ফেনীর সোনাগাজী থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের দায়ের করা মামলার সাক্ষী সময় টেলিভিশনের সাংবাদিক আতিয়ার হাওলাদার সজলের জেরা শেষ হয়েছে। পরবর্তী সাক্ষীর জন্য আগামী ২ অক্টোবর তারিখ ধার্য করেন আদালত। বুধবার (২৫ সেপ্টেম্বর) পরবর্তী সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য নতুন তারিখ ধার্য করেন সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেন।
বুধবার সাক্ষী সজলকে প্রথমে জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী ফারুক আহমেদ। জেরার একপর্যায়ে আরেক আইনজীবী মোশারফ হোসেন কাজল সাক্ষীকে জেরার করার আবেদন করেন। কিন্তু এই মামলায় তার ওকালতনামা না থাকায় জেরা করার অনুমতি দেননি আদালত। এরপর আইনজীবী ফরুক আহমেদ পরবর্তী জেরার সময়ের আবেদন করেন। আদালত ওই আবেদনও নামঞ্জুর করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ নজরুল শামীম জব্দতালিকার দুজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আবেদন করলে তা মঞ্জুর করেন আদালত।
এর আগে, ১৭ জুলাই অভিযোগ গঠন করে সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ৩১ জুলাই দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল ।
প্রসঙ্গত, গত ১৬ জুন দুপুরে রাজধানীর শাহবাগ এলাকা থেকে ওসি মোয়াজ্জেমকে গ্রেফতার করে শাহবাগ থানা পুলিশ। পরদিন ১৭ জুন তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন সাইবার ট্রাইব্যুনাল।
এরআগে, ২৭ মে ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার রীমা সুলতানা মামলার ১২৩ পৃষ্ঠার একটি প্রতিবেদন জমা দেন ট্রাইব্যুনালে। এরপর বাদীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।
উল্লেখ্য, ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী ছিলেন নুসরাত জাহান রাফি। ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলার বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ এনেছিলেন তিনি। নুসরাতের মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে ২৭ মার্চ সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। এরপর অধ্যক্ষকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ওই মামলায় নুসরাতের বক্তব্য গ্রহণের সময় তা ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে। ৬ এপ্রিল পরীক্ষা দিতে গেলে নুসরাতকে কৌশলে একটি ভবনের ছাদে ডেকে নিয়ে তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেওয়া হয়। পাঁচ দিন পর ১০ এপ্রিল ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নুসরাত মারা যান।







