রাজধানীর মালিবাগে এক বৃদ্ধা গৃহকর্ত্রীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন করার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গৃহকর্মী রেখা ও তার স্বামীর বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা শাহজাহানপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক রেজাউল করিম। বৃহস্পতিবার (২ সেপ্টেম্বর) আদালতের সংশ্লিষ্ট থানার সাধারণ নিবন্ধন শাখা থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
জানা যায়, ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গত ৩১ জুলাই এই চার্জশিট দাখিল করেন। তিনি মামলায় ২৪ জনকে সাক্ষী করেন। আগামী ৫ অক্টোবর এ মামলার চার্জশিট গ্রহণের জন্য দিন ধার্য রয়েছে।
এর আগে ২২ জানুয়ারি ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাসুদুর রহমানের আদালত তাদের দুই জনের ৮ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
গত ১৮ জানুয়ারি সকাল সোয়া ১০টায় বৃদ্ধা বিলকিস বেগম শুয়ে ছিলেন। পরম যত্নে তার সেবা করছিলেন রেখা আকতার। তারপর হঠাৎ জোর করে বিলকিস বেগমকে বাথরুমে ঢোকায় রেখা। খুলে ফেলে তার জামা-কাপড়। শীতের সকালে বৃদ্ধার গায়ে ইচ্ছেমতো ঢালা হয় ঠান্ডা পানি। কিন্তু বিলকিস বেগমকে আটকাতে না পেরে লাঠি দিয়ে মারা শুরু করে রেখা। মার খেয়ে বৃদ্ধা ফ্লোরে পড়ে গেলেও ক্ষান্ত হয় না রেখা। একের পর এক আঘাত হানে মাথায়। একপর্যায়ে হাতের কাছে যা পেয়েছে তাই দিয়েই চালিয়েছে নির্যাতন। আলমারির চাবির জন্য বুকের ওপর চেপে বসে। বঁটি হাতেও তেড়ে আসে। তার লক্ষ্য আলমারি। একসময় অসহায়ের মতো আত্মসমর্পণ করেন বিলকিস বেগম। তারপর রেখা গলা থেকে চেইন খুলে পরে নেয় আয়েশি ভঙ্গিতে। নিয়ে নেয় হাতের বালা। আলমারির চাবি পেয়েও খুলতে পারছিল না রেখা। পরে রক্তাক্ত বৃদ্ধাকে টেনে নিয়ে বাধ্য করে আলমারি খুলে দিতে। এরপর ড্রয়ার খুলে স্বর্ণ, নগদ টাকা, মোবাইল ফোন সবই নিয়ে নেয় সে।
একটা সময় বিবস্ত্র বৃদ্ধা নিজের হাতেই রক্ত থামাতে মাথায় বাঁধেন কাপড়। সব হাতানোর পর কক্ষে তালা দেয় রেখা। তারপর খুলে আনে টিভি। নিয়ে আসে ব্যাগ। সবকিছু গুছিয়ে ফাঁকা বাসায় আহত বৃদ্ধাকে ফেলে বেরিয়ে যায় সে। এ ঘটনায় গত ১৯ জানুয়ারি রাতে শাহজানপুর থানায় গৃহকর্মী রেখার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। পরে ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈল থেকে রেখাকে গ্রেফতার করে পুলিশ, আর তার স্বামী এরশাদকে রাজধানীর উত্তর বাসাবো এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।








