রাজধানীর নবাবপুর রোডে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের নামে বরাদ্দ হওয়া বাড়ি দখলের অভিযোগে শেখ মো. জাবেদ উদ্দিন ও মিরাজ মো. জাকির উদ্দিনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মামলার এজাহারে এই দুজনকে জালিয়াত ও ভূমিদস্যু চক্রের সদস্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
রবিবার (২২ ডিসেম্বর) দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে (ঢাকা-১) মামলাটি হয় বলে দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য নিশ্চিত করেন।
দুদকের উপপরিচালক মো. সালাহউদ্দিন বাদী হয়ে মামলাটি করেছেন। এজাহারে ঘটনার সময়কাল ২০১২ সাল থেকে ২০১৯ সালের ২২ ডিসেম্বর পর্যন্ত উল্লেখ করা হয়েছে।
দুদক জানায়, মুক্তিযুদ্ধের সময় কুমিল্লার জেলা প্রশাসক ছিলেন এ কেএম শামসুল হক খান। মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্র সরবরাহের কারণে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী তাকে হত্যা করে। ১৯৭৪ সালে ২২১ নবাবপুর রোডে শামসুল হক খানের মা মাসুদা খানের নামে ৫ কাঠার একটি প্লট বরাদ্দ দেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। প্রতিবছর লিজ নবায়ন করে ওই জমিটি ভোগদখল করছিলেন শামসুল হক খানের ভাই ফজলুল হক খান ও আজহারুল হক খান।
মামলার এজাহারে বলা হয়, প্রাপ্ত তথ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে, মূল সুবিধাভোগী আসামি শেখ জাবেদ উদ্দিন একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক ও সরকারি ভূমি দখলকারি চক্রের মূল হোতা। তিনি জাল দলিল তৈরি করে সংঘবদ্ধ চক্রের অন্য সদস্য আমমোক্তার মিরাজ মোহাম্মদ জাকির উদ্দিনের সহযোগিতায় তপন কুমার বসাকের নাম ব্যবহার করে। অবৈধভাবে নবাবপুর রোডের ২২১ নম্বর হোল্ডিংয়ের ৩ তলা ভবন ভেঙ্গে অবৈধ অনুপ্রবেশ করে। এর মধ্য দিয়ে দণ্ডবিধির ৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/৪৭৭(ক)/১০৯ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন তারা।
এজাহারে বলা হয়, আসামি জাবেদ ও মিরাজ ২২২ নবাবপুর রোডের বাসিন্দা। তাদের স্থায়ী ঠিকানা নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানার লক্ষণ খোলা। তারা ভূমিদস্যু ও জালিয়াতি চক্রের সদস্য। এই জালিয়াত চক্র তপন কুমার বসাকের নাম ব্যবহার করে জাল দলিল ও জাল রেকর্ডপত্রকে খাঁটি হিসেবে বিভিন্ন সরকারি দফতরে দাখিল করে শহীদ পরিবারের অনুকূলে লিজ হওয়া ২ কোটি ৩ লাখ ৩৫ হাজার ৬৬৪ টাকা মূল্যের প্লট দখল করে। একইসঙ্গে তারা প্লটের ওপর থাকা তিনতলা ভবন ভেঙ্গে নতুন বহুতল ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে বেজমেন্টও নির্মাণ করে।








