রাজধানীর মতিঝিলে নিজ ভাইয়ের ব্যবসায়িক অফিসে জাহাঙ্গীর হোসেন (৪৫) নামে যুবলীগের এক কেন্দ্রীয় নেতার ‘রহস্যজনক’ মৃত্যু হয়েছে। তবে যুবলীগের পক্ষ থেকে বিবৃতি পাঠিয়ে জানানো হয়েছে, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ওই নেতার মৃত্যু হয়।
এর আগে, সোমবার বিকালে মতিঝিলের আজিজ বিল্ডিংয়ের অষ্টমতলায় এ ঘটনা ঘটে। জাহাঙ্গীর হোসেন যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছিলেন। এ ঘটনায় দুই ব্যবসায়ীকে আটক করেছে মতিঝিল থানা পুলিশ।
স্বজনদের অভিযোগ, দুই ব্যক্তির হামলায় আহত হয়ে জাহাঙ্গীর মারা গেছেন। যুবলীগের ওই নেতা ‘নিহত’ হওয়ার গুঞ্জন ছড়ালেও পুলিশ বলছে, উত্তেজিত হয়ে কথা বলার সময়ে জাহাঙ্গীর অচেতন হয়ে পড়েন। পরে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণ করে। তবে পুলিশ ওই অফিস থেকে খুরশেদ আলম ও মো. জিলানী নামে দুই ব্যবসায়ীকে আটক করে।
জাহাঙ্গীরের ছোট ভাই জাহিদ জানান, ঘটনার সময় তিনি সেখানে ছিলেন না। তবে খবর পেয়ে এসে শুনেছেন, পাওনা টাকা না পেয়ে তার ভাইকে ব্যবসায়ী জিলানী ও তার ছেলে খুরশেদ মারধর করেছে। এতে তার মৃত্যু হয়।
মতিঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক জানান, নিহত জাহাঙ্গীরের বড় ভাই আজাদ মোল্লার কাছে দুজন ব্যবসায়ী ২৫ লাখ টাকা পান। সোমবার দুপুরে ব্যবসায়ী খুরশেদ আলম ও তার বাবা জিলানী মতিঝিলে আজাদের অফিসে গিয়ে পাওনা টাকা দাবি করেন। খবর পেয়ে জাহাঙ্গীর ওই অফিসে গিয়ে পাওনাদার খুরশেদ ও জিলানীকে মারধর করে অফিস থেকে বের করে দিতে চান। একপর্যায়ে তিনি উত্তেজিত হয়ে অফিসের মেঝেতে অচেতন হয়ে পড়েন।
ওসি আরও জানান, ধারণা করা হচ্ছে জাহাঙ্গীর হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছেন। তবে ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
এদিকে, ঘটনার পর সোমবার রাতে আওয়ামী যুবলীগ গণমাধ্যমে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়েছে। সেখানে তারা জাহাঙ্গীরের মৃত্যুর কারণ হিসাবে হৃদরোগের কথা উল্লেখ করেছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘জাহাঙ্গীর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, তিন ছেলেসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন রেখে গেছেন। জাহাঙ্গীরের মৃত্যুর ঘটনায় যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।’
আরও পড়ুন: মতিঝিলে জনশক্তি অফিসে যুবলীগ নেতা খুনের অভিযোগ
/এআরআর/এমও/








