আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর এলাকায় একটি গার্মেন্টসের একই ফ্লোরে কাজ করার সুবাদে পরিচয় হয় হোসনে আরা ও ইউনুস আলীর। পরিচয়ের একপর্যায়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এরই মধ্যে চতুর ইউনুস হোসনে আরাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। রেজিস্ট্রি করতে টাকা লাগবে এই অজুহাতে পরিচয় গোপন রেখে মৌলভী ডেকে বিয়ে করেন। হোসনে আরার আগের স্বামী-সন্তানের কথা জানলে নিজের স্ত্রী-সন্তানের কথা গোপন করেন ইউনুস। বিয়ের পর নিশ্চিন্তপুর এলাকায় আলম মিয়ার বাসার একটি রুম ভাড়া নেয় তারা। মাসখানেক একসঙ্গে থাকলেও প্রায়ই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ঝগড়া লেগেই থাকতো তাদের। একইসঙ্গে সন্দেহ করেন স্ত্রীর সঙ্গে অন্য কারও প্রেমের সম্পর্ক হয়েছে। বিষয়টি ইউনুস তার এক নিকট আত্মীয়ের সঙ্গে শেয়ার করেন। তার পরিকল্পনা ও পরামর্শ মতে স্ত্রীকে খুন করে পালায় সে। ১১ ফেব্রুয়ারি নাটোরের সিংড়া থানার লাড়ুয়া হাতিয়ানদহ থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
বুধবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) পিবিআই’র এস আই সালেহ ইমরান এ কথা জানিয়েছেন।
তিনি জানান, ইউনুসের আত্মীয়ের পরিকল্পনা অনুযায়ী গত বছরের ৬ সেপ্টেম্বর স্ত্রীকে গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করে। এরপর লাশ বাথরুমে রেখে স্ত্রীর মোবাইল ফোন, কানের দুল ও পায়ের নূপুর নিয়ে দরজায় তালা লাগিয়ে আগের স্ত্রীর কাছে নাটোরের সিংড়ার লাড়ুয়া হাতিয়ানদহে চলে যায়।
দুই দিন পর ঘরের ভেতর থেকে গন্ধ বের হলে এলাকাবাসী আশুলিয়া থানায় সংবাদ দেয়। পরে পুলিশ ঘরের তালা ভেঙে বাথরুম থেকে লাশ উদ্ধার করে।
পরে হোসনে আরার বোন স্বপ্না বেগম বাদী হয়ে ইউনুস আলীর জায়গায় ইউসুফ নাম উল্লেখ করে থানায় একটি মামলা করলেও সেখানে ঠিকানা ছিল না। আশুলিয়া থানা পুলিশ তিন মাস মামলাটি তদন্ত করলেও তেমন কোনও অগ্রগতি হয়নি। এরপর পিবিআই’র কাছে মামলাটি হস্তান্তর করা হয়। ১১ ডিসেম্বর মামলার তদন্ত ভার পায় পিবিআই ঢাকা জেলার সাব ইন্সপেক্টর (এস আই) সালেহ ইমরান।
তিনি জানান, স্থানীয় সোর্স এবং প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণ করে তিনি জানতে পারেন অভিযুক্ত ব্যক্তি ইউসুফ নয়, তার আসল নাম ইউনুস আলী (২৫)। তার বাড়ি পাবনার আটঘরিয়া থানার চান্দাই পশ্চিমপাড়া গ্রামে। এরপর তিনি ইউনুসের ব্যাপারে খোঁজ-খবর নিয়ে ঘটনার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা নিশ্চিত হয়ে ১১ ফেব্রুয়ারি সিংড়ার লাড়ুয়া হাতিয়ানদহ থেকে তাকে গ্রেফতার করেন।
তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ইউনুস হত্যার কথা স্বীকার করেছে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হোসনে আরার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন এবং পায়ের নূপুর উদ্ধার করা হয়েছে।
পিবিআই ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাসান বারী নূর জানান, মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন আছে। আসামিকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কিনা তা যাচাই করে দেখা হচ্ছে।








