শিশুধর্ষণ: মীমাংসাকারীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের বিষয়ে জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
১৪ জুলাই ২০১৯, ১৬:৪৬আপডেট : ১৪ জুলাই ২০১৯, ১৭:২৪



শিশুধর্ষণ: মীমাংসাকারীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের বিষয়ে জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে চতুর্থ শ্রেণির বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় আপস-রফাকারীদের বিরুদ্ধে স্থানীয় প্রশাসন কী পদক্ষেপ নিয়েছে, তা জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে দোষীদের গ্রেফতার এবং তাদের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন ও চাঁদাবাজি মামলা হয়েছে কিনা, তাও জানাতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আগামী ২১ জুলাইয়ের মধ্যে ওই জেলার এসপি, স্থানীয় ওসি, ইউএনও এ বিষয়ে কী পদক্ষেপ নিয়েছেন, তা জানানোর জন্য ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলের প্রতি আদেশ দেওয়া হয়েছে। ওই ঘটনায় প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন আদালতের নজরে আনা হলে রবিবার (১৪ জুলাই) বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কেএম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এসব আদেশ দেন।

আদালতে প্রতিবেদনটি তুলে ধরেন ব্যারিস্টার আব্দুল হালিম। এ সময় রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার।
এর আগে, গত ১২ জুলাই ‘শিশু ধর্ষণে জরিমানা ১৪ হাজার টাকা’ শিরোনামে একটি জাতীয় দৈনিকে সংবাদ প্রকাশিত হয়।

প্রতিবেদনটি তুলে ধরার পর আদালত বলেন, ‘২ জনকে গ্রেফতারের কথা বলা হয়েছে। এ সময় আব্দুল হালিম বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও গ্রাম পুলিশ কীভাবে এই মীমাংসা করলেন? তারা তো পাবলিক সার্ভেন্ট। তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে।’

এরপর ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলের উদ্দেশে আদালত বলেন, আপনি খবর নিন। খবর নিয়ে আমাদের জানান। তারা (সালিশকারীরা) ৭ হাজার টাকা ভাগ করে নিয়েছেন। চাঁদাবাজি করেছেন। ওই টাকার ভাগ কে কে নিয়েছে? তাদের বিরুদ্ধে নারী শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ আইনে মামলা হয়েছে কিনা, চাঁদাবাজির মামলা হয়েছে কিনা, সব দেখতে হবে।
জবাবে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, এখানে ইউপি সদস্য নৈতিক স্খলনের দায়ে দোষী হবেন। তিনি এটা করতে পারেন না। প্রশাসন এ বিষয়ে কঠোর।
আদালত এ বিষয়ে দিনাজপুরের এসপি, ওসি ও ইউএনও কী পদক্ষেপ নিয়েছেন, তা রবিবারের মধ্যে জানাতে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলকে নির্দেশ দেন।
প্রসঙ্গত, পত্রিকায় প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনের বলা হয়, ঘটনার দিন রিকশাচালকের চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ুয়া প্রতিবন্ধী মেয়ে দোকান থেকে জুস নিয়ে বাড়ি ফিরছিল। পথে একই এলাকার বাসিন্দা মেহেদুল ইসলাম (৪০) শিশুটিকে রাস্তার পাশে জঙ্গলে নিয়ে ধর্ষণ করে। ওইদিন দুপুরে স্থানীয় ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলাম বাবলু, গ্রাম পুলিশ আব্বাস উদ্দিন, রাজমিস্ত্রি সুজন ও শফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে সালিশ বসে। সালিশে মেহেদুল ক্ষমা চান। পরে তাকে ১৪ হাজার টাকা জরিমানা করে তাৎক্ষণিকভাবে তা আদায় করা হয়। আর শিশুটির বাবাকে ৭ হাজার টাকা দিয়ে কোনও মামলা না করার শর্ত দিয়ে ৩০০ টাকার সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করাতে বাধ্য করা হয়। বাকি টাকা সালিশকারীরা ভাগ করে নেন। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে ছাত্রীর বাবা বৃহস্পতিবার কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলার পর মেহেদুল ও সুজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। 

/বিআই/এমএনএইচ/এমএমজে/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
এই অর্জন বাংলাদেশের শক্তিশালী কূটনৈতিক অবস্থানকে তুলে ধরে: খলিলুর রহমান  
এই অর্জন বাংলাদেশের শক্তিশালী কূটনৈতিক অবস্থানকে তুলে ধরে: খলিলুর রহমান  
‘মুখ খোলো মমতা, জানতে চায় জনতা’ স্লোগানে ইনকিলাব মঞ্চের মশাল মিছিল
‘মুখ খোলো মমতা, জানতে চায় জনতা’ স্লোগানে ইনকিলাব মঞ্চের মশাল মিছিল
আর্জেন্টিনা আরও চার ফুটবলারকে প্রস্তুত রাখছে
আর্জেন্টিনা আরও চার ফুটবলারকে প্রস্তুত রাখছে
কুমিরের আক্রমণে সন্তানের মৃত্যুর পর ফজিলাকে খুঁজে পেলো পরিবার
কুমিরের আক্রমণে সন্তানের মৃত্যুর পর ফজিলাকে খুঁজে পেলো পরিবার
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের