চূড়ান্ত রায়ে ফাঁসির দণ্ড বহাল থাকা জামায়াতের আমির ও শীর্ষ মানবতাবিরোধী অপরাধী মতিউর রহমান নিজামীর ক্ষমা চাওয়ার বিষয়ে নিজামী ও তার পরিবারই সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী এস এম শাহজাহান। বৃহস্পতিবার রায়ের পর জানানো তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ কথা জানান।
চূড়ান্ত বিচারেও ফাঁসির দণ্ড বহাল থাকার বিষয়ে নিজামীর এই আইনজীবী বলেন, আপিলের রিভিউ খারিজ হয়ে যাওয়ার মধ্য দিয়ে আইনি লড়াই শেষ হয়েছে। তিনি (নিজামী) মার্সি (ক্ষমা) চাইবেন কি না- এটা তার এবং তার পরিবারের সিদ্ধান্তের বিষয়।
তিনি আরও বলেন, রিভিউর রায়ের কপি প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা যাবে না। এ ছাড়া কপি পাওয়ার পর প্রাণভিক্ষা চাইবেন কি না, সে বিষয়ে নিজামী নিজেই সিদ্ধান্ত নেবেন। তবে আমরা তার সাক্ষাৎ চাইব।
প্রসঙ্গত, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ বৃহস্পতিবার নিজামীর রিভিউ খারিজ করে রায় দেয়। এর ফলে যুদ্ধাপরাধের দায়ে সর্বোচ্চ সাজার আদেশ পাওয়া জামায়াত আমিরের সামনে কেবল কৃতকর্মের জন্য অনুশোচনার কথা জানিয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার সুযোগ বাকি রয়েছে।
এর আগে, ২০১৪ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এ মামলার রায়ে নিজামীকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন। মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত ঝুলিয়ে দণ্ড কার্যকর করার আদেশ দিয়ে রায়ে বলা হয়, আদালত সম্মত হয়েছেন যে, তিনি (নিজামী) যে মাত্রায় হত্যা-গণহত্যা ঘটিয়েছেন তাতে সর্বোচ্চ সাজা না দিলে তা হবে ন্যায়বিচারের ব্যর্থতা। ২০১০ সালে মানবতাবিরোধী অপরাধের বহু প্রতীক্ষিত বিচার শুরুর পর আপিলে রায়ের পর্যায়ে আসা সপ্তম মামলা এটি। বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় পাবনায় হত্যা, ধর্ষণ ও বুদ্ধিজীবী গণহত্যার দায়ে ২০১৪ সালের ২৯ অক্টোবর নিজামীকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
/ইউআই/এমও/এজে/








