মাইক্রো বাস ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে চালককে, যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে এবং শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগের পৃথক তিন মামলায় মোট চার আসামির মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রেখেছেন সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ।
হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আসামিদের পৃথক পৃথক আপিল আবেদনের শুনানি শেষে সোমবার (৯ আগস্ট) প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের আপিল বেঞ্চ এসব রায় দেন।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিশ্বজিৎ দেবনাথ।
মাইক্রো বাস চালককে হত্যা
এই মামলায় অভিযুক্ত আসামিরা হলো বগুড়া জেলার রহবল পূর্ব পাড়ার খোকন আকন্দ এবং রংপুর জেলার পীরগঞ্জের হাসানপুর গ্রামের আল আমিন মিয়া। তাদের বিরুদ্ধে ২০০৫ সালের ২৫ এপ্রিল যমুনা সেতুর কাছাকাছি রাতের বেলা মাইক্রো বাস ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে চালককে হত্যা করার অভিযোগে মামলা হয়।
ওই মামলায় ২০১১ সালের ৯ জুন আসামি খোকন আকন্দ এবং আল আমিনকে সিরাজগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ আদালত মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করেন। এরপর হাইকোর্ট বিভাগ ২০১৭ সালের ১৯ জানুয়ারি ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি শেষে বিচারিক আদালতের মৃত্যুদণ্ডের রায় অনুমোদন করেন। এরপর সে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন (জেল আপিল) জানানো হয়। শুনানি শেষে আপিল বিভাগ আসামিদের মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রাখেন।
যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে হত্যা
এই মামলায় অভিযুক্ত আসামি হলো সিরাজগঞ্জ তাড়াশ থানাধীন বট বাটা গ্রামের মো. আব্দুল লতিফ। তার বিরুদ্ধে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগে মামলা হয়। এই মামলায় সিরাজগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল অভিযুক্ত আব্দুল লতিফকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করেন।
পরবর্তীতে ২০১৭ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি আসামির ডেথ রেফারেন্সের শুনানি নিয়ে আব্দুল লতিফের মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদন করেন হাইকোর্ট। উক্ত রায়ের বিরুদ্ধে আব্দুল লতিফ সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগে জেল আপিল দায়ের করেন। শুনানি নিয়ে আপিল বিভাগ জেল আপিল খারিজ করে দেন। ফলে তার মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল থেকে যায়।
শিশুকে ধর্ষণ করে হত্যা
এই মামলায় একমাত্র অভিযুক্ত আসামি হলো সিরাজগঞ্জ সদর ডুমুর মুসা পশ্চিম পাড়ার শাহিদুল ইসলাম শেখ। তার বিরুদ্ধে ৮ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণ করে হত্যার অভিযোগে মামলা করা হয়। গ্রেফতারের পর আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে।
বিচার শেষে সিরাজগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ২০১৩ সালের ২ জানুয়ারি শাহিদুলকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করেন। পরবর্তীতে হাইকোর্ট বিভাগ ২০১৮ সালের ৯ জুলাই আসামির মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদন করেন।
এরপর হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন জানায় শাহিদুল। শুনানি শেষে সে আপিল খারিজ করে আসামির মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রাখেন আপিল বিভাগ।









