মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া থানার ভবেরচর এলাকায় ন্যাশনাল ব্যাংকের এক কর্মকর্তা ছুরিকাঘাত করে নিজের স্ত্রী জাকিয়া নিহারকে খুন করেছেন। শনিবার ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ২০৬ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জাকিয়ার মৃত্যু হয়।
এর আগে, শনিবার ভোরে স্ত্রীকে কুপিয়ে থানায় আত্মসমর্পণ করেন ব্যাংকার রিয়াজ রহমান নিহার (৩১)। তখন গুরুতর আহত অবস্থায় তার স্ত্রী জাকিয়া নিহারকে (২২) উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে আসেন বাড়িওয়ালা মিজানুর রহমান।
বাড়িওয়ালা মিজানুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘দুই মাস আগে ওই ছেলের (নিহার) বাবা মজিবর রহমান আমার বাড়ির দোতালার একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নেয়। আমরা স্বামী-স্ত্রীও দোতালার ফ্ল্যাটে থাকি। তারা ফ্ল্যাটটি ভাড়া নেওয়ার পর নিহার তার স্ত্রী জাকিয়াকে নিয়ে ফ্ল্যাটে উঠেন। নিহার ন্যাশনাল ব্যাংকের জুনিয়র ক্যাশ অফিসার। তার বাবাও নারায়ণগঞ্জের ন্যাশনাল ব্যাংকের একটি শাখায় কাজ করে। গত কোরবানিতে তারা সবাই এখানে থেকেই কোরবারি দেয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি ও আমার স্ত্রী হজ করে এসেছি। দুজনে ফজরের নামাজ পরে আবার ঘুমাই। আমরা দুজন বাড়িতে থাকি। সন্তানরা সবাই চট্টগ্রাম ও ঢাকায় থাকে। আজকে ভোর সাড়ে ৭ টার দিকে জাকিয়া চিৎকার করে বলে, আমাকে বাঁচাও বাঁচাও। এরপর আমার স্ত্রী দৌড়ে গিয়ে ওই ফ্ল্যাটের দরজা বন্ধ পাই, আমিও পেছনে পেছনে যাই। পরে দেখি নিহার দরজা খুলে পালিয়ে যায়। আমরা বয়স্ক মানুষ তাকে আটকাতে পারিনি। সকালে লোকও কম ছিল রাস্তাঘাটে। পরে শুনছি ছেলেটা নিজে গিয়েই থানায় আত্মসমর্পন করেছে।’
এরপর মেয়েটাকে আমি একটি স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাই উল্লেখ করে তিনি জানান, সেখান থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে আমি আবার ঢাকায় নিয়ে আসি। কিন্তু মেয়েটাকে বাঁচাতে পারলাম না। দুপুর ২টার দিকে সে মারা যায়, তার স্বজনদের খবর দেওয়া হয়েছে।’ জাকিয়ার পেটে ও উরুতে ছুরিকাঘাত রয়েছে বলেও জানান তিনি।
গজারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হেদায়েতুল ইসলাম ভূঁইয়া বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ঘটনার পরপরই ছেলেটাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এখনও কেউ অভিযোগ দেয়নি। তবে নিহতের স্বজনরা এলেই এ বিষয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলে মামলা দায়ের করা হবে।’
/এআরআর/এমও/








