শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা: হাইকোর্টে দুই আসামি খালাস

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
৩০ জুন ২০২১, ১৫:৫৪আপডেট : ৩০ জুন ২০২১, ১৫:৫৫

২০১৪ সালে পিরোজপুরে ৩য় শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যা ঘটনায় করা মামলায় বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামিকে খালাস দিয়েছেন হাইকোর্ট।

তারা হলেন মেহেদি হাসান স্বপন (২২) ও সুমন জমাদ্দার (২০)।

আসামিদের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি শেষে বুধবার (৩০ জুন) বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথ ও বিচারপতি এ এসএম আব্দুল মবিনের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।

আদালতে আসামিদের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী শিশির মো. মনির। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শাহীন আহমেদ খান।

আপিল শুনানিতে আইনজীবী শিশির মনির আদালতকে বলেন, আসামি সুমন জমাদ্দার দাবি করেন যে, তিনি ঘটনার সময় একজন শিশু ছিলেন। তখন তার বয়স ছিল ১৬ বছর। কিন্তু ২০১৬ সালের ৩১ জানুয়ারি পিরোজপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল তাকে প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে বিচার করে এবং মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে।

পরে আইনজীবী শিশির মো. মনির বলেন, আজ সংক্ষিপ্ত রায় দিয়েছেন আদালত। দুই সপ্তাহ পর পূর্ণাঙ্গ রায়ে এ বিষয়ে বিস্তারিত থাকবে বলেও জানিয়েছেন আদালত।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, জেলার মঠবাড়িয়া উপজেলার ঝাটিবুনিয়া গ্রামের ৯ বছর বয়সী শিশুটি উপজেলার বুখাইতলা বান্ধবপাড়া গ্রামে তার নানা বাড়িতে থেকে স্থানীয় হাতেম আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩য় শ্রেণিতে পড়াশোনা করতো। ২০১৪ সালের ৫ অক্টোবর সকালে শিশুটি তার নানার একটি গরু স্কুল মাঠে ঘাস খাওয়াতে নিয়ে যায়। দুপুর গড়িয়ে গেলেও সে ঘরে ফিরে না আসায় নানাবাড়ির লোকজন বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করে। পরদিন দুপুরে প্রতিবেশী শাহজাহান জমাদ্দার বাগানে বিবস্ত্র অবস্থায় ওড়না পেঁচানো ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ পাওয়া যায়। খবর পেয়ে মঠবাড়িয়া থানা পুলিশ মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য পিরোজপুর জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

ময়না তদন্তকারী ডাক্তার ননী গোপাল রায় তার রিপোর্টে উল্লেখ করেন, শিশুটিকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। পরে ইতির বাবা ২০১৪ সালের ৬ অক্টোবর একটি মামলা করেন।

এ মামলায় তদন্ত শেষ করে ২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারি উপরোক্ত দুই আসামির বিরুদ্ধে চার্জশীট দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা। একই বছরের ৭ এপ্রিল তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। আসামি সুমন জমাদ্দার ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। পরবর্তীতে এই জবানবন্দি প্রত্যাহার করেন। রাষ্ট্রপক্ষ সর্বমোট ১৩ জন সাক্ষী উপস্থাপন করে। অপরপক্ষে আসামিদ্বয় ১১ জন সাক্ষী হাজির করে।

পরে ২০১৬ সালের ৩১ জানুয়ারি পিরোজপুরের জেলা ও দায়রা জজ এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. গোলাম কিবরিয়া আসামী দুইজনকে ফাঁসির আদেশ দেন।

পরে এ মামলায় মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য হাইকোর্টে আসে। একইসঙ্গে আসামিরাও আপিল দায়ের করে। সে আপিল এবং ডেথ রেফারেন্সেরর শুনানি শেষে হাইকোর্ট আসামিদের খালাসের রায় দিলেন।



/বিআই/এনএইচ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
উচ্চ ক্ষমতার কার্বন ফাইবারের বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু চীনে
উচ্চ ক্ষমতার কার্বন ফাইবারের বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু চীনে
অলসতা মনে হলেও যে অভ্যাসগুলো হতে পারে বুদ্ধিমত্তার লক্ষণ
অলসতা মনে হলেও যে অভ্যাসগুলো হতে পারে বুদ্ধিমত্তার লক্ষণ
হঠাৎ রেমিট্যান্স আসা কমে গেলো
হঠাৎ রেমিট্যান্স আসা কমে গেলো
টেইটের জায়গায় তালহা জুবায়ের, প্রশংসায় ভাসালেন হান্নান সরকার 
টেইটের জায়গায় তালহা জুবায়ের, প্রশংসায় ভাসালেন হান্নান সরকার 
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের