সাংগঠনিক সিদ্ধান্তে বিয়ে, আরও জঙ্গি দম্পতির খোঁজে র‌্যাব

নুরুজ্জামান লাবু
০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৬, ২১:৫৯আপডেট : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৬, ২২:২৩



জঙ্গি দম্পতি মারজিয়া আক্তার সুমি ও শরিফুল ইসলাম ওরফে সুলতান মাহমুদ তাপস ওরফে মাহমুদ এবং  আমিনুল ইসলাম ও নাহিদা সুলতানা সাংগঠনিক সিদ্ধান্তে বিয়ে করছে জঙ্গি সদস্যরা। স্বামী-স্ত্রী দুজন মিলে চালিয়ে যাচ্ছে জঙ্গি কর্মকাণ্ড। সাধারণ মানুষের মতো বাসা ভাড়া নিয়ে থাকছে তারা। ফলে সহজেই কেউ সন্দেহ করতে পারছে না। এটা তাদের একটি কৌশল। বুধবার র‌্যাব এমন দুই দম্পতিকে গ্রেফতার করেছে। র‌্যাব কর্মকর্তারা বলছেন, এ রকম আরও কয়েকটি জঙ্গিদম্পতির সন্ধান পেয়েছেন তারা। তাদের গ্রেফতারে অভিযান চালানো হচ্ছে। র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান বলেন, সাংগঠনিক সিদ্ধান্তে জঙ্গিরা বিয়ে করে জঙ্গি কার্যক্রম চালাচ্ছে। এমনকি স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে প্রশিক্ষণ নিয়ে জিহাদের জন্য প্রস্তুতিও নিচ্ছে।
বুধবার সকালে র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখা ও র‌্যাব-২-এর যৌথ একটি দল ফার্মগেট এলাকা থেকে মারজিয়া আক্তার সুমি ও শরিফুল ইসলাম ওরফে সুলতান মাহমুদ তাপস ওরফে মাহমুদ এবং নারায়ণগঞ্জ এলাকা থেকে আমিনুল ইসলাম ও নাহিদা সুলতানা নামে দুই জঙ্গি দম্পতিকে গ্রেফতার করে। র‌্যাব কর্মকর্তার জানান, চলতি বছরের ২১ জুলাই জেএমবি’র দক্ষিণাঞ্চলের আমির মাহমুদুল হাসানসহ ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্য মতে, গত ১৫ আগস্ট জেএমবির নতুন ধারার নারী দলের নেত্রী আকলিমা রহমান ওরফে মনিসহ চার নারীকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে জেএমবি নারীরা শাখার সংগঠনের বেশ কিছু তথ্য র‌্যাবের হাতে আসে। এরই ধারাবাহিকতায় দুই দম্পতিকে গ্রেফতার করা হয়।
র‌্যাব কর্মকর্তারা জানায়, সম্প্রতি জেএমবি তাদের মহিলা শাখাটিকে সংগঠিত করার চেষ্টা করছে। এ কারণে সংগঠনে নারীদের জড়িত করা হচ্ছে বেশি। একইসঙ্গে সাংগঠনিক সিদ্ধান্তে পরস্পর বিয়ে করছে। গত ২০ আগস্ট সংগঠনের সিদ্ধান্তেই মারজিয়া আক্তার সুমি ও সুলতান মাহমুদ গাজীপুরের একটি কাজী অফিসে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। ওই সময় গ্রেফতারকৃত আমিনুল ছাড়াও সংগঠনের অন্য সদস্যদের মধ্যে শিপন, নাইমুর ও খোকন উপস্থিত ছিল। বিয়ের পর তারা গাজীপুর কোনাবাড়ীর সবুজ কানন এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতো। তাদের বাসায় সংগঠনের অন্য এক শীর্ষ নেতা জহিরের নিয়মিত যাতায়াত ছিল।
র‌্যাব সূত্র জানায়, গ্রেফতারকৃত নাহিদা সুলতানা ও আমিনুল বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয় চলতি বছরের ২২ মে। টঙ্গি কলেজগেইট এলাকার একটি কাজী অফিসে বিয়ে হওয়ার সময় সংগঠনের অন্য সদস্যরাও উপস্থিত ছিল। এরমধ্যে আশরাফুল হক, মাদারীপুরে কলেজ শিক্ষক হত্যাচেষ্টায় গ্রেফতার হয়ে পরে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত ফয়জুল্লাহ ফাহিম এবং ফরহাদ উপস্থিত ছিল।
র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখার পরিচালক লে. কর্নেল আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘জঙ্গিদের নিজেদের মধ্যে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়াটা একটা কৌশল। যেন জঙ্গি কার্যক্রমের তথ্য বাইরের কেউ না জানতে পারে, এ জন্য তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। এরকম আরও কয়েকটি দম্পতির সন্ধান পাওয়া গেছে। তাদের ধরতে অভিযান চালানো হচ্ছে।’
যোগাযোগ করত বিশেষ অ্যাপসে
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত জঙ্গি সদস্যরা জানিয়েছে, তারা বিশেষ অ্যাপসের মাধ্যমে যোগাযোগ করত। জিজ্ঞাসাবাদে শরীফুল ওরফে সুলতান মাহমুদ জানিয়েছে, সে টেলিগ্রাম অ্যাপসের মাধ্যমে অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করত। গত মার্চ মাসে মিজান নামে একজনের সঙ্গে তার উত্তরা আজমপুরে দেখা হয়। সে তাকে আজমপুর ছাপরা মসজিদের কাছে এক বাসায় নিয়ে যায়। সেখানে আরও ১০-১২ জন কথিত দ্বিনি ভাইয়ের সঙ্গে তার দেখা হয়। মিজান তাকে শেয়ারইটের মাধ্যমে টেলিগ্রাম, থ্রিমা, ফ্রিডম বিপিএন অ্যাপস দেয়। একই সঙ্গে টেলিগ্রাম ও থ্রিমা অ্যাপসে একাউন্ট খুলে দেয়। মারজিয়া আক্তার সুমি জানিয়েছে, মাহমুদ তাকে বলেছে, মোবাইল বা ফেসবুকে সাংগঠনিক কথাবার্তা বলা নিরাপদ না। এজন্য তাকেও টেলিগ্রামে একটি আইডি খুলে দিয়ে পরস্পরিক যোগাযোগ করার জন্য বলে। মারজিয়া জানায়, সে বেশ কিছুদিন আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে জেএমবি’র সঙ্গে সংযুক্ত হয়।
হরেক রকম ছদ্ম পরিচয় ছিল জঙ্গিদের র‌্যাব সূত্র জানায়, নানা রকম ছদ্মনামে বা পরিচয়ে অনলাইনে পারস্পারিক যোগাযোগ রক্ষা করত জঙ্গি সদস্যরা। এমনকি নানা নামের গ্রুপ খুলেও জঙ্গি কার্যক্রম পরিচালনা করত তারা। জিজ্ঞাসাবাদে মারজিয়া আক্তার সুমি জানিয়েছে, চলতি বছরের জুন মাসে সে ‘প্রভাতের আলো’ নামে একটি গ্রুপে অ্যাড হয়। ওই গ্রুপের সদস্য ‘কোটিপতির জামাই’ নামের একটি আইডির সঙ্গে তার যোগাযোগ ও ম্যাসেজ আদান-প্রদান হতো। এছাড়া ‘কালো পাখি’ নামের আরেকটি আইডির সঙ্গে কথা হতো তারা। পরবর্তী সময়ে সে জানতে পারে আইডিটি শরিফুল ইসলাম ওরফে সুলতান মাহমুদের।
র‌্যাব সূত্র জানায়, গ্রেফতারকৃত আমিনুল ইসলাম জানিয়েছে, ‘‘তার সঙ্গে ‘বেগুনবাড়ি’, ‘মাইনকা চিপা’, ‘কোটিপতির জামাই’, ‘মহসিন উদ্দিন’, ‘নয়ন চ্যাটার্জি’, ‘আবু দারদা’, ‘ফাহাদ আহম্মেদ’, ‘প্রিন্স ফয়জুল্লাহ’ নামে বেশ কয়েকটি আইডির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ হতো। এসব আইডি জঙ্গি সদস্যদের।’’ আমিনুল জানায়, ‘‘২০১৫ সালের শেষের দিকে নাহিদা সুলতানার ফেসবুক আইডি ‘এক মুসলিম কন্যা’র সঙ্গে পরিচয় হয়। পরবর্তী সময়ে একসঙ্গে কাজ করতে গিয়ে তারা সংগঠনের নির্দেশনায় বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়।’’
গ্রেফতারকৃত নাহিদা সুলতানা জানিয়েছে, ‘‘ফেসবুকে আমিনুলের নিজের আইডি ছিলো ‘পীর বংশের পোলা’ নামে। পরবর্তী সময়ে তাদের পরিচয় হয় ও একসঙ্গে জঙ্গিকার্যক্রমে জড়িয়ে পড়ে। সংগঠনের সিদ্ধান্তে তারা বিয়ে করে।’’

আরও পড়ুন: বাবুল আক্তারকে কেন গ্রেফতার করব?
/এমএনএইচ/

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
কুমিরের আক্রমণে সন্তানের মৃত্যুর পর ফজিলাকে খুঁজে পেলো পরিবার
কুমিরের আক্রমণে সন্তানের মৃত্যুর পর ফজিলাকে খুঁজে পেলো পরিবার
ট্রাফিক আইন সবার জন্য সমান, পুলিশ সদস্য হলেও ব্যবস্থা: ডিএমপি কমিশনার
ট্রাফিক আইন সবার জন্য সমান, পুলিশ সদস্য হলেও ব্যবস্থা: ডিএমপি কমিশনার
ফ্রিল্যান্সারদের আয় থেকে সাড়ে ৭ শতাংশ কর কাটা নিয়ে যা বলছে এনবিআর 
ফ্রিল্যান্সারদের আয় থেকে সাড়ে ৭ শতাংশ কর কাটা নিয়ে যা বলছে এনবিআর 
কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের আয়ে ৭.৫% কর নেওয়ার অভিযোগ, স্পষ্ট করার দাবি সারজিসের
কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের আয়ে ৭.৫% কর নেওয়ার অভিযোগ, স্পষ্ট করার দাবি সারজিসের
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে