জবি শিক্ষক রাজীব মীরের বরখাস্ত আদেশ কেন অবৈধ নয়: হাইকোর্ট

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
৩০ জানুয়ারি ২০১৮, ১৭:১৭আপডেট : ৩০ জানুয়ারি ২০১৮, ১৭:১৮



জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মীর মোশারেফ হোসেনকে (রাজীব মীর) বরখাস্তের সিদ্ধান্ত কেন বেআইনি ও অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে এই শিক্ষককে কেন জ্যেষ্ঠতা বিবেচনা ও বকেয়া সব বেতন-সুবিধাসহ স্বপদে পুনর্বহাল করা হবে না, রুলে তাও জানতে চেয়েছেন আদালত। আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং রেজিস্ট্রারকে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। মঙ্গলবার এক রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম এবং বিচারপতি কে এ কামরুল কাদেরের সম্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক ও আইনজীবী এম. মঞ্জুর আলম। তাদের সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মো. তায়্যিব-উল-ইসলাম সৌরভ।
এর আগে গত ২৮ জানুয়ারি হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিটটি দায়ের করেন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মীর মোশারেফ হোসেন। সেই রিটের শুনানি নিয়ে আজ মঙ্গলবার আদালত রুল জারি করেন বলে বাংলা ট্রিবিউনকে জানান আইনজীবী তায়্যিব-উল-ইসলাম সৌরভ।
জবি শিক্ষক রাজীব মীরের বরখাস্ত আদেশ কেন অবৈধ নয়: হাইকোর্ট মামলার বিবরণীতে বলা হয়, অধ্যাপক মীর মোশারেফ হোসেনের বিরুদ্ধে গঠিত তদন্ত কমিটির তদন্ত রিপোর্টের কোনও কপি তাকে সরবরাহ করা হয়নি। এর ফলে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সাক্ষ্য-প্রমাণ সম্পর্কে তাকে পূর্ণাঙ্গভাবে না জানিয়েই তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যা বেআইনি ও অবৈধ।
প্রসঙ্গত, একাধিক ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক মীর মোশারেফ হোসেনকে গত বছরের ১০ জুলাই স্থায়ীভাবে চাকুরিচ্যুত করা হয়। তিনটি তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭৪তম সিন্ডিকেট সভায় তার বিরুদ্ধে এ সিদ্ধান্ত নেয়।
এর আগে ২০১৬ সালের ৫ এপ্রিল সাংবাদিকতা বিভাগের এক ছাত্রী রাজীব মীরের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কাছে হুমকি দেওয়াসহ বেশ কয়েকটি অভিযোগ করেন। ওই ছাত্রীর অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ট্রেজারার সেলিম ভূঁইয়াকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। ওই কমিটি প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে ওই বছর ১১ এপ্রিল রাজীব মীরসহ ৩ শিক্ষককে মাস্টার্সের ক্লাস থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেন।
পরবর্তী সময়ে স্নাতক চতুর্থ বর্ষের একাধিক শিক্ষার্থীও রাজীব মীরের বিরুদ্ধে একাডেমিক ফলের নিরাপত্তা চেয়ে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেন। এদিকে রাজীব মীরের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করে ক্যাম্পাসে দু’টি প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনও সে সময় কর্মসূচি পালন করেছিল।
২০১৪ সালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজীব মীরের বিরুদ্ধে জঙ্গিবাদে মদদ দেওয়া, ছাত্রীদের অনৈতিক প্রস্তাব দেওয়াসহ নানা অভিযোগ এনে তার অপসারণ দাবি করে ক্যাম্পাসে মানববন্ধন করে কয়েকশ শিক্ষার্থী। এর আগে ২০০৪ সালে আগের কর্মস্থল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রীদের অনৈতিক প্রস্তাব দেওয়ায় ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন্নাহার হলে রাজীব মীরকে অবরুদ্ধ করে রেখেছিলেন ছাত্রীরা।

/বিআই/এমএনএইচ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
এই অর্জন বাংলাদেশের শক্তিশালী কূটনৈতিক অবস্থানকে তুলে ধরে: খলিলুর রহমান  
এই অর্জন বাংলাদেশের শক্তিশালী কূটনৈতিক অবস্থানকে তুলে ধরে: খলিলুর রহমান  
‘মুখ খোলো মমতা, জানতে চায় জনতা’ স্লোগানে ইনকিলাব মঞ্চের মশাল মিছিল
‘মুখ খোলো মমতা, জানতে চায় জনতা’ স্লোগানে ইনকিলাব মঞ্চের মশাল মিছিল
আর্জেন্টিনা আরও চার ফুটবলারকে প্রস্তুত রাখছে
আর্জেন্টিনা আরও চার ফুটবলারকে প্রস্তুত রাখছে
কুমিরের আক্রমণে সন্তানের মৃত্যুর পর ফজিলাকে খুঁজে পেলো পরিবার
কুমিরের আক্রমণে সন্তানের মৃত্যুর পর ফজিলাকে খুঁজে পেলো পরিবার
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের