বাংলাদেশে গড় আয়ু বৃদ্ধি, মাতৃমৃত্যু হ্রাসসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আশানুরূপ অগ্রগতি হলেও অসংক্রামক রোগ বেড়েছে। এর মধ্যে রয়েছে হৃদরোগ, ক্যানসার, দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসতন্ত্রের রোগ, ডায়াবেটিস। অস্বাস্থ্যকর খাবার, নগরায়ণ, ধূমপান, কায়িক পরিশ্রম না করার কারণে দেশে এসব অসংক্রামক রোগের প্রকোপ বেড়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ আগস্ট) বিকালে রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ হেলথ ওয়াচ রিপোর্ট ২০১৬’ প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে ‘অসংক্রামক রোগ এবং বাংলাদেশ: বর্তমান পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ নির্দেশাবলী’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এ তথ্য তুলে ধরা হয়।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে অবকাঠামোগত সুবিধা এবং রোগীদের চাহিদা অনুযায়ী যথাযথ সেবার প্রস্তুতি নেই। অনুষ্ঠানে আলোচকরা অসংক্রামক রোগের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একটি ‘অনন্য কৌশলগত মাল্টি সেক্টর নীতিমালা’ প্রণয়নের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য নাহিন রাজ্জাক বলেন, ‘অসংক্রামক রোগ বেড়ে যাওয়ায় আমরা এখন এ খাতে বিনিয়োগ করা শুরু করেছি। আগামী মাসে আমরা এ বিষয়ে কর্মপরিকল্পনা তৈরি করার পাশাপাশি সচেতনতায় খেলাধূলা ও সংস্কৃতি চর্চার মাধ্যমে তরুণদের সম্পৃক্ত করব।’
সরকার অনেক ভালো কাজ করলেও কিছু ভুল নীতিমালার কারণে অসংক্রামক রোগ আরও সংকটের দিকে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফর উল্ল্যাহ চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘সরকার অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দানের ব্যাপারে সম্প্রতি যে আইন করেছে, তা বাস্তবসম্মত নয়। আমি মনে করি, শুধু নিকট আত্মীয় নয় বরং যে কেউ কিডনি দান করতে পারবেন, এই মর্মে সরকার নির্দেশনামূলক আইন করতে পারত।’
প্রতিবেদনে অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে বেশ কিছু সুপারিশ করা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে, অসংক্রামক রোগের ব্যাপকতা ও গুরুত্বের ওপর নীতিনির্ধারক, পেশাজীবীসহ সর্বস্তরের মানুষের মাঝে সচেতনতা তৈরি, রোগ প্রতিরোধে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে বিভিন্ন সেক্টরকে কেন্দ্র করে একটি সমন্বিত পদ্ধতির প্রবর্তন প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় জনশক্তি ও কাঠামোগতউন্নয়ন, ঝুঁকির কারণগুলো সংশোধন ও নিয়ন্ত্রণ, রোগ শনাক্তকরণ এবং চিকিৎসার মাধ্যমে সেবা প্রদানের লক্ষ্যে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সকলপর্যায় শক্তিশালী করা। এছাড়া অসংক্রামক রোগের জন্য চলমান এবং ভবিষ্যৎ কর্মসূচিগুলো তদারকি ও পর্যালোচনার জন্য জাতীয় পর্যায়ে সামগ্রিক তত্ত্বাবধান ব্যবস্থা, নিবন্ধীকরণ পদ্ধতি চালু করা এবং সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষার আলোকে দক্ষতার সঙ্গে অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ ও নিরাময়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা (গবেষণা) করা।
ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গর্ভনেন্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট-এর জেন্ডার স্টাডি ক্লাস্টারের ভারপ্রাপ্ত প্রধান সিমিন মাহমুদের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির প্রেসিডেন্ট প্রফেসর এ কে আজাদ, যুক্তরাজ্য সরকারের ডিপার্টমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট (ডিএফআইডি) ঢাকা অফিসের প্রধান জন এডমন্ডসন ও সুইডিশ ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট করপোরেশন (সিডা) বাংলাদেশ-এর প্রধান আন্ডার্স ওসট্রোম, ব্র্যাকের ভাইস চেয়ারপারসন ড. মোশতাক রাজা চৌধুরী প্রমুখ।
/জেএ/এমএনএইচ/








