গুলশান থেকে অপহরণের একদিন পরও বাংলাদেশে বেলারুশের অনারারি কনসাল ও আরএমএম লেদার ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) অনিরুদ্ধ কুমার রায়ের কোনও সন্ধান পায়নি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে পুলিশ বলছে, ঘটনাস্থলের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, গতকাল রবিবার (২৭ আগস্ট) বিকাল ৪টার দিকে গুলশানের ইউনিয়ন ব্যাংকের সামনে থেকে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পরিচয়ে ব্যক্তিগত গাড়ি থেকে তুলে নেওয়া হয় অনিরুদ্ধ কুমার রায়কে। ওইদিন এ ঘটনায় গুলশান থানায় একটি জিডি দায়ের করা হয়।
গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বকর সিদ্দিক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা সিসি ক্যামেরার ফুটেজ নিয়ে কাজ করছি। এছাড়াও বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করছি, তদন্ত চলছে। তবে এখনও তার (অনিরুদ্ধ) কোনও খোঁজ পাইনি।’
ওসি আরও বলেন, ‘তিনি (অনিরুদ্ধ রায়) ইউনিয়ন ব্যাংকে কাজে এসেছিলেন। কাজ শেষ করে যখন বের হয়েছেন, তখন একটি মাইক্রোবাসে করে তাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। এসময় ওই ব্যবসায়ীর গাড়ি নিয়ে তার চালক অপেক্ষা করেছিল। জিডি দায়েরের পরই আমরা কাজ শুরু করেছি। তবে এখনও কিছু নিশ্চিত হওয়া যায়নি।’
গুলশান থানায় জিডিটি দায়ের করেছেন অনিরুদ্ধ রায়ের ভাগ্নে কল্লোল হাজরা। জিডি নম্বর-১৭৭৩। জিডিতে অভিযোগ করা হয়েছে, রবিবার দুপুর সাড়ে ৪টার দিকে গুলশান ১ নম্বরের পাশে ইউনিয়ন ব্যাংকের সামনে থেকে ডিবি পরিচয়ে অনিরুদ্ধ রায়কে তুলে নেওয়া হয়। এসময় তার গাড়িচালকও সঙ্গে ছিলেন। তবে গাড়িচালককে অপহরণকারীরা রেখে যায়। এরপর গাড়িচালক বিষয়টি বাসায় জানালে তারা গুলশান থানায় বিষয়টি অবহিত করেন।
অনিরুদ্ধের প্রতিষ্ঠানের হিসাবরক্ষক অনির্বাণ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা বুঝতে পারছি না, কি ঘটেছে। তার পরিবারের সবাই দেশের বাইরে থাকে। এখনও তার কোনও তথ্য আমরা পাইনি। কেনইবা তাকে অপহরণ করা হলো সেটাও বুঝতে পারছি না।’
এদিকে, ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) ওয়েবসাইট থেকে জানা গেছে, আরএমএম লেদার ইন্ডাস্ট্রির ব্যবস্থাপনা পরিচালক অনিরুদ্ধ কুমার রায়। রাজধানীর হাজারীবাগের ১১৯নং বাড়িটি তাদের অফিসের ঠিকানা। ওয়েবসাইটে দেওয়া অফিসের কয়েকটি টিঅ্যান্ডটি নম্বর দেওয়া রয়েছে। তবে সেসব নম্বরে কল করা হলেও কেউ ফোন রিসিভ করেননি। অফিসের একটি মোবাইল নম্বরে কল করা হলে সেটাও বন্ধ পাওয়া যায়।
উল্লেখ্য, আরএমএম লেদার ইন্ডাস্ট্রির ব্যবস্থাপনা পরিচালক অনিরুদ্ধ কুমার রায়কে ২০১৬ সালে বাংলাদেশে বেলারুশের অনারারি কনসাল হিসেবে ঘোষণা করে বেলারুশ সরকার। এছাড়া দেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে ভূমিকা রাখায় বাংলাদেশ সরকারও তাকে গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক ব্যক্তিত্ব (সিআইপি) হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।








