বাংলাদেশের মানচিত্র, জাতীয় পতাকা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে বিকৃত ও মিথ্যা তথ্য দিয়ে জন্মদিন পালনের দুটি পৃথক অভিযোগে দায়ের করা মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের ওপর আগামীকাল মঙ্গলবার (২৯ মে) হাইকোর্টে শুনানি হবে। এর প্রেক্ষিতে আবেদন দুটি হাইকোর্টের কার্যতালিকায় ২০৪ ও ২০৫ নম্বর ক্রমিকে রাখা হয়েছে।
এর ফলে আগামী মঙ্গলবার (২৯ মে) বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে আবেদন দুটির ওপর শুনানি হবে বলে বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন খালেদা জিয়ার আইনজীবী ব্যারিস্টার একেএম এহসানুর রহমান।
এর আগে মামলা দুটি আগামীকাল মঙ্গলবার দুপুর ২টায় শুনানির জন্য দিন ধার্য করেন আদালত।
পরে খালেদা জিয়ার আইনজীবী মাসুদ রানা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আজকে মামলা দুটি আদালতে উত্থাপন করেছি। আদালত বললেন, আগামীকাল মঙ্গলবার দুপুরে মামলা দুটির শুনানি হবে। এজন্য রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের প্রস্তুতি নিয়ে রাখতেও নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।’
মামলা দুটির মধ্যে একটি হচ্ছে মানচিত্র, জাতীয় পতাকা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে বিকৃত করার অভিযোগ:
আদালত সূত্র জানায়, বাংলাদেশের মানচিত্র, জাতীয় পতাকা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে বিকৃত করার অভিযোগে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ২০১৬ সালের ৩ নভেম্বর ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মানহানির মামলা করেন বাংলাদেশ জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এবি সিদ্দিকী। এ মামলায় ২০১৭ সালের ১২ নভেম্বর তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা ইস্যু করা হয়। এরপর গত ১২ এপ্রিল আইনজীবীরা এ মামলায় তার জামিন চান। এরপর গত ১৭ মে আদালত তৃতীয় দফায় সময় পিছিয়ে আদেশের জন্য আগামী ৫ জুলাই আদেশের জন্য দিন ধার্য করেন। এ অবস্থায় তার জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করা হয়।
অপর মামলাটি হলো মিথ্যা তথ্য দিয়ে জন্মদিন পালনের অভিযোগ:
মিথ্যা তথ্য দিয়ে জন্মদিন পালনের অভিযোগে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গাজী জহিরুল ইসলাম ২০১৬ সালের ৩০ আগস্ট খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অপর মামলাটি করেন। এ মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ২০১৬ সালের ১৭ নবেম্বর গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। এরপর গত ২৫ এপ্রিল এ মামলায় খালেদা জিয়া জামিন চেয়ে আবেদন করেন। কিন্তু জামিন না দিয়ে ১৭ মে শুনানির দিন নির্ধারণ করেন আদালত। পরবর্তীতে ওই তারিখে তার গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকরের আদেশ দিয়ে ৫ জুলাই জামিন বিষয়ে আদেশের দিন ধার্য করেন। এ অবস্থায় তার জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করা হয়।








