সরকারি চাকরিজীবী (বর্তমান ও অবসরপ্রাপ্ত) মুক্তিযোদ্ধাদের সনদ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক কেন যাচাই-বাছাই করার নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
আগামী দুই সপ্তাহে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের সচিব ও জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) মহাপরিচালককে উক্ত রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
এ সংক্রান্ত আবেদনের শুনানি করে বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের বিচারপতি কামরুল ইসলাম সিদ্দিকী ও বিচারপতি শেখ হাসান আরিফের বেঞ্চ এবং বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম ও বিচারপতি মো. খসরুজ্জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চ পৃথক পৃথকভাবে রুল জারি করেন।
আদালতে রিট আবেদনকারী এস এম সোহরাব হোসেনের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন ড. রফিকুর রহমান, হাসনাত কাইয়ুম ও দেওয়ান মেজবাহ আহমেদ। আরেক রিট আবেদনকারী রফিকুল ইসলামের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ‘একজন গণকর্মচারি প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা কিনা তা যাচাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট গণকর্মচারীর মুক্তিযোদ্ধা সনদ ও এদতসংক্রান্ত প্রমাণপত্র তার চাকুরী নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ পূর্বক এর সঠিকতা যাচাই করে নিতে হবে। এ মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রত্যয়নক্রমেই এ সুযোগ প্রদান করা যাবে।’
কিন্তু এ আদেশ উপেক্ষা করে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) -এর মহাপরিচালক পৃথক একটি আদেশ জারি করেন। যা গত ৮ নভেম্বর দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি আকারে প্রকাশিত হয়। এতে বলা হয়, ‘জামুকা কর্তৃক নির্ধারিত তারিখ, স্থান ও সময়ে উপজেলা যাচাই-বাছাই কমিটির মাধ্যমে যাচাই-বাছাই কার্যক্রম সম্পাদন করা হবে।’
এ অবস্থায় সকল গণকর্মচারি (চাকরিজীবী ও অবসরপ্রাপ্ত) মুক্তিযোদ্ধার পক্ষে জামুকার এ আদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে পৃথক দুটি রিট আবেদন করেন খাদ্য অধিদপ্তরের অবসরপ্রাপ্ত ম্যানেজার এস এম সোহরাব হোসেন এবং নাটোরের অবসরপ্রাপ্ত অডিট অ্যান্ড একাউন্টস কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম। এ দুটি আবেদনের ওপর শুনানি শেষে হাইকোর্ট পৃথক রুল জারি করেন।
ইউআই/এএআর/আপ-এমও/








