মাকে নির্যাতনের প্রতিবাদ করায় মেয়েদের বাড়ি থেকে বের করে দিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক বাবার বিরুদ্ধে। ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে শনিবার (৫ মে) চকবাজার থানায় হাজির হয়ে বাবার বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন মেয়েরা। জিডি নম্বর-১০৯। চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম অর রশীদ তালুকদার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে, রাজধানীর চকবাজারের জয়নাগ রোডের পাঁচতলা বাড়ির পঞ্চম তলার একটি ফ্ল্যাটে বাবা-মা ও তারা তিন বোন একই সঙ্গে থাকেন। বাবা বিভিন্ন সময় মাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতো। সর্বশেষ গত ১৬ জানুয়ারি মাকে মারধর করে। এতে তাদের মা ব্রেইন স্ট্রোক করে। মাকে মারধরের প্রতিবাদ করলে তাদেরকেও বাবা মারধর করে। তাদের লেখাপড়ার খরচ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেয়।
জিডিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, গত ৫ মে বিকাল ৪টার দিকে তাদের চাচা, চাচী ও বাবা মিলে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। এরপর তারা চকবাজার থানায় গিয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।
জিডি করা তরুণী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা যখন ছোট সেই সময় থেকে মাকে মারধর করতেন বাবা। মা আমাদের দিকে তাকিয়ে সবকিছু সহ্য করতেন। আমাদের টাকাপয়সা ও ব্যবসা বাণিজ্য বাবা মাদক ও জুয়ায় শেষ করেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এখন আমাদের এই বাড়িটি আছে। বাড়িটির একটি ফ্ল্যাটে আমরা থাকি, একটি চাচা নিয়েছে অপরগুলো ফুফুদের। একটি ফ্ল্যাট ভাড়া পাওয়া যায়। এছাড়া আমাদের কিছু নেই। বাবা কোনও কাজও করেন না। এই ফ্ল্যাটটিও বিক্রি করে দিতে চায়। বাবা আমাদের কারও লেখাপড়ারও খরচ দিতে চায় না। সে এখনও মাদক সেবন করেন। আমার ছোট বোনকে দিয়েও মাদক আনাতো। আমরা এসবের প্রতিবাদ করি। এতেই বাবা ক্ষিপ্ত হয়ে যায়। আমাদেরকে বাবা বলেন, “মাকে নিয়ে চলে যাবো, না হলে তোদের বের করে দেবো।’
জিডি করার পর পুলিশ পাহারায় মেয়েদের বাসায় দিয়ে আসা হয়। পারিবারিকভাবে বিষয়টি মীমাংসা করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন চকবাজার থানার ওসি। মেয়েদের নিরাপত্তার বিষয়টিও নিশ্চিত করতে বাবাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ওসি শামীম অর তালুকদার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমি ওই মেয়েদের বাবাকে ডেকেছিলাম। তাকে বলেছি, মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ, ভরণ-পোষণ দেওয়ার দায়িত্ব বাবারই। তাকেই দিতে হবে। বাবা নিজেকে অক্ষম দাবি করেছে। আমি তারপরও তাকে বিষয়টি নিশ্চিত করতে বলেছি।’
ওসি আরও বলেন, ‘বাবা মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তিনি নাকি শাসন করেছিলেন। তাদের মা পক্ষাঘাতগ্রস্ত। তাকে দেখাশোনার জন্য মেয়েদের নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু মেয়েরা তাকে দেখাশোনা করে না বলে অভিযোগ করেছেন বাবা। এটা নিয়েই মেয়েদের ধমক দিয়েছিলেন।’
মাদকাসক্তের অভিযোগের বিষয়ে ওসি বলেন, ‘আগে তিনি মাদক সেবন করতেন, জুয়া খেলতেন। তবে এখন করে কিনা তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।’
বিষয়টি যেহেতু একেবারেই পারিবারিক, তাই তাদের ঘরোয়াভাবে আত্মীয় স্বজন নিয়ে বসে মীমাংসা করতে বলা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
বর্তমানে বাবা-মায়ের সঙ্গে তিন মেয়ে রয়েছেন। তবে জিডি করার কারণে তাদের ফুফু, চাচা ও চাচী কেউ তাদের সঙ্গে কথা বলছেন না। এলাকার কয়েক বখাটে যুবক তাদের শাসিয়েছে। তাদের এখনও বাড়ি থেকে চলে যেতে বলা হচ্ছে।
তিন মেয়ের মধ্যে বড় মেয়ে বীর শ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ স্কুল অ্যান্ড কলেজের উচ্চমাধ্যমিকের শিক্ষার্থী। তিনি মাধ্যমিকে বিজ্ঞাপন বিভাগ থেকে গোল্ডেন এ-প্লাস পেয়েছেন। মেঝ মেয়ে ভিকারুননিসা নূন স্কুলের অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে এবং ছোট মেয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে।








