রাজধানীর রামপুরায় জুলেখা আক্তার (৩৬) নামে এক নারীকে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামীর বিরুদ্ধে। নিহতের স্বজনদের দাবি, বুধবার (২৫ জুলাই) কোনও একসময় জুলেখাকে হত্যা করে পালিয়েছে তার স্বামী জাহাঙ্গীর। এরপর থেকে জাহাঙ্গীরকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। বৃহস্পতিবার নিহতের মরদেহ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল মর্গে নিয়ে যায় পুলিশ।
নিহত জুলেখা স্থানীয় একটি কিন্ডার গার্টেন স্কুলে শিক্ষকতা করতেন। বনশ্রী ডি ব্লকের ১০ নম্বর রোডের ৭ নম্বর বাড়িতে স্বামী সন্তান নিয়ে থাকতেন তিনি। তার গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহের নান্দাইলে।
ঢামেক মর্গে নিহতের বড় ভাই মো. শওকত আলী জানান, বুধবার কোনও একসময় জুলেখাকে হত্যা করে স্বামী জাহাঙ্গীর আলম ফকির পালিয়েছেন। তার স্বামী বেকার ছিলেন, তাদের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। তার নাম রায়য়ান (১২)। সে ৮ম শ্রেণির ছাত্র।
শওকত আলী আরও বলেন, ‘বুধবার রায়হান স্কুলে ছিল। দুপুরে বাসায় ফিরে দেখতে পায় তার মায়ের রুম বাইরে থেকে তালাবদ্ধ। পরে বাবাকে ফোন করে বিষয়টি জানালে বাবা ছেলেকে জানান, তোমার মা স্কুলে গিয়েছে। তুমি খাবার খেয়ে স্কুলে চলে যাও। স্কুল শেষে বাসায় ফিরে দেখে একই অবস্থা। আবার তার বাবাকে জানালে বাবা তাকে বলে তোমার মা আমার সাথে আছে, তুমি দারোয়ানের কাছ থেকে ১০ টাকা নিয়ে ফুফুর বাসায় চলে যাও। পরে রাতে রায়হান বাসায় ফিরে দেখতে পায় মায়ের জুতা বাইরে পড়ে আছে, যে জুতা পরে তার মা স্কুলে যায়। এদিকে বাবাকেও পরে ফোনে পায় না রায়হান। এতে তার সন্দেহ হয়। পরে বিষয়টি স্বজনদের জানানোর পর তারা এসে দরজার ফাঁক দিয়ে দেখতে পায় মায়ের ব্যাগও ভিতরে। এ সময় আশপাশের লোকজনকে ডাকলে তারা পুলিশকে জানায়। পুলিশ এসে ঘরের ভিতর থেকে জুলেখার মৃতদেহ উদ্ধার করে।’







