সালিশ করতে গিয়ে কিশোরীকে বিয়ে করা চেয়ারম্যানের বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ হাইকোর্টের

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
২৭ জুন ২০২১, ২১:৪৮আপডেট : ২৭ জুন ২০২১, ২১:৪৮

পটুয়াখালীর বাউফলে সালিশ করতে গিয়ে এক কিশোরীকে চেয়ারম্যানের বিয়ে করার ঘটনা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আগামী ৩০ দিনের মধ্যে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসককে চেয়ারম্যানের ক্ষমতার অপব্যবহার, পিবিআইকে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধের বিষয়ে এবং জেলা নিবন্ধক অফিসারকে বিয়ে নিবন্ধনের বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি ওই ঘটনার পর কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তাও আদালতকে জানাতে বলা হয়েছে।

পৃথক ওই তিনটি প্রতিবেদন সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল বরাবরে দাখিল করতে বলেছেন আদালত। একইসঙ্গে ওই কিশোরীকে নিরাপত্তা দিতে স্থানীয় এসপিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন নজরে আনা হলে রবিবার (২৭ জুন) বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি এস এম মনিরুজ্জামানের সমন্বয়ে গঠিত ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এসব আদেশ দেন। এছাড়াও মামলার পরবর্তী আদেশের জন্য আগামী ৮ আগস্ট দিন নির্ধারণ করেছেন আদালত।

প্রতিবেদন আদালতের নজরে এনে এ বিষয়ে শুনানি করেন আইনজীবী আমাতুল করিম ও ইকরামুল টুটুল। তাদের সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী খায়রুন্নেসা নাসিমা, সীমা জহুর ও কানিজ ফাতেমা।

শুনানিকালে আদালত বলেছেন, পত্রিকার প্রতিবেদন দেখে যা বুঝলাম সালিশ করার জন্য ক্ষমাপ্রাপ্ত হয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন চেয়ারম্যান।

এর আগে কনকদিয়া ইউনিয়নের নজরুল ইসলামের মেয়ের সঙ্গে একই ইউনিয়নের নারায়ণপাশা গ্রামের রমজান নামে এক যুবকের প্রেমের সম্পর্ক প্রকাশ পায়। পরে গত ২৪ জুন রাতে তারা দুজন পালিয়ে যায়। বিষয়টি কিশোরীর বাবা কনকদিয়ার ইউপি চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদারকে জানান। এরপরে চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদার আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে দেওয়ার কথা বলে পরদিন (২৫ জুন) কনকদিয়া ইউপি কার্যালয়ে ছেলে ও মেয়ের পরিবারকে যাওয়ার নির্দেশ দেন।

২৫ জুন সকাল ৯টার দিকে দুই পরিবারের সদস্যরা ইউপি কার্যালয়ে যান। সেখানে মেয়েটিকে দেখে পছন্দ হয়ে যায় চেয়ারম্যানের। তিনি মেয়েটিকে বিয়ে করার আগ্রহ দেখান।

একইদিন (২৫ জুন) দুপর ১টায় স্থানীয় কাজী মো. আবু সাদেককে বাড়িতে ডেকে পাঁচ লাখ টাকা দেনমোহরে ওই কিশোরীকে বিয়ে করেন চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদার। এদিকে এই বিয়ের পর তা জানাজানি হলে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। পরে সমালোচনার মুখে গত ২৬ জুন ওই একই কাজীর মাধ্যমে কিশোরী মেয়েটিকে তালাক দেন চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদার।

চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদারের দাবি, মেয়েটি তাকে স্বামী হিসেবে মেনে না নেওয়ায় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বর্তমানে মেয়েটি তার বাবার হেফাজতে আছে বলেও জানা গেছে।

/বিআই/এমআর/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
দেশে ফিরেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান
দেশে ফিরেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান
মূল্যস্ফীতির আগুনে পুড়ছে মানুষ, বাড়ছে বিদ্যুতের দাম এরপর কী
মূল্যস্ফীতির আগুনে পুড়ছে মানুষ, বাড়ছে বিদ্যুতের দাম এরপর কী
থানায় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকে নির্যাতনের অভিযোগ, পুলিশের তদন্ত কমিটি
থানায় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকে নির্যাতনের অভিযোগ, পুলিশের তদন্ত কমিটি
কট্টরপন্থি ইহুদিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার নির্দেশ নেতানিয়াহুর
কট্টরপন্থি ইহুদিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার নির্দেশ নেতানিয়াহুর
সর্বাধিক পঠিত
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম