রাজধানীর আশকোনা থেকে রিপল ২৪ অভিযানে গতকাল শনিবার (২৪ ডিসেম্বর) উদ্ধার হওয়া শিশু সাবিনাকে হাসপাতালে আনার পর প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে অপারেশন করা হয়েছে। তবে তার অবস্থা এখনও আশঙ্কামুক্ত নয়। বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য জানিয়েছেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের (ঢামেক) ক্যাজুয়ালটি বিভাগের চিকিৎসকরা। শিশুটিকে বর্তমানে পোস্ট অপারেটিভ ইউনিটে রাখা হয়েছে বলে জানান তারা।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার (২৩ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত ১২টায় পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট দক্ষিণখান থানার পূর্ব আশকোনার ৫০ নম্বর বাড়িতে অভিযান চালায়। অভিযানে এক নারী ও এক কিশোর জঙ্গি নিহত হয়েছে। আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণে নিহত হয় ওই নারী জঙ্গি। ওই বোমার বিস্ফোরণে আহত হয় তার শিশুকন্যা। তাকে ঢামেকে ভর্তি করা হয়। ভর্তির সময় শিশুটির নাম সাবিনা বলে জানানো হয়।
হাসপাতালে ভর্তির পর গতকাল বিকালেই ঢামেক ক্যাজুয়ালটি বিভাগের কনসালট্যান্ট ডা. মো. আশরাফউদ্দীন খানের নেতৃত্বাধীন ৫ সদস্যের চিকিৎসক দল সাবিনার অপারেশন করেন।
ডা. আশরাফউদ্দীন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘শিশুটির শরীরে মাল্টিপল স্প্লিন্টারের বেশকিছু আঘাত রয়েছে। খাদ্যনালীর প্রায় ১০ থেকে ১২টি জায়গা ছিঁড়ে গিয়েছে। তার বাম হাতে স্প্লিন্টারের আঘাতে রয়েছে, হাড়ও ভেঙে গিয়েছে।’
ডা. আশরাফউদ্দীন বলেন, ‘প্রায় ৫ ঘণ্টা ধরে তাকে অপারেশন করা হয়েছে। ৭২ ঘণ্টার আগে তাকে আমরা আশঙ্কামুক্ত বলতে পারছি না।’ তিনি আরও বলেন, ‘তার বেশ বড় একটি অপারেশন হয়েছে। আমরা আশা করছি সে রিকভারি করবে। কিন্তু তার বিভিন্ন জায়গায় আঘাত রয়েছে এবং অপারেশনটা হয়েছে পেটে। এখান থেকে ইনফেকশন হয়ে যেকোনও সময় তার অবস্থা খারাপ হয়ে যেতে পারে- এমন আশঙ্কা করছি আমরা।’ যদি ইনফেকশন না হয় ও কোনও সমস্যা না হয়, তাহলে সার্জারিতেই সাবিনা সুস্থ হয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেন ডা. আশরাফউদ্দীন।
এদিকে ক্যাজুয়ালটি বিভাগের আবাসিক সার্জন ডা. জেসমিন নাহার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘শিশুটি এখন পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডে আমাদের অবজারভেশনে আছে। তার জ্ঞান ফিরেছে। কিন্তু আরও বেশ কিছুদিন না গেলে তাকে আশঙ্কামুক্ত বলা যাচ্ছে না। অনেক বড় একটি অপারেশন হয়েছে তার। এখান থেকে যেকোনও সময় পরিস্থিতি খারাপ হতে পারে।’ এ কারণে শিশুটিকে সার্বক্ষণিক নজরে রাখা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন ডা. জেসমিন নাহার।
আরও পড়ুন-
জঙ্গি আস্তানা থেকে সন্তানসহ দুই নারীর আত্মসমর্পণের এক্সক্লুসিভ ভিডিও
/টিআর/








