার কাটার চেয়ে পানিতে চিৎ হয়ে ভেসে থাকার অভিজ্ঞতাই বেশি জনপ্রিয়। অনেক পর্যটক বই বা পত্রিকা হাতে নিয়ে জলের ওপর ভেসে থাকার ছবি তোলেন, যা ডেড সির অন্যতম পরিচিত দৃশ্য।

ডেড সির আশপাশের প্রাকৃতিক দৃশ্যও কম আকর্ষণীয় নয়। ছবি: সংগৃহীত।

নাম ‘ডেড সি’ কেন?

অত্যধিক লবণাক্ততার কারণে ডেড সির পানিতে অধিকাংশ জলজ প্রাণীর বেঁচে থাকা সম্ভব নয়। সেই কারণেই এর নাম হয়েছে ‘ডেড সি’ বা মৃত সাগর। তবে নামের সঙ্গে ‘মৃত’ শব্দটি থাকলেও এর পরিবেশ একেবারে প্রাণহীন নয়। বিশেষ ধরনের অণুজীব এখানে টিকে থাকতে পারে।

শুধু ভেসে থাকাই নয়

ডেড সি-কে ঘিরে আরও একটি জনপ্রিয় আকর্ষণ হল এর খনিজসমৃদ্ধ কাদা। পর্যটনকেন্দ্রগুলিতে এই কাদা শরীরে মাখার অভিজ্ঞতা পাওয়া যায়। খনিজসমৃদ্ধ কাদা ত্বকের জন্য উপকারী—এমন প্রচলিত ধারণা থাকলেও এর সব দাবির পক্ষে সমান শক্তিশালী বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। তাই এটিকে চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে না দেখাই ভালো।

ডেড সির খনিজসমৃদ্ধ কাদা। ছবি: সংগৃহীত।

ডেড সির আশপাশের প্রাকৃতিক দৃশ্যও কম আকর্ষণীয় নয়। শুষ্ক পাহাড়, মরুভূমির আবহ এবং নীল জলের মিলনে তৈরি হয় নাটকীয় এক ভূদৃশ্য। সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময় এই সৌন্দর্য আরও চোখে পড়ে।

ভ্রমণে গেলে সাবধানতা জরুরি

ডেড সির পানিতে ভেসে থাকা মজার হলেও এখানে সাঁতার কাটার সময় কিছু সতর্কতা জরুরি। চোখ বা মুখে পানি গেলে প্রবল জ্বালা হতে পারে। তাই পানিতে ঝাঁপ দেওয়া কিংবা ইচ্ছাকৃতভাবে মুখ পানিতে ডোবানো উচিত নয়।

শরীরে কাটা বা ক্ষত থাকলে লবণাক্ত পানিতে অস্বস্তি ও জ্বালা আরও বাড়তে পারে। আবার দীর্ঘ সময় পানিতে থাকলেও ত্বকে অস্বস্তি হতে পারে। তাই নির্দিষ্ট পর্যটন এলাকার নির্দেশনা মেনে অল্প সময় পানিতে থাকাই নিরাপদ।

প্রকৃতির এক অদ্ভুত অভিজ্ঞতা

ডেড সি-র সবচেয়ে বড় আকর্ষণ কোনও প্রাচীন স্থাপত্য বা আধুনিক বিনোদন নয়। প্রকৃতিই এখানে মূল নায়ক। এমন এক জলভাগ, যেখানে পানিতে নেমে ডুবে যাওয়ার বদলে ভেসে থাকার অভিজ্ঞতা পাওয়া যায়, সেটিই ডেড সিকে অন্য সব ভ্রমণস্থান থেকে আলাদা করে।

মধ্যপ্রাচ্য ভ্রমণের তালিকায় তাই ইতিহাস ও সংস্কৃতির পাশাপাশি প্রকৃতির এই অদ্ভুত খেলাও দেখতে চাইলে ডেড সি হতে পারে এক স্মরণীয় স্থান।

/এমএএল/
সম্পর্কিত
রাজকীয় আমলের স্মৃতি নিয়ে দাঁড়িয়ে দিঘাপতিয়া রাজবাড়ি
পাহাড়, গোলাপ আর মেঘে ঘেরা সৌদি আরবের তাইফ
ভিড় এড়িয়ে ইউটাহর পাথুরে গোলকধাঁধায় রোমাঞ্চ
সর্বশেষ খবর
দেশের বিভিন্ন স্থানে ইন্টারনেটে ধীরগতি, কারণ কী
দেশের বিভিন্ন স্থানে ইন্টারনেটে ধীরগতি, কারণ কী
বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে ডিএনসিসি প্রশাসকের শ্রদ্ধা
বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে ডিএনসিসি প্রশাসকের শ্রদ্ধা
কিশোরগঞ্জে ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ সেবায়েতদের সম্মানী দেবেন প্রধানমন্ত্রী
কিশোরগঞ্জে ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ সেবায়েতদের সম্মানী দেবেন প্রধানমন্ত্রী
নোয়াখালী থেকে শ্রীনগর: ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট কী করছিলেন গান্ধী, নেহেরু, জিন্নাহ ও ফয়েজ
নোয়াখালী থেকে শ্রীনগর: ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট কী করছিলেন গান্ধী, নেহেরু, জিন্নাহ ও ফয়েজ
সর্বাধিক পঠিত
আয়কর বিবরণী যাচাইয়ে এনবিআরের নতুন নির্দেশনা
আয়কর বিবরণী যাচাইয়ে এনবিআরের নতুন নির্দেশনা
যে কারণে নীরবে উদ্বোধন হলো ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রীস্তম্ভ পার্ক
যে কারণে নীরবে উদ্বোধন হলো ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রীস্তম্ভ পার্ক
গুলিভর্তি ব্যাগ নিয়ে চেকিং পয়েন্ট পার হয়েছেন আশিয়ানের এমডি, শাস্তি পাচ্ছেন ২ অপারেটর
গুলিভর্তি ব্যাগ নিয়ে চেকিং পয়েন্ট পার হয়েছেন আশিয়ানের এমডি, শাস্তি পাচ্ছেন ২ অপারেটর
ঋণের চাপে সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন দেওয়াও কঠিন হতে পারে: বিদ্যুৎমন্ত্রী
ঋণের চাপে সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন দেওয়াও কঠিন হতে পারে: বিদ্যুৎমন্ত্রী
আবার বন্ধ এক্সিলারেটের এলএনজি টার্মিনাল
আবার বন্ধ এক্সিলারেটের এলএনজি টার্মিনাল