অস্ত্র ও মাদক মামলায় ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হাজী সেলিমের ছেলে ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের (বরখাস্ত) কাউন্সিলর ইরফান সেলিমকে অব্যাহতির সুপারিশ করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়েছে পুলিশ। তবে তার দেহরক্ষী জাহিদুল মোল্লাকে অভিযুক্ত করে আদালতে এই দুই মামলায় চার্জশিট দিয়েছেন পুলিশ।
মঙ্গলবার (৫ জানুয়ারি) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশেক ইমামের আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চকবাজার থানার পরিদর্শক (অপারেশন) মুহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন প্রতিবেদন জমা দেন।
চকবাজার থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক শওকত হোসেন এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ্য করেন, মামলাটির গোপন ও প্রকাশ্য তদন্ত, সাক্ষীদের সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং ঘটনাস্থলের জব্দ তালিকা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। সরেজমিন তদন্তে দেখা গেছে, মামলার এজাহার ও জব্দ তালিকায় ঘটনাস্থল অভিযুক্ত ইরফান সেলিমের শয়নকক্ষ উল্লেখ করা হলেও সেটি তার শয়নকক্ষ নয়, সেটি ছিল অতিথি কক্ষ। ঘটনাস্থলের বাড়িটির মালিক ইরফান সেলিমের বাবা হাজী মোহাম্মদ সেলিম ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য। পুরো পরিবার একটি রাজনৈতিক পরিবার বলে ওই কক্ষে অতিথি আসা অতিথি ছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাকর্মী আসেন। তা ছাড়া অভিযুক্ত ৩০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর হওয়ায় এলাকার সাধারণ জনগণও আসেন তার সঙ্গে একান্তে দেখা-সাক্ষাৎ করতো।
তদন্ত কর্মকর্তা আরও উল্লেখ করেন, এ মামলার জব্দ করা আলামত পিস্তলের বিষয়ে মামলার বাদী এজাহারে ও জব্দ তালিকায় কার অস্ত্র এবং কার দেখানো মতে জব্দ করা হয়েছে, তা উল্লেখ করেননি। মামলার প্রকাশ্য ও গোপন তদন্তে, গৃহীত সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং ঘটনার পারিপার্শ্বিকতায় অভিযুক্ত ইরফান সেলিমের বিরুদ্ধে অস্ত্র মামলার অপরাধ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়নি। তাই মামলার দায় থেকে তাকে অব্যাহিত দেওয়ার জন্য আদালতে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা।
গত ২৫ অক্টোবর রাতে কলাবাগানের ট্রাফিক সিগন্যালে হাজী সেলিমের একটি গাড়ি থেকে দুই-তিন জন ব্যক্তি নেমে ওয়াসিম আহমেদ খানকে ফুটপাতে ফেলে এলোপাথাড়ি মারধর করে। পরে ট্রাফিক পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে। পথচারীরা এই দৃশ্য ভিডিও করেন, যা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। ধানমন্ডি থানা পুলিশ এসে ঘটনাস্থল থেকে গাড়িটি থানায় নিয়ে যায়। বর্তমানে গ্রেফতার মিজানুর ও গাড়ি ধানমন্ডি থানায় রয়েছে।
ওয়াসিফ আহমেদ এজাহারে অভিযোগ করেন, তিনি নীলক্ষেত দিয়ে বই কিনে মোহাম্মদপুরের দিকে তার বাসার দিকে মোটরসাইকেলে করে ফিরছিলেন। তার স্ত্রীও তার সঙ্গে ছিলেন। ল্যাবএইড হাসপাতালের সামনে তার মোটরসাইকেলটিকে পেছন থেকে একটি গাড়ি ধাক্কা দেয়। ওয়াসিম আহমেদ মোটরসাইকেল থামিয়ে গাড়িটির গ্লাসে নক করে নিজের পরিচয় দিয়ে ধাক্কা দেওয়ার কারণ জানতে চান। তখন এক ব্যক্তি বের হয়ে তাকে গালিগালাজ করে গাড়িটি চালিয়ে কলাবাগানের দিকে আসে। মোটরসাইকেল নিয়ে ওয়াসিফ আহমেদও তাদের পেছনে পেছনে আসেন। কলাবাগান বাসস্ট্যান্ডে গাড়িটি থামলে ওয়াসিফ তার মোটরসাইকেল নিয়ে গাড়ির সামনে দাঁড়ান। তারা তাকে কিল-ঘুষি দিতে থাকে। এরপর তারা পালিয়ে যায়।’
এরপর ২৮ অক্টোবর র্যাব-৩ এর ডিএডি কাইয়ুম ইসলাম চকবাজার থানায় এরফান সেলিম ও দেহরক্ষী জাহিদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদকের পৃথক চারটি মামলা করেন।









