যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে (বালক) তিন কিশোর হত্যার ঘটনায় প্রত্যেক পরিবারকে ৫০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে দেশের তিনটি শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে বিদ্যমান অনিয়ম ও সমস্যা দূরীকরণে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, রুলে তাও জানতে চেয়েছেন আদালত। আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সচিব, সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয় সচিব, সমাজ সেবা অধিদফতরের মহাপরিচালক, যশোরের জেলা প্রশাসক, যশোর পুলিশ সুপার, যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের কর্তৃপক্ষকে এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
এ সংক্রান্ত এক রিটের শুনানি নিয়ে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি মো. খসরুজ্জামান ও বিচারপতি মাহমুদ হাসান তালুকদারের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার সানজিদ সিদ্দিকী।
এর আগে গত ১৩ আগস্ট যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে কিশোর ‘বন্দিদের’ অমানুসিক মারধর করা হলে তিন কিশোর নিহত ও অন্তত ১৫ জন আহত হয়। এ ঘটনায় ১৪ আগস্ট রাতে নিহত কিশোর পারভেজ হাসান রাব্বির বাবা রোকা মিয়া যশোর কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেন।
মামলায় যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে কর্তৃপক্ষকে আসামি করা হয়। পুলিশ এ মামলায় কেন্দ্রের সহকারী পরিচালকসহ পাঁচ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে গ্রেফতার করে।
যশোরের জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহাদী হাসান কেন্দ্রের তত্ত্ববধায়ক (সহকারী পরিচালক) আব্দুল্যা আল মাসুদ, সহকারী তত্ত্ববধায়ক (প্রবেশন অফিসার) মাসুম বিল্লাহ, ফিজিক্যাল ইন্সট্রাক্টর একেএম শাহানুর আলমকে পাঁচদিনের ও সাইকো সোস্যাল কাউন্সিলর মুশফিকুর রহমান ও কারিগরি প্রশিক্ষক (ওয়েল্ডিং) ওমর ফারুককে তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এদিকে, ওই পাঁচ কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়।
পরে ব্যারিস্টার সানজিদ সিদ্দিকী আইনি নোটিশের মাধ্যমে নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশনা চান। কিন্তু সে নোটিশের কোন জবাব না পেয়ে তিনি হাইকোর্টে ক্ষতিপূরণ চেয়ে এ রিট দায়ের করেন।








