ঢাকা কলেজের সামনের সড়কে বাসচাপায় আহত গৃহবধূ আয়েশা খাতুনের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে তিন সচিবকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সচিব এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিবকে এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন আমলে নিয়ে বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ও বিচারপতি ইকবাল কবির লিটনের হাইকোর্ট স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে এ আদেশ দেন। একইসঙ্গে আগামী ৮ মে এ বিষয়ে পরবর্তী আদেশের জন্য দিন নির্ধারণ করেছেন আদালত।
আহত ব্যক্তির চিকিৎসায় কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা জানিয়ে জনস্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালককে আগামী ৬ মে’র মধ্যে একটি প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে প্রতিবেদনটি আদালতের নজরে আনেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুজাহিদুল ইসলাম পাটওয়ারী ও সৈয়দ হাসান যোবায়ের।
পরে মুজাহিদুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘আদালত আহত আয়েশা খাতুনের চিকিৎসার যাবতীয় খরচ বিকাশ পরিবহন থেকে নিতে বলেছেন।’
এছাড়া আদালত বিকাশ পরিবহনের মালিক ও পরিচালনাকারীদের গাড়ি পরিচালনায় ট্রাফিক আইন ও বিধি মেনে চলার ক্ষেত্রে তাদের ব্যর্থতা ও নিষ্ক্রিয়তাকে কেন বেআইনি ও আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন। একইসঙ্গে আহত ব্যক্তিকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, রুলে তাও জানতে চেয়েছেন। এছাড়া মহানগর এলাকায় গণপরিবহনের গতি সীমা নিয়ন্ত্রণে আইন করার নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতেও রুল জারি করেছেন আদালত।
রুল জারি ছাড়াও এ ঘটনায় জড়িত দুই বাস চালকের লাইসেন্স বাতিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, এর আগে ‘দুই বাসের চাপায় মেরুদণ্ড ভাঙল গৃহবধূর’ শিরোনামে একাধিক জাতীয় দৈনিকে গত ৭ এপ্রিল খবর প্রকাশিত হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘রাজধানীর ঢাকা কলেজের সামনে রাস্তায় গত বৃহস্পতিবার সকালে (৫ এপ্রিল) বিকাশ পরিবহনের দুটি বাসের ‘অসুস্থ’ প্রতিযোগিতায় মেরুদণ্ডের হাড় ভেঙে যায় আয়েশা খাতুনের।
‘সকাল ৮টার দিকে মেয়ে আহনাবিকে নিয়ে রিকশায় করে ধানমন্ডির ৭/এ-এর স্কলাস্টিকা স্কুলে যাচ্ছিলেন আয়েশা খাতুন। ঢাকা কলেজসংলগ্ন চন্দ্রিমা সুপার মার্কেটের সামনে আসতেই দু’টি বাস তাদের রিকশাটিকে দুই পাশ থেকে চেপে সামনে এগিয়ে যায়। তখন মেয়েকে নিয়ে রিকশা থেকে রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন ওই গৃহবধূ। রক্তাক্ত অবস্থায় পথচারীরা তাদের উদ্ধার করে ল্যাবএইড হাসপাতালে নিয়ে যায়।’
পরে পত্রিকার ওই প্রতিবেদনের বিষয়টি আদালতের নজরে আনেন আইনজীবী মুজাহিদুল ইসলাম। এরই পরিপ্রেক্ষিতে আদালত রুলসহ আদেশ দেন।








