জঙ্গি হামলার ঘটনা তদন্তে আমরাই যথেষ্ট: ডিএমপি কমিশনার

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
০৯ জুলাই ২০১৬, ১৭:১৬আপডেট : ০৯ জুলাই ২০১৬, ১৭:৩০


ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া জঙ্গি হামলার ঘটনা তদন্তে দেশের গোয়েন্দারা সক্ষম বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া। তিনি বলেন, সন্ত্রাসীদের হাতে নিরপরাধ মানুষের জিম্মি  হওয়ার মতো ঘটনা বাংলাদেশে প্রথম। আর এই জঙ্গি হামলার তদন্তে আমরাই যথেষ্ট। তবে তদন্তের প্রয়োজনে বিদেশি সংস্থাগুলোর কারিগরি সহায়তা নেওয়া যেতে পারে। শনিবার নিজ কার্যালয়ে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। এটি আইনশৃঙ্খলার সমস্যা নয়, এটি জাতীয় সমস্যা। তাই জাতীয় ঐকমত্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, গুলশান হামলার ঘটনায় অংশগ্রহণকারীদের প্রায় সবাই উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তান এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। শোলাকিয়ায় বোমা হামলাকারী আবির রহমানের সামাজিক অবস্থানও একই রকম। এ অবস্থায় জঙ্গিবাদ পারিবারিক, সামাজিক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সহায়তা জরুরি। একইসঙ্গে জঙ্গিবাদ মোকাবিলায় পুলিশ বাহিনীর প্রশিক্ষণেও পরিবর্তন আনা হবে।
গত ১ জুলাই (শুক্রবার) রাতে গুলশান-২-এর ৭৯ নম্বর সড়কের হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা চালায় জঙ্গিরা। এতে ২ পুলিশ সদস্য, ১৭ বিদেশি নাগরিক ও তিন বাংলাদেশি নিহত হন। পরে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে ছয় জঙ্গি নিহত হন বলে শনিবার সেনাসদরে এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। ওই ছয় জনের একজন ছিলেন হলি আর্টিজান বেকারির শেফ সাইফুল ইসলাম চৌকিদার। আহত অবস্থায় উদ্ধার হওয়া বাবুর্চির সহকারী জাকির হোসেন শাওন শুক্রবার বিকেলে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তাকেও সন্দেহভাজন হিসেবে পুলিশ পাহারায় চিকিৎসা দেওয়া হয়। অভিযানে জীবিত উদ্ধার করা হয় তিন বিদেশি নাগরিকসহ ১৩ জিম্মিকে।
ঘটনার চারদিনের মাথায় এ ঘটনায় গুলশান থানায় সন্ত্রাস দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করে পুলিশ। মামলাটির তদন্ত করছে ডিএমপি’র কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্র্যান্স ন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট। এরমধ্যে ঘটনাস্থল  থেকে  আলামত সংগ্রহ ও আটক সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।
গুলশানে জঙ্গি হামলায় নিহতদের মধ্যে ৯ জন ইতালির, ৭ জন জাপানি ও ১ জন ভারতের নাগরিক। বাকি ৩ জন বাংলাদেশি, যাদের মধ্যে একজনের যুক্তরাষ্ট্রেরও নাগরিকত্ব ছিল। নিহত ৭ জাপানির মধ্যে ৬ জনই মেট্রোরেল প্রকল্পের কাজে নিয়োজিত ছিলেন।

আরও পড়তে পারেন: একবছর আগে আর্টিজানে, এখন নিখোঁজ!

/জেইউ/এমএনএইচ/

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
চীনের বিশ্ববিদ্যালয় ও স্কুলে প্রদর্শিত হবে বাংলাদেশের তথ্যচিত্র ‘পায়ের ছাপ’
চীনের বিশ্ববিদ্যালয় ও স্কুলে প্রদর্শিত হবে বাংলাদেশের তথ্যচিত্র ‘পায়ের ছাপ’
বাবা-মেয়েসহ ইজিবাইকের ৩ যাত্রী নিহত
বাবা-মেয়েসহ ইজিবাইকের ৩ যাত্রী নিহত
‘বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত জনদুর্ভোগকে আরও তীব্র করবে’
‘বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত জনদুর্ভোগকে আরও তীব্র করবে’
নজরুলের ‘কাণ্ডারী হুঁশিয়ার’ গানের শতবর্ষ পালনের আহ্বান ১৪ সাংস্কৃতিক সংগঠনের
নজরুলের ‘কাণ্ডারী হুঁশিয়ার’ গানের শতবর্ষ পালনের আহ্বান ১৪ সাংস্কৃতিক সংগঠনের
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ