এ বছর পহেলা বৈশাখে প্রতিটি অনুষ্ঠানস্থল সম্পূর্ণ ধূমপানমুক্ত থাকবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া। তিনি বলেন, বৈশাখের সব অনুষ্ঠানস্থল ধূমপানমুক্ত রাখতে নিরাপত্তাকর্মীরা কাজ করবে। এর জন্য অনুষ্ঠানস্থলে ডিএমপির মোবাইল কোর্ট থাবে। কেউ অনুষ্ঠানস্থলে ধূমপান করলে সেখানে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বৃহস্পতিবার (১২ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপি কমিশনার এ কথা বলেন। এ সময় তিনি জানান, পহেলা বৈশাখে রমনার বটমূলের অনুষ্ঠানের প্রবেশের জন্য ১১টি পয়েন্ট থাকবে। এসব পয়েন্টে পুলিশের পক্ষ থেকে সবাইকে ফুল ও বাতাসা দিয়ে বরণ করা হবে।
ব্রিফিংয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে রমনা পার্ক, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি, ধানমন্ডি রবীন্দ্র সরোবর ও হাতিরঝিল এলাকায় বিভিন্ন সংগঠন দিনব্যাপী অনুষ্ঠান পালন করবে। তবে ওই দিন বিকাল ৫টার মধ্যে উন্মুক্ত স্থানে সব অনুষ্ঠান বন্ধ করতে হবে। শুধু রবীন্দ্র সরোবরে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের অনুষ্ঠান চলবে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত। তবে ইনডোরে অনুষ্ঠান চলতে পারবে। তিনি বলেন, ‘একই দিনে মুসলমানদের ধর্মীয় উৎসব শবে মেরাজ। তাই সবাইকে বিকাল ৫টার মধ্যে উন্মুক্ত স্থানের সব অনুষ্ঠান শেষ করতে আহ্বান জানাচ্ছি।’
আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, আমরা মানুষকে নিরাপদে রাখতে রমনা পার্ক কেন্দ্রীয় রাস্তা বন্ধ করে দিয়ে থাকি। এই এলাকাগুলো নববর্ষের ‘হ্যাপি জোন’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে নগরবাসী পুলিশকে সহযোগিতা করে চেকিংয়ের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করেন। এজন্য তাদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।
মঙ্গল শোভাযাত্রা নিয়ে কমিশনার বলেন, ‘মঙ্গল শোভাযাত্রার সামনে পেছনে ও দৃই পাশে থাকবে পুলিশের প্রশিক্ষিত সদস্যরা। নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে শোভাযাত্রা বের হবে। যারা মঙ্গল শোভাযাত্রায় অংশ নেবেন, তারা চারুকলা ইনস্টিটিউট থেকে শোভাযাত্রায় অংশ নেবেন। পথের মধ্যে থেকে কোনও অবস্থায় শোভাযাত্রার বেষ্টনীর মধ্যে কাউকে ঢুকতে দেওয়া হবে না। এ ছাড়া কোনও কোম্পানিকে তার পণ্যের বা কোম্পানির বিজ্ঞাপন মঙ্গল শোভাযাত্রায় ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।
আগের বছরের মতোই মঙ্গল শোভাযাত্রায় কেউ মুখোশ বা মাস্ক পরতে পারবে না। তবে চাইলে মুখোশ হাতে রাখা যাবে বলে জানান ঢাকা মহানগর পুলিশের এই শীর্ষ কর্মকর্তা। তিনি আরও বলেন, বৈশাখের অনুষ্ঠানস্থলে এবার থাকছে পুলিশের ইভাকুয়েশন প্ল্যান। যেকোনও ধরনের বিপদজনক পরিস্থিতির মোকাবিলায় এই ইভাকুয়েশন প্ল্যান কাজ করবে। তাৎক্ষণিক কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিতে প্রস্তুত থাকবে অ্যাম্বুলেন্স। এ ছাড়া, পুলিশ ও র্যাবের কন্ট্রেল রুম সার্বক্ষণিক খোলা রাখা হবে।
পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠানে কেউ যেন যৌন নিপীড়নের শিকার না হন, সেজন্য পুলিশের বিশেষ টিম গোটা অনুষ্ঠানস্থলে কাজ করবে বলে জানান ডিএমপি কমিশনার। তিনি বলেন, ‘সাদা পোশাকেও পুলিশ সদস্যরা মোতায়েন থাকবেন। একইসঙ্গে পয়লা বৈশাখে কেউ কেউ ভুভুজেলা বাজিয়ে নারীদের উত্ত্যক্ত করে। এ জন্য ভুভুজেলা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়াও আমাদের ভ্রাম্যমাণ মোবাইল কোর্ট থাকবে।’
ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, পহেলা বৈশাখের সব অনুষ্ঠানস্থল ঘিরে থাকবে পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্য। থাকবে ওয়াচ টাওয়ার, টহল ডিউটি, ফুট পেট্রোলিং, লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড সেন্টার, পুলিশের সাব কন্ট্রোল রুম, পুলিশ ব্লাড ব্যাংক ও প্রাথমিক চিকিৎসা কেন্দ্র, ডগ স্কেয়াড দিয়ে সোয়াইপিং, সোয়াট, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট, ফায়ার টেন্ডার, অ্যাম্বুলেন্স, নৌ পুলিশের ডুবুরি দল। এ ছাড়া, গোটা এলাকাকে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হবে। সব দর্শনার্থীকে আর্চওয়ে, মেটাল ডিটেকটর ও ম্যানুয়ালি চেকিংয়ের পর অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে।
আরও পড়ুন-
‘উপাচার্যের বাসভবনে হামলাকারীরা সাধারণ কেউ নয়, পেশাদার’







