প্রকাশক ফয়সল আরেফিন দীপন হত্যাকাণ্ডে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের (এবিটি) ১০/১২ জন জঙ্গি অংশ নিয়েছিল। হত্যাকাণ্ডের সময় প্রকাশনা সংস্থা জাগৃতির ভেতরেই ঢুকেছিল চার জঙ্গি। এর মধ্যে দুই জন তাকে কুপিয়েছে, দুই জন ধরে রেখেছিল। বাকিরা ছিল বাইরে। গ্রেফতার তিন জঙ্গি আদালতের কাছে এমন স্বীকারোক্তি দিয়েছে বলে জানিয়েছেন এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক ফজলুর রহমান। তিনি বলেন, ‘বাকি আসামিরা গ্রেফতার হলে, তদন্ত শেষ হওয়া মাত্র অভিযোগপত্র দেওয়া যাবে।’ তবে দুই বছরেও বিচার-প্রক্রিয়া শুরু না হওয়ায় দীপনের পরিবার থেকে হতাশা প্রকাশ করা হয়েছে।
২০১৫ সালের ৩১ অক্টোবর বিকালে ঢাকার শাহবাগের আজিজ সুপার মার্কেটের তৃতীয় তলায় জাগৃতি প্রকাশনীর কার্যালয়ে ফয়সল আরেফিন দীপনকে কুপিয়ে হত্যা করে জঙ্গিরা। এই ঘটনায় ওই বছরের ২ নভেম্বর ডিএমপির শাহবাগ থানায় তার স্ত্রী ডা. রাজিয়া রহমান মামলা করেন। মামলা নম্বর ৩। পরবর্তী সময়ে মামলাটি তদন্ত শুরু করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) দক্ষিণ বিভাগ।
এই প্রসঙ্গে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক ফজলুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা হলো, মঈনুল হাসান ওরফে সিফাত ওরফে ইমরান, আব্দুর সবুর ওরফে আব্দুর সামাদ ওরফে সাদ ও খায়রুল ইসলাম ওরফে জামিল ওরফে রিফাত ওরফে ফাহিম ওরফে জিসান। তারা সবাই আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সদস্য। এরা তিন জনই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।’
তদন্তকারী কর্মকর্তা বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডে ১০/১২ জন অংশ নিয়েছে। তাদের মধ্যে ফয়সালের অফিসের ভেতর প্রবেশ করেছিল চার জন। দুই জন তাকে কুপিয়েছে, বাকি দুই জন ধরে রেখেছিল। অল্প সময়ের ভেতরেই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে তারা পালিয়ে যায়।’
একবছর আগে এই মামলায় তিন জন গ্রেফতার হয়। এই একবছরে উল্লেখযোগ্য কোনও অগ্রগতি নেই। এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, ‘বাকিদের গ্রেফতারসহ আরও কিছু বিষয় সম্পন্ন হলে এই মামলার চার্জশিট দেওয়া হবে।’
তবে মামলার অগ্রগতি নিয়ে হতাশা ব্যক্ত করেছেন ফয়সালের শোকবিহ্বল বাবা অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমি প্রথম থেকেই লাশ সামনে নিয়েই কিন্তু এই বিচার চাইতে চাইনি। এরপরও সবাই বলার পর আমি বিচার চেয়েছি। সব হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে এই হত্যাকাণ্ডের পার্থক্য রয়েছে। এই ধরনের অনেক হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এই হত্যাকাণ্ডগুলো ঘটেছে মত-প্রকাশের জন্য। তাই সরকারের উচিত, এসব হত্যাকাণ্ডের মামলা অগ্রাধিকার দিয়ে বিচার করা। কিন্তু কোনোটির বিচার হচ্ছে না।’
এদিকে, গত ২৪ অক্টোর হত্যার মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় ফের পিছিয়ে আগামী ২১ নভেম্বর নতুন দিন ঠিক করেছেন আদালত। তদন্ত কর্মকর্তার করা সময় আবেদনে সাড়া দিয়ে ঢাকার মহানগর হাকিম গোলাম নবী প্রতিবেদন দাখিলের সময় বাড়িয়ে আগামী ২১ নভেম্বর দিন ঠিক করেন বলে জানান আদালতের সংশ্লিষ্ট পুলিশের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা এসআই মোজাম্মেল হোসেন।
দীপনকে যেদিন হত্যা করা হয়, সে দিনই লালমাটিয়ায় আরেক প্রকাশনা সংস্থা শুদ্ধস্বরের কার্যালয়ে ঢুকে এর কর্ণধার আহমেদুর রশীদ চৌধুরী টুটুলসহ তিন জনকে কুপিয়ে আহত করা হয়। ওই দুই প্রকাশনা থেকেই বিজ্ঞান লেখক অভিজিৎ রায়ের বই প্রকাশিত হয়েছে, যিনি ওই বছরই একইভাবে খুন হন।
শুদ্ধস্বর প্রকাশনীতে হামলার ঘটনায় মোহাম্মদপুর থানায় দায়ের করা মামলায় চার জঙ্গি গ্রেফতার হয়। তাদের মধ্যে তিন জন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।








