মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গণে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভূমিকা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন করেছেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থিত নেতৃবৃন্দরা।
রবিবার (২৯ আগস্ট) সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতিতে পৃথক পৃথক কর্মসূচিতে উক্ত সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সমিতির বিএনপি সমর্থিত সম্পাদক ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজলের নেতৃত্বে প্রথম সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, 'মুক্তিযুদ্ধে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের অসামান্য অবদান একটি মীমাংসিত সত্য৷ ১৯৭১ সালে দিশেহারা এ জাতির ক্রান্তিকালে তৎকালীন মেজর জিয়া যদি পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ না করতেন ও চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা না দিতেন, তাহলে আজকে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের সৃষ্টি হতো কিনা সেটাই যেখানে প্রশ্ন, সেখানে মুক্তিযুদ্ধকালে রণাঙ্গনে শহীদ জিয়ার ভূমিকা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্ন উত্থাপন মুক্তিযুদ্ধের প্রতি চরম অবমাননার শামিল। মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সরকার একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান রণাঙ্গনে যে সাহসিকতা ও ভূমিকা রেখেছিলেন তার স্বীকৃতি স্বরূপ তাকে বীরোত্তম খেতাবে ভূষিত করে৷'
তিনি আরও বলেন, 'জিয়াউর রহমানের মতো এমন একজন বীর সেনানী এবং সফল রাষ্ট্রনায়ক সম্পর্কে তার চরিত্রে কালিমা লেপনের যে অপচেষ্টা অতিসম্প্রতি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে করা হয়েছে, সেটি অত্যন্ত বিভ্রান্তিমূলক এবং ইতিহাসের মীমাংসিত সত্যের বিকৃতি৷ এ ধরনের মিথ্যা ও বিভ্রান্তিমূলক বক্তব্য প্রদান থেকে সকলকে বিরত থাকার জন্য আহ্বান জানাই। একই সাথে দেশপ্রেমিক সাধারণ মানুষকেও ইতিহাস বিকৃতির অপচেষ্টার বিষয়ে সজাগ থাকার জন্য আহ্বান জানাই। আমরা বিশ্বাস করি, মহান মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশ বিনির্মাণে শহীদ জিয়ার অবদান চির ভাস্বর হয়ে থাকবে৷
সমিতির আওয়ামী লীগ সমর্থিত সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ শফিক উল্লাহের নেতৃত্বে দ্বিতীয় সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারির বরাত দিয়ে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সহ-সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাহমুদ হাসান স্বাক্ষরিত বিবৃতিটি সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির প্যাড ও স্বারক ব্যবহার করে জনসম্মুখে সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজলের ব্যক্তিগত বক্তব্যকে প্রচার করে জনগণের মাঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার পায়তারা করেছেন মাত্র এবং এই বিবৃতিটি একান্ত তার ব্যক্তিগত বক্তব্য যা বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নয়।
তিনি বলেন, ইতোপূর্বে সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন সভাপতি-সম্পাদক থেকে অনেকেই জাতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন ছিলেন এবং আছেন। কিন্তু বিজ্ঞ আইনজীবী নেতারা নিজ স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশে সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনকে কখনই রাজনৈতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করেননি। দল-মত নির্বিশেষে নিরপেক্ষতার প্রশ্নে সবসময় ওনারা ছিলেন বদ্ধপরিকর ও আপসহীন। অথচ আজ সুপ্রিম কোর্ট বারের প্যাড ব্যবহার করে নিজ রাজনৈতিক দলের মত প্রকাশ করার মতো সস্তা রাজনীতি করে সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের দীর্ঘদিনের ইতিহাস, ঐতিহ্যকে ধ্বংস করার চক্রান্ত শুরু করা হলো।
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময় খন্দকার মোশতাক আহমেদ ও জিয়াউর রহমানসহ কিছু ব্যক্তি পাকিস্তানের পক্ষ হয়ে কনফেডারেশন করার জন্য ষড়যন্ত্র করেছিলেন দাবি করে অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ শফিক উল্লাহ বলেন, স্বাধীনতার পরবর্তী সময় বঙ্গবন্ধু যখন দেশ গড়ার কাজে ব্যস্ত তখন জিয়াউর রহমান দেশে অরাজক সৃষ্টিকারী গণবাহিনী ও সর্বহারা বাহিনীর পৃষ্ঠপোষকতা করে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছিলেন। ১৯৭৫ সালে ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুসহ তার পরিবারের সদস্যদের বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর কিছু সংখ্যক দুষ্কৃতিকারী সৈনিক জিয়া ও মোশতাকের ষড়যন্ত্রের উদ্দেশ্য সফল করার জন্য জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুসহ তার পরিবারের সদস্যদের নির্মমভাবে হত্যা করে।
তিনি বলেন, জিয়া সামরিক আইন জারি করে বন্দুকের নল দ্বারা ক্ষমতায় প্রতিস্থাপিত হয়েছিল। পঁচাত্তর পরবর্তী সময়ে খুনি জিয়াউর রহমান সামরিক বাহিনীতে গুপ্ত হত্যা রাজনীতিবিদ হত্যাসহ এহেন কর্মকাণ্ড নেই যা করেনি। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদকের বক্তব্য তার দলীয় বক্তব্য যা সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির বক্তব্য নয় বরং তিনি সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির প্যাড ও স্বারক তাদের হীন দলীয় ও রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করে বারের ঐতিহ্য ও রাতিনীতি লংঘনের মতো জঘন্য অপরাধ করেছেন। অনতিবিলম্বে তার বক্তব্য প্রত্যাহার করে জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার জন্য অনুরোধ করা হলো। অন্যথায় বিজ্ঞ আইনজীবীদের সঙ্গে নিয়ে তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলবো।









