রাকিব ও পারভেজ ১৪ বছর বয়সী দুই শিশু। বাসাও পাশাপাশি। রাজধানীর দারুস সালাম থানার ছোট দিয়াবাড়ির ৩৫ নম্বর বাসার পঞ্চম তলার দুই দিকের দুই ফ্ল্যাটে থাকে তারা। কিন্তু মিল নেই দু’জনের মধ্যে। প্রায়ই ঝগড়াঝাটি লেগে থাকতো রাকিব ও পারভেজের মধ্যে।
এরই জের ধরে রাকিব পরিকল্পনা করে পারভেজের চার বছর বয়সী ছোট বোন খাদিজা ওরফে জান্নাতকে খুন করার।
পরিকল্পনা মতো ডালিম খাওয়ানোর কথা বলে বুধবার দুপুরের পর নিজ বাসায় জান্নাতকে ডেকে নেয় রাকিব। এরপরই ঘটে নিষ্ঠুরতম ঘটনা। জান্নাতকে প্রথমে গলা টিপে হত্যা করার চেষ্টা করে রাকিব। না পেরে জবাই করে। এরপর বাম হাতের কনুই আর ডান হাঁটু কেটে ফেলে। মৃত্যু নিশ্চিত হলে প্লাস্টিকের ব্যাগে ঢোকানো হয় জান্নাতের মরদেহ। তারপর তা ফেলে রাখে বেলকনিতে।
বুধবার মধ্যরাতে পুলিশের হাতে গ্রেফতারের পর এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দিয়েছে রাকিব হোসেন। বৃহস্পতিবার আদালতে সে এ বিষয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দেয়।
এদিকে, মা রানু বেগমকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে দারুস সালাম থানা পুলিশ।
এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান জানান, পুলিশ এ ঘটনায় মা ও ছেলেকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃত রাকিব শিশু জান্নাতকে হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছে।
পুলিশ জানায়, দারুস সালাম থানার ছোট দিয়াবাড়ির ৩৫ নম্বর বাসার পঞ্চমতলায় স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে থাকেন বালুবাহী ট্রলারের সুকানি মাসুম। তিনি বালু নিয়ে নারায়ণগঞ্জের দিকে যাচ্ছিলেন। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে স্ত্রী পারভীন তাকে জানান, তাদের কন্যা সন্তান খাদিজা ওরফে জান্নাতকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। পরে তিনি দ্রুত বাসায় ফিরে আসেন। বাসার আশেপাশে ও আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতে খোঁজ করে মেয়েকে না পেয়ে রাতেই তিনি দারুস সালাম থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং ১৭৮) করেন।
পরে পুলিশও ওই বাসায় গিয়ে শিশুটিকে খোঁজ করে। রাতে এক পর্যায়ে রাকিবের বাবা পুলিশকে জানান, তাদের বাসার পশ্চিম দিকের বেলকনিতে রক্ত দেখা যাচ্ছে। পুলিশ তাৎক্ষণিক সেখানে গিয়ে একটি নীল রঙের প্লাস্টিকের ব্যাগ দেখতে পায়। এরপর ওই ব্যাগ থেকে শিশু জান্নাতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
তার মরদেহ একটি চেক লুঙ্গি দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছিল। মরদেহ উদ্ধারের পর পুলিশ ওই বাসার বাসিন্দা রাকিব ও তার মা রানু বেগমকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করে। এরপরই তারা হত্যাকাণ্ডের পুরো ঘটনা জানতে পারে।
দারুস সালাম থানা পুলিশ জানায়, পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে রাকিব জানায়, জান্নাতের বড় ভাই পারভেজের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তার ঝগড়া হতো। এ কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে সে জান্নাতকে হত্যার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সে জান্নাতকে ডালিম খাওয়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে বাসায় ডেকে নিয়ে যায়। পরে বিকেল সোয়া ৫টার দিকে তাকে প্রথমে গলা টিপে, পরে জবাই করে।
পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের পর রাকিবের মা বিষয়টি জানতে পারেন। কিন্তু তিনি নিজের ছেলেকে বাঁচাতে লাশ গুম করার চেষ্টা করেন। মা-ছেলে মিলে লাশ প্লাস্টিকের ব্যাগে ঢুকিয়ে বেলকনিতে ফেলে রাখেন। রাতের কোনও এক সময়ে মরদেহটি বাইরে নেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন তারা।
দারুস সালাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিমুজ্জামান জানান, এ ঘটনায় নিহত শিশুটির বাবা বাদী হয়ে দারুস সালাম থানায় হত্যা ও লাশ গুমের অভিযোগে একটি মামলা (নম্বর ৭) দায়ের করেছেন।
তিনি বলেন, মূল খুনি রাকিব আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। আর মা রানু বেগমকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
/এনএল/এবি/







