ঢাকার মানহানীর এক মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন আপিল বিভাগ। এর ফলে এ মামলায় খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল থাকছে বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবীরা। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে সোমবার (১ অক্টোবর) প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। অন্যদিকে খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট এ জে মোহাম্মদ আলী।
এর আগে মুক্তিযুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর অবদান ও শহীদদের সংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও মন্তব্য করায় ঢাকায় দায়ের মানহানী মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ছয় মাসের জামিন দেন হাইকোর্ট। এক জামিন আবেদনের শুনানি নিয়ে গত ১৪ আগস্ট বিচারপতি মুহাম্মদ আবদুল হাফিজ ও বিচারপতি কাশেফা হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। পরে সে আদেশ স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে আবেদন জানানো হয়। কিন্তু গত ৩০ আগস্ট চেম্বার বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী আবেদনটির ওপর নো অর্ডার (কোন আদেশ নয়) দেন। একইসঙ্গে আবেদনটি শুনানির জন্য ১ অক্টোবর দিন ধার্য রাখার আদেশ দেন। যার পরিপ্রেক্ষিতেই মামলাটি সোমবার (১ অক্টোবর) আপিল বিভাগের কার্যতালিকায় উঠে আসে এবং শুনানি হয়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০১৫ সালের ২১ ডিসেম্বর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল আয়োজিত এক আলোচনা সভায় মুক্তিযুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর অবদান ও শহীদদের সংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে বক্তব্য দেন খালেদা জিয়া।
পরদিন খালেদা জিয়ার ওই বক্তব্য বিভিন্ন জাতীয় পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। ওই বক্তব্যে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের নিয়ে কটাক্ষ করা হয়েছে, স্বাধীনতা যুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর অবদান এবং ভূমিকাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে। তাই এ ধরনের বক্তব্যে বিএনপির চেয়ারপরসন খালেদা জিয়া দণ্ডবিধি ৫০০ ধারা অনুযায়ী অপরাধ করেছেন। তাই খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ২০১৬ সালের ৫ জানুয়ারি ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে (সিএমএম) মামলাটি করেছিলেন জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এ বি সিদ্দিকী।
এ মামলায় গত ৭ আগস্ট খালেদা জিয়ার আবেদন নামঞ্জুর করেন বিচারিক আদালত। আদেশে আদালত বলেছেন, আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা পেন্ডিং আছে। তিনি এখনও এ মামলায় গ্রেফতার হননি। এ অবস্থায় আসামিপক্ষের জামিন শুনানির আবেদনটি রক্ষণীয় নয় বিধায়, নামঞ্জুর করা হলো।
এরপর ওই আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্ট থেকে জামিন পান খালেদা জিয়া। কিন্তু হাইকোর্টের সে আদেশ স্থগিত চেয়ে আবেদন করায় তা শুনানির জন্য আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠান চেম্বার আদালত।







