X
মঙ্গলবার, ০৫ জুলাই ২০২২
২১ আষাঢ় ১৪২৯

রফতানির পোশাক পথেই চুরি: ৫ হাজার ঘটনায় জড়িত সাঈদ

আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৬:২৩

রফতানির জন্য তৈরি পোশাক বন্দরে যাওয়ার পথে কৌশলে সরিয়ে ফেলে একটি চক্র। পরে সেসব চোরাই পণ্য তারা বিক্রি করে দেয় ছোট বায়িং হাউজ কিংবা বিভিন্ন স্থানীয় বাজারে। আর এ অবস্থায় পণ্যের চালান বিদেশে পৌঁছানোর পর ‘বায়ারদের’ কাছে আস্থা হারাচ্ছে বাংলাদেশের পোশাক খাত। একটি-দুটি নয়, এই চক্রটি বিভিন্ন সময়ে প্রায় ৫ হাজারেরও বেশি ট্রাক বা কাভার্ডভ্যান থেকে কয়েক হাজার কোটি টাকার পণ্য চুরি করেছে। চক্রটির হোতা সিলেটের এক ব্যক্তি, যার নাম মো. সাহেদ ওরফে সাঈদ; যিনি ‘সিলেটী সাঈদ’ নামেও পরিচিত।

পুলিশ বলছে, এসব চুরির পণ্য বিক্রি করে সাঈদ বাড়ি-গাড়িসহ অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। এমনকি স্ত্রী-সন্তানদের লন্ডনে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। চুরির ঘটনায় তার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় এখন পর্যন্ত ২৪টি মামলার তথ্য পেয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।

আজ সোমবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ডিএমপি’র মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিএমপি’র অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) এ কে এম হাফিজ আক্তার। তিনি জানান, গত ১৫ সেপ্টেম্বর নেটওয়ার্ক ক্লোথিং লিমিটেড নামক গার্মেন্ট প্রতিষ্ঠানের ১৭ হাজার ১৫২ পিস তৈরি পোশাক বিদেশে রফতানির উদ্দেশ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে নেওয়ার পথে চুরির ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় একটি মামলা হয়। 

ওই ঘটনায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে গার্মেন্ট পণ্য চুরি সংঘবদ্ধ চক্রের মূলহোতা ‘সিলেটী সাঈদ’সহ সাতজনকে গ্রেফতার করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা তেজগাঁও বিভাগের একটি টিম। গত ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর রাত পর্যন্ত রাজধানীর উত্তরা এবং কুমিল্লা জেলার বুড়িচং থানা এলাকায় ধারাবাহিক অভিযানে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার অন্যরা হলেন- রাজ্জাক, ইউসুফ, মাইনুল, আলামিন, দুলাল হোসেন ও খায়রুল। এ সময় তাদের হেফাজত হতে ৪ হাজার ৭০৫ পিস গার্মেন্টস তৈরি পোশাকসহ দুটি কাভার্ড ভ্যান জব্দ করা হয়।

রফতানির পোশাক পথেই চুরি: ৫ হাজার ঘটনায় জড়িত সাঈদ

অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) এ কে এম হাফিজ আক্তার বলেন, দীর্ঘদিন যাবৎ পরিবহনে যুক্ত ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান, এজেন্সি, চালক ও শ্রমিকদের যোগসাজশে গার্মেন্টস পণ্য চুরি করছে সংঘবদ্ধ চোরাই চক্র। 

এই চোর চক্রের জন্য বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের সুনাম নষ্ট হচ্ছে বলেও জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা। তিনি ঘটনার বিবরণ দিয়ে বলেন, গত ১১ মে জয়ন্তি নিট ওয়্যার লি. তৈরি পোশাক রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান ২৮ হাজার ৮২০ পিস পণ্য শিপমেন্ট করতে চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশ্যে পাঠায়। বিদেশে মালামাল পৌছার পর জানা যায়, ওই শিপমেন্টে ১১ হাজার পণ্য কম। এজন্য বিদেশি বায়ার প্রতিষ্ঠানটিকে ২৮ হাজার ৯০৮ ডলার জরিমানা করে। এতে আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের সুনাম ক্ষুণ্ন হয়।

ওই ঘটনায় গত ১৭ সেপ্টেম্বর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন গার্মেন্টস কর্তৃপক্ষ। এ পরিপ্রেক্ষিতে ইমরান মোবারক ও ইব্রাহিম নামে তিনজনকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ। তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছে।

অন্যদিকে গত ১৫ সেপ্টেম্বর নেটওয়ার্ক ক্লোথিং লিমিটেড নামক গার্মেন্টসের তৈরি পোশাক ১ হাজার ৪৩১ কার্টনে মোট ১৭ হাজার ১৫২ পিস বিদেশে রফতানির উদ্দেশ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে নিয়ে যায়। মালামাল শিপমেন্টের সময় গণনাকালে ৫ হাজার পিস মাল কম পাওয়া যায়। ওই ঘটনায় তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় একটি মামলা রুজু হয়।

তেজগাঁও জোনাল টিম তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে ঢাকা মহানগরীর উত্তরা এলাকা চোরাই গার্মেন্ট মালামাল ও একটি কাভার্ড ভ্যানসহ রাজ্জাক, ইউসুফ, খায়রুল ও মাইনুলকে গ্রেফতার করে।

রফতানির পোশাক পথেই চুরি: ৫ হাজার ঘটনায় জড়িত সাঈদ

গ্রেফতারদের দেওয়া তথ্যমতে, কুমিল্লা জেলার বুড়িচং থানার নিমসার এলাকা হতে চোরাই গার্মেন্ট মালামাল ও একটি কাভার্ড ভ্যানসহ আল-আমিন ও দুলালকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারদের জিজ্ঞাসাবাদে এবং তাদের দেওয়া তথ্যমতে পুরো চক্রের মূল হোতা মো. সাহেদকে গ্রেফতার করা হয়।

পাঁচ হাজার চুরির সাথে জড়িত সিলেটি সাঈদ
গ্রেফতার সিলেটি সাঈদের বিরুদ্ধে ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন থানায় ২৪টি মামলা রয়েছে। চট্টগ্রামে তিনি ছয়টি মামলায় দীর্ঘদিন কারাভোগ করেছেন। চোরচক্রের অন্যান্য সহযোগীদের সহায়তায় তিনি বিভিন্ন সময় ৪ থেকে ৫ হাজার চুরির ঘটনায় হাতিয়ে নিয়েছেন কয়েক হাজার কোটি টাকার পণ্য।

হাফিজ আক্তার বলেন, সাঈদের এক স্ত্রী সন্তানসহ লন্ডনে সেটেল। তার মালিকানাধীন বিশাল অট্টালিকা রয়েছে মৌলভীবাজারে। তার রয়েছে প্রায় ৫ শতাধিক ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও পিকআপ। এসব যানবাহন তিনি ভাড়ায় ব্যবহার করতেন গার্মেন্টস পণ্য শিপমেন্টের কাজে। তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ গার্মেন্টস পণ্য পরিবহনে যুক্ত তার ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান  ব্যবহারে ও এজেন্সি, চালক ও শ্রমিকদের সহায়তায় সংঘবদ্ধ চোরাই চক্র নিয়ন্ত্রণ করতেন।

কোনও কোনও সময় পণ্য চুরির পর সেগুলো ছাড়ানোর জন্য ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা আদায় করা হচ্ছে- এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ডিএমপি’র মুখপাত্র বলেন, আমাদের কাছে যদি এ ব্যাপারে কেউ অভিযোগ করে তাহলে আমরা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেবো।

চোরাই গার্মেন্টস পণ্য কোথায় বিক্রি হয় ও কারা ক্রয় করছে জানতে চাইলে হাফিজ আক্তার বলেন, আমরা প্রাথমিক তদন্তে বেশ কয়েকজনের নাম জেনেছি, তদন্তের স্বার্থে সেগুলো বলছি না। দেশের ছোট ছোট কিছু বায়িং হাউজে যাচ্ছে সেসব চোরাই গার্মেন্টস পণ্য। আর ওই সব ছোট বায়িং হাউজগুলো বিদেশি ‘ছোট ক্রেতা’দের কাছে বিক্রি করে দেয়। এছাড়া দেশের বিভিন্ন মার্কেটেও যাচ্ছে সেসব চোরাই গার্মেন্টস পণ্য।

এত মামলা নিয়ে কীভাবে সিলেটী সাঈদ চোরাই চক্র নিয়ন্ত্রণ করে আসছিলেন জানতে চাইলে এই গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, তিনি বেশ ক’বার গ্রেফতার হয়েছেন। সর্বশেষ একটি মামলায় তিনি আট মাস কারাভোগ করেন। তবে বেরিয়েই ফের জড়িয়ে পড়েন গার্মেন্টস পণ্য চোরাই কারবারে।

/এআরআর/ইউএস/
বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
রিজেন্টের সাহেদের জামিন আবেদন হাইকোর্টে খারিজ
রিজেন্টের সাহেদের জামিন আবেদন হাইকোর্টে খারিজ
‘ভাইয়া ৫ জায়গায় ভর্তি পরীক্ষা দিয়েছিল, আমিও দিয়েছি’
‘ভাইয়া ৫ জায়গায় ভর্তি পরীক্ষা দিয়েছিল, আমিও দিয়েছি’
হেনোলাক্স কোম্পানির মালিক ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা
গায়ে আগুন দিয়ে মৃত্যুহেনোলাক্স কোম্পানির মালিক ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা
আবার ব্যাংকক গেলেন রওশন
আবার ব্যাংকক গেলেন রওশন
এ বিভাগের সর্বশেষ
‘অভিযোগ ছাড়া মা-ছেলেকে ১৩ ঘণ্টা আটকে রাখা সংবিধানের লঙ্ঘন’
‘অভিযোগ ছাড়া মা-ছেলেকে ১৩ ঘণ্টা আটকে রাখা সংবিধানের লঙ্ঘন’
‘জীবিকার জন্য জীবন আর নয়’ 
‘জীবিকার জন্য জীবন আর নয়’ 
মধ্যরাতে সমঝোতা বৈঠক: নিউমার্কেট খোলার সিদ্ধান্ত
মধ্যরাতে সমঝোতা বৈঠক: নিউমার্কেট খোলার সিদ্ধান্ত
রানা প্লাজায় আহতদের ৫৬.৫ শতাংশের শারীরিক অবস্থার অবনতি: জরিপ   
রানা প্লাজায় আহতদের ৫৬.৫ শতাংশের শারীরিক অবস্থার অবনতি: জরিপ   
নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নে সরকারি কর্মচারী পরিষদের সাত দাবি
নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নে সরকারি কর্মচারী পরিষদের সাত দাবি