একবছর আগে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছিলেন। জামিনে বেরও হন। কিন্তু এরপর আবারও আন্তর্জাতিক পর্নোগ্রাফির সঙ্গে যুক্ত হন তিনি। এবারও পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছে। তবে গ্রেফতারের আগে পুলিশ জানতই না এই ব্যক্তি সেই বোরহান। গত বছরের ১৫ অক্টোবর মার্কিন এক কিশোরের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বোরহানকে তার দুই সহযোগীসহ গ্রেফতার করেছিল ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি)।
বুধবার (৩ নভেম্বর) সন্ধ্যায় সিটি-সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ডিভিশনের ই-ফ্রড টিমের সহকারী পুলিশ কমিশনার সুরঞ্জনা সাহা পুনরায় তাকে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, ‘বোরহান বিভিন্ন পর্নোগ্রাফি সাইটের এডমিন। আবার কোনওটিতে তিনি যুক্ত। ইনস্টাগ্রামে অসংখ্য ফেক আইডি খুলে তিনি এই অপরাধ কর্মকাণ্ড চালিয়েছেন। আমরা অসংখ্য আইডির মধ্য থেকে তাকে শনাক্ত করে মঙ্গলবার (২ নভেম্বর) বিকাল ৪টায় রাজধানীর শাহজাহানপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করি।
অভিযুক্ত বোরহান ইনস্টাগ্রামে ফেক আইডি খুলে আন্তর্জাতিক চাইল্ড পর্নোগ্রাফি গ্রুপে যুক্ত হয়ে দেশি/বিদেশি নারী ও শিশুদের ব্ল্যাকমেইল করাতো বলেও জানান সুরঞ্জনা সাহা।
তিনি বলেন, বিভিন্ন অনলাইন রুটিন মনিটরিং করার সময় ১ নভেম্বর বেলা ২টায় ইনস্টাগ্রামের একটি আইডি থেকে আন্তর্জাতিক চাইল্ড পর্নোগ্রাফি গ্রুপে যুক্ত হওয়া একজনের সন্ধান পাওয়া যায়। ওই ইনস্টাগ্রাম আইডিটি পর্যালোচনা করে দেখা যায় আইডিটি ফেক। ওই ফেক ইনস্টাগ্রাম আইডি ব্যবহারকারী নিজের পরিচয় গোপন করে আন্তর্জাতিক চাইল্ড পর্নোগ্রাফি গ্রুপে যুক্ত হয়ে দেশি/বিদেশি নারী ও শিশুদের ব্ল্যাকমেইলসহ হুমকি দেয়। হাজার হাজার আইডির ভেতর থেকে খুঁজে বের করে তার অবস্থান শনাক্ত করে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এসময় তার কাছ থেকে মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। ওই ফোনটিতে বিতর্কিত ইনস্টাগ্রাম আইডিটি সচল ছিল।
রমনা মডেল থানায় তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। বর্তমানে সে দুদিনের রিমান্ডে রয়েছে।
প্রথমবার গ্রেফতার হন মার্কিন কিশোরীর তথ্যে
গত বছরের বছরের ২ ফেব্রুয়ারি মার্কিন এক কিশোরী ফেসবুকের মাধ্যমে ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমের কাছে কাছে একটি অভিযোগ করে। অভিযোগে ওই কিশোরী জানায়, এক যুবক তার নগ্ন ছবি নিয়ে ব্ল্যাকমেইল করছে। কিশোরী সাইবার ক্রাইম বিভাগকে একটি আইপি নম্বর দেয়। সাইবার ক্রাইম বিভাগের কর্মকর্তারা ওই আইপি নম্বরের সূত্র ধরে অনুসন্ধান শুরু করে। ওই বছরের ১৫ অক্টোবর গ্রেফতার করা হয় বোরহান উদ্দিন ও তার দুই সহযোগী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ ও অভি হোসেনকে। সহযোগী দুজন তারা চাচাতো ভাই। ওই বছরের ১৮ অক্টোবর তারা ৩ জনই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। বর্তমানে ওই মামলার বিচার চলছে। তবে তারা জামিন পেয়ে পুনরায় একই অপরাধে যুক্ত হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে বোরহান একটি প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি থেকে ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেছে। বাকি দুজন অপর দুটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ’র শিক্ষার্থী ছিল।
যেভাবে চাইল্ড পর্নোগ্রাফির বাণিজ্য করতেন বোরহান
মূলত ইনস্টগ্রামকে হাতিয়ার হিসেবে বেছে নেন বোরহান। একাধিক ফেক আইডি খুলে নারী ও শিশুদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তোলেন। এরপর তাদের কাছ থেকে ন্যুড ছবি সংগ্রহ করেন। সেগুলো বিভিন্ন পর্নোগ্রাফি সাইটে আপ করতেন। তার মোবাইল থেকে একাধিক নারী, শিশুদের নগ্ন ছবি উদ্ধার করা হয়েছে।
জিজ্ঞাসাবাদে বোরহান জানিয়েছেন, তিনি মূলত ইনস্টাগ্রামভিত্তিক বিভিন্ন চাইল্ড পর্নোগ্রাফি গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত । ইনস্টাগ্রামে চাইল্ড পর্ন গ্রুপগুলোকে ‘শাটআউট’ নামে পরিচিত। এসব একাধিক গ্রুপের এডমিন বোরহান।
এসি সুরঞ্জনা সাহা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা এখনও তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছি। আমাদের ধারণা এর সঙ্গে আরও বড় চক্র জড়িত থাকতে পারে। আমরা বোরহানের রিমান্ড শেষে এবিষয়ে বিস্তারিত বলতে পারবো।’








