দিনাজপুরের পার্বতীপুরে পাঁচ বছরের শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টা মামলাটি আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে দিনাজপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালকে এই আদেশ বাস্তবায়ন করে হাইকোর্টে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। এছাড়াও মামলা নিষ্পত্তিতে প্রসিকিউশনের (রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী) গাফিলতি পেলে আইনগত ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি দিনাজপুরের সমাজসেবা অধিদফতর এবং নারী ও শিশু বিষয়ক কর্মকর্তাকে ভুক্তভোগীর চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
ওই শিশুর মামলা নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতার বিষয়টি নজরে আনার পর রবিবার (৬ ডিসেম্বর) বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ স্বতপ্রণোদিত হয়ে এই আদেশ দেন। আদালতে বিষয়টি নজরে আনেন আইনজীবী মো. আতাউল্লাহ নুরুল কবির। এই সময় রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সরোয়ার হোসেন বাপ্পী।
মামলার অভিযোগে জানা যায়, ২০১৬ সালের ১৮ অক্টোবর দুপুরে ভুক্তভোগী শিশুকে বাড়ির সামনে থেকে কৌশলে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে ধর্ষণ করে সাইফুল ইসলাম। এ কাজে তাকে সহযোগিতা করে আফজাল হোসেন কবিরাজ। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে শিশুটিকে শ্বাসরোধ করে হত্যাচেষ্টা এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতসহ সিগারেটের ছ্যাঁকা দেওয়া হয়। একপর্যায়ে বাড়ির পাশের একটি হলুদক্ষেতে শিশুটিকে পুঁতে রাখা হয়। এদিকে বাড়ির লোকজন অনেক খোঁজাখুঁজি করে শিশুটিকে না পেয়ে পার্বতীপুর মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। পরদিন সকালে শিশুটিকে বাড়ির পাশের হলুদক্ষেত থেকে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভর্তি করা হয়। এরপর তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়।
ওই ঘটনায় গত ২০ অক্টোবর রাতে শিশুর বাবা পার্বতীপুর থানায় একই গ্রামের জহির উদ্দিনের ছেলে সাইফুল ইসলাম ও আফজাল হোসেন কবিরাজকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। তবে সেই মামলাটি দীর্ঘদিন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় ঝুলে থাকায় বিষয়টি উচ্চ আদালতের নজরে আনা হলে হাইকোর্ট এই আদেশ দেন।








