জাতীয় সংসদে বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, ‘তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের অধীনে সংঘটিত অপরাধের দ্রুত ও কার্যকর বিচার নিশ্চিত করার জন্য সাতটি বিভাগীয় শহরে সাতটি সাইবার ট্রাইবুনাল গঠনের প্রক্রিয়া চলছে।’
বৃহস্পতিবার (৭ জুন) জাতীয় সংসদে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। এতে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্ট ও দেশের নিম্ন আদালতগুলোর বিচার কার্যক্রম ও মামলা ব্যবস্থাপনায় তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে বিচারপ্রার্থীদের দুর্ভোগ কমানোর প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে বিচারাধীন মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণ, ধার্য তারিখ ও প্রাসঙ্গিক অন্যান্য তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে আপলোড করা হয়। এছাড়া সুপ্রিম কোর্টের পাঁচটি স্থানে স্থাপিত ডিসপ্লে বোর্ড ও এসএমএস-এর মাধ্যমে জনগণের কাছে মামলার সবশেষ তথ্য পৌঁছে যাচ্ছে।’
আবুল মাল আবদুল মুহিতের কথায়, ‘বেইল কনফার্মেশন অনলাইন ম্যানুয়েল-এর মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্ট থেকে প্রদত্ত জামিন আদেশের তথ্য জানা যাচ্ছে। মামলা ব্যবস্থাপনায় আরও গতিশীলতা আনার লক্ষ্যে ই-জুডিশিয়ারি কার্যক্রমের মাধ্যমে দেশের সব আদালতকে আইসিটি নেটওয়ার্কের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদের পঞ্চম বাজেট এটি। বৃহস্পতিবার দুপুর ১টায় ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটির বাজেট উপস্থাপন শুরু করেন অর্থমন্ত্রী। এর মধ্যে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য ২ লাখ ৯৬ হাজার ২০১ কোটি টাকা।
বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদ ভবনে মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জন্য এই বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এরপর মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পাওয়া প্রস্তাবিত বাজেটে সম্মতিসূচক স্বাক্ষর করেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।
এবারের বাজেটে মোট রাজস্ব প্রাপ্তি ও বৈদেশিক অনুদান ৩ লাখ ৩৯ হাজার ২৮০ কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক রাজস্ব প্রাপ্তির লক্ষ্যমাত্রা ২ লাখ ৯৬ হাজার ২০১ কোটি টাকা। এনবিআর বহির্ভূত কর ৯ হাজার ৭২৭ কোটি টাকা। কর ব্যতিত রাজস্ব প্রাপ্তি ৩৩ হাজার ৩৫২ কোটি টাকা। বৈদেশিক অনুদান ৪ হাজার ৫১ কোটি টাকা। এডিপি ধরা হয়েছে ১ লাখ ৭৩ হাজার কোটি টাকা ও ঘাটতি ১ লাখ ২১ হাজার ২৪২ কোটি টাকা। এদিকে নিট ঋণ ধরা হয়েছে ৫০ হাজার ১৬ কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ ঋণ ৭১ হাজার ২২৬ কোটি টাকা।
বাজেটে জিডিপি অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭ দশমিক ৮ শতাংশ। মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৬ শতাংশে রাখার প্রত্যাশা রয়েছে অর্থমন্ত্রীর। বাজেটে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বিদ্যুৎ খাতে।
নতুন বাজেটের আকার ২০১৭-১৮ অর্থবছরের মূল বাজেটের তুলনায় ৬৪ হাজার ৩০৭ কোটি টাকা বেশি। আর ২০১৭-১৮ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের তুলনায় এর আকার ৯৩ হাজার ৭৮ কোটি টাকা বেশি। ২০১৭-১৮ অর্থবছরের মূল বাজেটের আকার চার লাখ ২৬৬ কোটি টাকা, সংশোধিত বাজেটের আকার তিন লাখ ৭১ হাজার ৪৯৫ কোটি টাকা।
নতুন বাজেটে ঘাটতি মেটাতে অর্থমন্ত্রী বৈদেশিক উৎস থেকে মোট ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছেন ৬০ হাজার ৫৮৫ কোটি টাকা। সেখান থেকে ১০ হাজার ৫৬৯ কোটি টাকা বিদেশি ঋণ পরিশোধ বাবদ খরচ হবে। সরকারের নিট বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ দাঁড়াবে ৫০ হাজার ১৬ কোটি টাকা। ঘাটতির বাকি ৭১ হাজার ২২৬ কোটি টাকা নেওয়া হবে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে। এর মধ্যে ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া হবে ৪২ হাজার ২৯ কোটি টাকা, সঞ্চয়পত্র থেকে নেওয়া হবে ২৬ হাজার ১৯৭ কোটি টাকা। বাকি ৩ হাজার কোটি টাকা আসবে অন্যান্য উৎস থেকে।
আরও পড়ুন-
সবার জন্য পেনশনের কাজ শুরু হবে এই অর্থ বছরেই: অর্থমন্ত্রী
বাজেট বাস্তবায়ন নিয়ে আর সবার মতো আমাদেরও ভাবনা আছে: অর্থমন্ত্রী
দেশের ৯০ শতাংশ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধাভোগী: অর্থমন্ত্রী
বাজেটে সর্বোচ্চ বরাদ্দ কৃষি ও পল্লী উন্নয়ন খাতে
করমুক্ত আয়সীমা অপরিবর্তিত থাকছে
মোবাইল ফোনের দাম বাড়বে, কমবে বিদেশি সফটওয়্যারের দাম
বিমানকে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের প্রস্তাব অর্থমন্ত্রীর
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে ১২ হাজার ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব
পদ্মা সেতুসহ ১০টি প্রকল্প মেগা প্রকল্প হিসেবে চিহ্নিত : মুহিত
মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ৫ হাজার টাকা বিজয় দিবস ভাতা
বাজেট ২০১৮-১৯: দাম বাড়বে, দাম কমবে
সংসদে চার লাখ ৬৪ হাজার কোটি টাকার বাজেট পেশ করছেন অর্থমন্ত্রী
বড় বাজেট বাস্তবায়নে সক্ষম নয় বাংলাদেশ
বাজেটে গুরুত্ব পাওয়া ১০ খাতের শীর্ষে পরিবহন ব্যবস্থা
বরাদ্দ পাওয়া ১০ মন্ত্রণালয়ের শীর্ষে স্থানীয় সরকার
এক হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করার বরাদ্দ থাকছে বাজেটে








